12/05/2025
ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ summary
২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসী হামলার কারণে শুরু হয়ে, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সামরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। নীচে সংঘাতের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হল, যার মধ্যে রয়েছে এর উৎপত্তি, মূল ঘটনা, সামরিক পদক্ষেপ, কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং পরিণতি, উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে।
# # # **পটভূমি এবং উৎপত্তি**
সংঘাতের মূল কারণ ছিল দীর্ঘদিনের কাশ্মীর বিরোধ, যা ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের বিভাজনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কারণ হয়ে আসছে। তাৎক্ষণিক কারণ ছিল **পাহালগাম হামলা**, যা **২২ এপ্রিল, ২০২৫** তারিখে ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার বাইসারান উপত্যকায় সংঘটিত হয়। সন্ত্রাসীরা **২৬–২৮ জন বেসামরিক নাগরিককে** হত্যা করে, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন হিন্দু পর্যটক, এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ধর্মীয় পরিচয় জিজ্ঞাসা করে অমুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। **দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)**, যিনি পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি)-এর একটি শাখা বলে মনে করা হয়, প্রাথমিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করে, কাশ্মীরে অ-স্থানীয় বসতি স্থাপনের ভারতীয় নীতির বিরোধিতা করার কথা উল্লেখ করে। তবে, পরে টিআরএফ তাদের বিবৃতি হ্যাক হয়েছে বলে দাবি করে দায় অস্বীকার করে।
ভারত পাকিস্তানকে হামলার পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করে, যা পাকিস্তান অস্বীকার করে এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানায়, যা ভারত প্রত্যাখ্যান করে। এই হামলা, ২০০০ সালের পর এই অঞ্চলের সবচেয়ে মারাত্মক হামলাগুলির মধ্যে একটি, দ্রুত উত্তেজনা বৃদ্ধি করে, যার ফলে সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
---
# # # **কূটনৈতিক সংকট (২৩–২৪ এপ্রিল, ২০২৫)**
**২৩ এপ্রিল, ২০২৫** তারিখে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব **বিক্রম মিশ্রী** মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির (সিসিএস) বৈঠকের পর কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করেন:
- **ইন্দুস জল চুক্তির স্থগিতাদেশ**: পাকিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগে ভারত এই চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পাকিস্তান এটিকে “যুদ্ধের কাজ” বলে অভিহিত করে, জল সম্পদে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেয়।
- **সীমান্ত ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা**: ভারত আটারি–ওয়াঘা সীমান্ত চৌকি বন্ধ করে, সার্ক ভিসা ছাড় স্কিমের অধীনে পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে এবং পূর্বে জারি করা সমস্ত ভিসা বাতিল করে।
- **কূটনৈতিক বহিষ্কার**: নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করা হয়, এবং ইসলামাবাদ থেকে ভারতীয় প্রতিপক্ষদের প্রত্যাহার করা হয়। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মী ৫৫ থেকে ৩০ জনে হ্রাস করা হয়।
- **বাণিজ্য ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা**: পাকিস্তান ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা স্থগিত করে, ভারতীয় বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে এবং ভারতের সাথে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়। আটারি–ওয়াঘা সীমান্ত অনুষ্ঠানে প্রতীকী হ্যান্ডশেক বাদ দেওয়া হয়।
পাকিস্তান **২৪ এপ্রিল, ২০২৫** তারিখে **শিমলা চুক্তি** স্থগিত করে, যা কূটনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করে। তবে, শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য কর্তারপুর করিডোর খোলা থাকে। **নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি)** বরাবর ২৪ এপ্রিল থেকে সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়, যা আরও উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ায়।
---
# # # **সামরিক উত্তেজনা: অপারেশন সিন্দুর (৭–১০ মে, ২০২৫)**
**৭ মে, ২০২৫** তারিখে, ভারত **অপারেশন সিন্দুর** শুরু করে, পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে (পিওকে) নয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই অপারেশন পাহালগাম হামলার প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া হিসেবে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। নীচে মূল সামরিক উন্নয়নগুলি দেওয়া হল:
# # # # **ভারতের অপারেশন সিন্দুর (৭ মে, ২০২৫)**
- **লক্ষ্যবস্তু**: ভারত দাবি করে যে হামলাগুলি পিওকে (মুজাফফরাবাদ, কোটলি, বাঘ, গুলপুর) এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে (আহমেদপুর শারকিয়া, মুরিদকে, শাকারগড়, সিয়ালকোট) **জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম)** এবং **লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি)**-এর শিবির ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেছিল। নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলির মধ্যে ছিল:
- **গুলপুর সন্ত্রাসী শিবির** (কোটলি, পিওকে): এলইটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ভোর ১:০৮ মিনিটে ধ্বংস।
- **মেহমুনা জোয়া শিবির** (সিয়ালকোট, পাঞ্জাব): হিজবুল মুজাহিদিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভোর ১:১১ মিনিটে ধ্বংস।
- **কার্যকরণ**: ভারতীয় বিমান বাহিনী **রাফাল বিমান** ব্যবহার করে, যা **স্কাল্প ক্ষেপণাস্ত্র** এবং **এএএসএম হ্যামার গ্লাইড বোমা** দিয়ে সজ্জিত ছিল, ২৩ মিনিটে (ভোর ১:০৫–১:৩০ মিনিট) ১৪টি হামলা চালায়। ভারত দাবি করে যে কোনও পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়নি।
- **ভারতের দাবি**: হামলায় “১০০ জন সন্ত্রাসী” নিহত হয়, যার মধ্যে ২০০২ সালে সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্লের হত্যার সহষড়যন্ত্রকারীও ছিলেন বলে অভিযোগ। ভারত পাকিস্তানি জেট এবং ড্রোন আটকানোর কথা জানায়, যার ধ্বংসাবশেষ ভারতীয় সীমান্তের বাইরে পড়ে, এবং সমস্ত ভারতীয় পাইলট নিরাপদে ফিরে আসেন।
- **কর্নেল সোফিয়া কুরেশির ভূমিকা**: ৭ মে, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি, উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং-এর সাথে, অপারেশন সিন্দুর সম্পর্কে মিডিয়াকে ব্রিফ করেন, নির্ভুল হামলা এবং তিন বাহিনীর সমন্বয়ের উপর জোর দেন। তার অংশগ্রহণ ভারতের সামরিক নেতৃত্বে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে তুলে ধরে।
# # # # **পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া**
- **হতাহতের দাবি**: পাকিস্তান **৩১ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু**র কথা জানায়, যার মধ্যে একটি তিন বছরের শিশুকন্যা ছিল, এবং অস্বীকার করে যে সন্ত্রাসী শিবিরে হামলা হয়েছে, অভিযোগ করে যে ভারত বেসামরিক এলাকা, যেমন মসজিদ, লক্ষ্য করেছে। পাকিস্তানি মিডিয়া দাবি করে যে নানকানা সাহিবের **গুরুদ্বার জনম অস্থান**-এ হামলা হয়েছে, যা ভারত অস্বীকার করে।
- **প্রতিশোধমূলক হামলা**: পাকিস্তান ৮–৯ মে জম্মু, কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবে ভারতীয় সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, **৩০০–৪০০ তুর্কি-নির্মিত ড্রোন** ৩৬টি স্থানে ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা নেয়, যার কিছু নিষ্ক্রিয় করা হয়। পাকিস্তান প্রথমে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের কথা অস্বীকার করে, কিন্তু পরে ১০ মে **অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস** নিশ্চিত করে, যা ভারতীয় ঘাঁটি, যার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ স্থান, লক্ষ্য করেছিল।
- **সীমান্ত সংঘর্ষ**: কুপওয়ারা, পুঞ্চ, উড়ি এবং সাম্বায় এলওসি বরাবর ভারী কামান গোলাগুলি এবং গোলাবর্ষণে উভয় পক্ষের বেসামরিক ও নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়। পাকিস্তান পিওকে-তে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর কথা জানায়, যার মধ্যে একটি শিশু ছিল। ভারত কাশ্মীরে পাকিস্তানি গোলাগুলির কারণে তিনজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর কথা জানায়।
# # # # **উত্তেজনা এবং প্রভাব**
- **আকাশসীমা বন্ধ**: ভারত ১০ মে পর্যন্ত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে **২৭টি বিমানবন্দর** বন্ধ করে, যার ফলে ৪৩০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। পাকিস্তান ৪৮ ঘণ্টার জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে, করাচি, লাহোর এবং সিয়ালকোট থেকে ফ্লাইট বাতিল করে। লুফথানসা এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মতো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করে, যা বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়।
- **বেসামরিক প্রভাব**: মুজাফফরাবাদ (পিওকে) এবং জম্মুতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা রিপোর্ট করা হয়। পাকিস্তানের পাঞ্জাবে স্কুল ও কলেজ বন্ধ করা হয়, এবং পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ভারতে, শ্রীনগর বিমানবন্দর ভারতীয় বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়, যার ফলে বেসামরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়।
- **অবস্থান ত্যাগ**: কাশ্মীরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অবস্থান ত্যাগের নির্দেশ দেয়, খাদ্য ও আশ্রয় প্রদান করে। এলওসি বরাবর পাকিস্তানি বাসিন্দারা, যেমন চাকোথির মুখতার কুরেশি, ভারী গোলাগুলির কারণে বসবাসের অযোগ্য অবস্থার কথা জানান।
- **হতাহত**: সম্মিলিত অনুমানে উভয় পক্ষে **৪৮–৬৬ জনের মৃত্যু** (বেসামরিক ও সামরিক) হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও সংখ্যা যাচাই করা যায়নি। ভারত ৭ মে এলওসি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সময় **ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার**এর মৃত্যুর কথা জানায়।
# # # # **ড্রোন যুদ্ধ**
এই সংঘাত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে **প্রথম ড্রোন যুদ্ধ** হিসেবে চিহ্নিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষ ইউক্রেনে ব্যবহৃত কামিকাজে ড্রোন মোতায়েন করে। ভারত ইসরায়েলি-ভারতীয় ড্রোন ব্যবহার করে, যখন পাকিস্তান ৭৭টি ভারতীয় ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার দাবি করে। এটি সংঘাতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করে, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করে।
---
# # # **যুদ্ধবিরতি এবং উত্তেজনা হ্রাস (১০–১১ মে, ২০২৫)**
**১০ মে, ২০২৫** তারিখে, বিকেল ৫:০০ টায় (ভারতীয় সময়) (৪:৩০ টায় পাকিস্তান সময়), **যুদ্ধবিরতি** ঘোষণা করা হয়, যা দ্বিপাক্ষিকভাবে মধ্যস্থতাকারী ৩৬টি দেশ, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল, এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব **মার্কো রুবিও** এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট **জেডি ভ্যান্স** ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী **নরেন্দ্র মোদী** এবং পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী **শেহবাজ শরিফ**এর সাথে আলোচনা করেন।
- **যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন**: চুক্তির কয়েক ঘণ্টা পরে, শ্রীনগর এবং জম্মুতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়, যার জন্য ভারত পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে। পাকিস্তান ভারতকে দায়ী করে এবং সংযমের আহ্বান জানায়।
- **স্থিতিশীলতা**: ১১ মে নাগাদ, যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে, যদিও উভয় পক্ষ বাণিজ্য স্থগিতাদেশ এবং ভিসা নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বজায় রাখে। হাজার হাজার কাশ্মীরি বাস্তুচ্যুত থাকে, এবং সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা সতর্ক আশা প্রকাশ করে।
- **আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া**:
- **জাতিসংঘ**: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানান।
- **মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র**: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুবিও আলোচনার জন্য চাপ দেন, মার্কিন সহায়তার প্রস্তাব দেন।
- **চীন এবং রাশিয়া**: উভয়েই সংযমের আহ্বান জানায়, চীন পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক এবং ভারতের সাথে উন্নত সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখে।
- **যুক্তরাজ্য**: পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামি উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানান।
- **পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব**: অভিনেতা আন্দান সিকুদ্দি এবং গোলাম মোহিউদ্দিন শান্তি আলোচনার আহ্বান জানান।
---
# # # **আইনি এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট**
- **ভারতের ন্যায্যতা**: ভারত জাতিসংঘ সনদের **অনুচ্ছেদ ৫১** উল্লেখ করে, পাকিস্তান সমর্থিত অ-রাষ্ট্রীয় অভিনেতাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার দাবি করে। আইনজ্ঞ প্রভাষ রঞ্জন যুক্তি দেন যে হামলাগুলি প্রয়োজনীয়তা এবং সমানুপাতিকতার নীতি পূরণ করেছে, যদিও ভারত আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট উল্লেখ এড়িয়ে যায়।
- **পাকিস্তানের অস্বীকৃতি**: পাকিস্তান ভারতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে, জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এটিকে “চমৎকার এবং সুসজ্জিত গল্প” বলে উল্লেখ করে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য। পাকিস্তান পাহালগাম হামলার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানায়।
- **অভ্যন্তরীণ প্রভাব**:
- **ভারত**: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এক সপ্তাহের জন্য ম্যাচ স্থগিত করে, এবং ধরমশালা থেকে একটি খেলা আহমেদাবাদে স্থানান্তরিত হয়। দিল্লিতে জনমত মিশ্র ছিল, কিছু অর্থনৈতিক ও বেসামরিক উদ্বেগের কারণে হামলার বিরোধিতা করে।
- **পাকিস্তান**: পাকিস্তান সুপার লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। ভারতে পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদ খানের একটি চলচ্চিত্র মুক্তি ব্যাহত হয়।
- **মিডিয়া পরিবেশ**: উভয় দেশ একে অপরের সংবাদ উৎসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। ভারত জাতীয় নিরাপত্তার কারণে ৮,০০০ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, বিদেশি সংবাদ চ্যানেল সহ, এবং ছয়টি বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলের ইউটিউব অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে। পাকিস্তান অনেক আগে থেকেই ভারতীয় সংবাদ সাইট নিষিদ্ধ করেছিল।
---
# # # **পরিণতি এবং তাৎপর্য**
- **মানবিক ক্ষতি**: সংঘাতে **৪৮–৬৬ জনের মৃত্যু** হয়, হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং বেসামরিক জীবন বিঘ্নিত হয়। উভয় পক্ষ বিজয় দাবি করে, ভারত সন্ত্রাসী হুমকি নিরপেক্ষ করার দাবি করে এবং পাকিস্তান তাদের স্থিতিস্থাপকতার উপর জোর দেয়।
- **পারমাণবিক উদ্বেগ**: সংঘাত পারমাণবিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করে, পাকিস্তানের জাতীয় কমান্ড অথরিটি পারমাণবিক নীতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করে, যদিও এমন কোনও বৈঠক হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের সংঘাতের সময়ের অনুরূপ উদ্বেগের কথা স্মরণ করে।
- **আঞ্চলিক গতিশীলতা**: সংঘাত মিত্র সম্পর্কের পরিবর্তনকে তুলে ধরে, ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক জোরদার করে, যখন পাকিস্তান চীনের উপর নির্ভর করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চীনের প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্য রাখে।
- **কাশ্মীরের দুর্দশা**: সংঘাত কাশ্মীরের চলমান সামরিকীকরণ এবং দুর্ভোগকে তুলে ধরে, যেখানে বেসামরিক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে সহিংসতার শিকার হয়।
- **সামরিক বাহিনীতে নারীদের ভূমিকা**: অপারেশন সিন্দুরের ব্রিফিংয়ে কর্নেল সোফিয়া কুরেশির বিশিষ্ট ভূমিকা ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে, যা জাতীয় গর্বের বিষয়।
---
# # # **সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ**
ভারতের হামলাগুলি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নির্ভুল প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, পাকিস্তানের বেসামরিক হতাহতের দাবি এবং সন্ত্রাসী জড়িত থাকার অস্বীকৃতি একটি তথ্য-বিভ্রান্তির পরিবেশে লক্ষ্যবস্তু যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে। পারস্পরিক অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে দ্রুত উত্তেজনা বৃদ্ধি, বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় এবং জাতীয়তাবাদী আখ্যান কীভাবে উভয় পক্ষে চরমপন্থাকে উসকে দেয় তা প্রতিফলিত করে। যুদ্ধবিরতি, যদিও স্থিতিশীল, মূল সমস্যাগুলি অমীমাংসিত রেখে দেয়, যা কাশ্মীর নিয়ে ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকি নির্দেশ করে।