22/06/2025
#ঋদয়নের_নামে
#চিঠি১
"রাত্রির শরীরে রয়ে যাওয়া জ্বর"
ঋদি,
আজ রাতটাও জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।
সারাদিনের গ্লানির পর, যখন একটুখানি শান্তির অপেক্ষায় জানালার পাশে দাঁড়াই—
তখনই টের পাই, নক্ষত্রেরা আর চোখ টিপে হাসে না,
তারা এখন শুধুই ফোঁড়ার মত জ্বালা দেয় অন্ধকারে।
তোমায় কীভাবে বোঝাই ঋদয়ন,
ঘুমের আগে আমি জলপাই রঙের স্বপ্নে তোমাকে বুনে ফেলি প্রতিদিন,
যেন কোন পুরোনো বাউল দিনের শেষে তার পেটমোটা একতারা জড়িয়ে ধরে ঘুমোয়—
যার প্রতিটি তারে গাঁথা থাকে পরিণতির অপূর্ণতা।
আমার দিন কেটে যায় বালির দেশে হাঁটতে হাঁটতে,
যেখানে প্রত্যেকটা পায়ের ছাপ এক একটা প্রশ্ন—
তুমি কোথায়? কীভাবে পারলে এভাবে এগিয়ে যেতে,
পিছনে রেখে গন্ধ, ঘাম, কফির কাপে জমে থাকা আধখানা বিকেল?
তুমি তো চলে যাচ্ছ, আমি জানি।
তবু আমি হাঁটছি সেই পিছুটান ঘিরে তৈরি কুয়াশার গলিপথে,
যেখানে প্রেম কোনো রূপকথা নয়, এক বিষাক্ত অভ্যাস মাত্র—
অসুখের মতন লেগে থাকা, মরে গিয়েও শরীরে গন্ধ ফেলে রাখা।
তুমি কি জানো, কোনো কোনো ভালোবাসা কবিতার মতো হয়—
বলা হয়ে যায়, পড়াও হয়ে যায়,
কিন্তু থেকে যায় কিছু অপঠিত স্তবক,
যা শুধু হাওয়ায় ভেসে গায়—
যেন সুর হারানো বৃষ্টিভেজা এস্রাজ,
যার রাগ লেগে আছে কানে কিন্তু এখন ছুঁতে গেলে বাজে না।
তুমি যখন খুঁজে পেলে এক অন্য আশ্রয়,
আমার অন্তর তখন নিজেই হয়ে উঠলো এক নির্জন চৌকাঠ,
যেখানে বসে থাকে রাত্রির শরীরে রয়ে যাওয়া জ্বর—
না ঘুমোতে পারা, না জেগে থাকা এক অন্তহীন সংলাপের মতো।
আমি জানি, আমার কাছে তুমি আর নেই।
তবু,
আকাশ যখন আলতা রঙ ছড়িয়ে সূর্যকে স্নান করায়
আমি তখনও তাকাই—
এই ভেবে, হয়তো কোনোদিন, তুমি সেই আলোয় পিছন ফিরে তাকাবে
আর আমি… আমি তখনও থাকব
একটা অপেক্ষার নাম ধরে।
ইতি,
একটি নামহীন ঠিকানা
যার হৃদয়ে তুমি আজও “আলতো শোক” হয়ে আছো।
#মন