16/10/2021
#পুনর_আগমনায়_চ
গিরিরানী : একটু বস মা, চুলটা একটু আঁচড়ে দিই ।
গিরিসুতা : মা আর সময় নেই ওদিকে উনি তাড়া দিচ্ছেন !
গিরিরানী : ও মা! জামাইবাবাজীবনকে একদিন থেকে
যেতে বলনা ! কতদিন জামাইয়ের আপ্যায়ন করা
হয়না ।
গিরিসুতা : মা জানোনা তোমার জামাই বৈরাগী তার এতো
ঐশ্বর্য পছন্দ নয়, তার শ্মশান প্রিয় । যেইখানে
কেউ সচরাচর যান না সেইখানেই তিনি থাকেন ।
গিরিরানী : ও উমা তুই জামাই কে শ্মশানে যেতে দিস কেন?
গিরিসুতা : আমি কি করে বাঁধা দেবো মা , উনি তো সেখানে
তাঁর আরাধ্যের ধ্যান করতে যান ।
গিরিরানী : কেনো বাড়িতে বসে ধ্যান করা যায় না?
গিরিসুতা : উনি অতিরিক্ত ব্যক্তির উপস্থিতি পছন্দ করেন
না , যখন তিনি ধ্যানে বসেন ।
গিরিরানী : ও !! তা একটু বস মা, কিছু রেঁধে দিই ,মুখে কিছু
অন্তত দিয়ে যা ।
গিরিসুতা : মা রাঁধার মতো আর সময় নেই, যেতে হবে ।
গিরিরানী : কিচ্ছু মুখে দিবি না ?
গিরিসুতা : হেঁসেলে দেখলাম কালকের অন্নপ্রসাদ কিছুটা
আছে , তুমি ওটাই আমাকে দাও ।
গিরিরানী : শেষ পর্যন্ত পান্তা খাবি !!
গিরিসুতা : প্রসাদের আবার পান্তা কি মা !! প্রসাদ সবসময়
পবিত্র , এরকম আর কখনও বলো না তোমার
জামাইয়ের সামনে উনি রাগ করবেন ।
গিরিরানী : ঠিকাছে , এনে । আমি খাইয়ে দেবো ?
গিরিসুতা : দাও ! আবার তো একবছর পর আসবো , শেষ
বেলায় একটু খাইয়ে দাও ।
গিরিরানীর চোখ জলে ভরে উঠলো , তাও হাঁসি মুখে মেয়েকে খাইয়ে দিলেন , সিঁদুর আলতা পরিয়ে সাজিয়ে দিলেন ।
গিরিসুতা : আসছি মা ! সাবধানে থেকো ।
গিরিরানী : আয় মা ! সাবধানে যাস , নাতিদের যত্নে রাখিস,
নিজের খেয়াল রাখিস৷ আর পরের বছর একটু
তাড়াতাড়ি আসিস এই হিমালয়ে,তোকে ছাড়া
এই প্রাসাদ বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগে রে মা !!!
গিরিসুতা : ঠিকাছে মা , আসছি !!!!!! বাবাকে দেখে রেখো ।
গিরিরানী : দুগ্গা!!!! দুগ্গা!!!!
এইভাবেই প্রতিটা বাঙালির কাছে জগতজননী তাদের ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠেন । আজ বিদায়ের ক্ষণ উপস্থিত। উমা কৈলাসে ফিরবেন , তাই প্রতিটা বাঙালির মন মেনকার মতই ভারাক্রান্ত হয়ে আছে তাও তারা হাঁসি মুখে মেয়েকে বিদায় জানাবেন !!!!
"আবার আসিস মা......."