11/09/2018
একদিনে ঘুরে আসি কামারপুকুর ও জয়রামবাটি
কামারপুকুর - পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার আরামবাগ সাবডিভিশনের গোঘাট ব্লকের অন্তর্ভুক্ত একটি ছোট শহর। শ্রীশ্রী পরমহংস রামকৃষ্ণদেবের জন্মস্থান হিসাবে বিশ্বখ্যাত। কামারপুকুরে মূল দেখার আছে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ - 1951সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মূল মন্দিরটি 45ft উঁচু এবং এর ভিতর রামকৃষ্ণদেবের প্রস্তর মূর্তি স্থাপিত আছে। এই মন্দিরটির নকশা করেছিলেন শ্রী নন্দলাল বসু মহাশয়।এই মঠের ভিতরে আছে রামকৃষ্ণদেবের জন্মঘর(আদতে গোশালা ও খড় কাটার ঘর)। আর আছে রামকৃষ্ণদেবের নিজের হাতে লাগান একটি বিশালাকায় আম গাছ এবং একটি ঘর যেখানে রামকৃষ্ণদেব লোকেদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। এছাড়াও এখানে একটি দুর্গা মন্দির ও যোগী শিব মন্দির আছে। মঠের চৌহিদ্দির বাইরে আছে হালদার পুকুর, লাহাদের বিষ্ণু মন্দির, লাহাদের দূর্গা মন্দির, চিনু (শ্রীনিবাস) শাঁখারিয়ার বাড়ি, গোপেশ্বর শিব মন্দির, রামকৃষ্ণদেবের ধাত্রী-মাতা কামরানীর বাড়ি, রামকৃষ্ণ মিশন পল্লী মঙ্গল, লাহাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়, সীতানাথ পাইনের বাড়ি। অনতিদুরে (মঠের দক্ষিণ দিকে কামারপুকুর বাজার রোডে) প্রাচীন গঙ্গাধর শিব মন্দির ও মা অভয়ার মন্দির। মঠ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বামনিয়া-ইন্দাস রাস্তার ধারে মানিক রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ও গঙ্গাধর জোড়া শিব মন্দির (ভ্যানে যেতে হবে)। এই পথে যাওয়ার সময় মঠ থেকে আধ কিলোমটার পেরোলেই ডান হাতে পড়বে রামকৃষ্ণদেবের অতিপ্রিয় ধ্যানের স্থান ‘ভুতির খালের শ্মশান ও বিশাল বট গাছটি’। উপরোক্ত সমস্ত দর্শনীয় স্থানগুলি রামকৃষ্ণদেবের জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।
জয়রামবাটি - পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণপুর সাবডিভিশনের কোতলপুর থানার অন্তর্ভুক্ত একটি ছোট শহর। কামারপুকুর থেকে দূরত্ব প্রায় 5-km। এইখানেই জন্ম শ্রীশ্রী সারদা দেবীর। জয়রামবাটিতে দেখার মত আছে শ্রীশ্রীমায়ের জন্মস্থান ও রান্নাঘর, শ্রীশ্রীমাতৃ মন্দির।মিশনের ঘেরাটোপের বাইরে মায়ের দীঘি ও ঘাট্, ভানু পিসির বাড়ি, ধর্মরাজের মন্দির, তালপুকুর, সিংহবাহিনীর মন্দির। সমস্ত দর্শনীয় স্থানগুলি সারদামনির জীবনের সাথে জড়িত।
জয়রামবাটি থেকে কামারপুকুর ফেরার পথে দেখে নেওয়া যেতে পারে রামকৃষ্ণ-সারদা মঠ, নর-নারায়ন মন্দির, আদ্যাপীঠ মন্দির(অবশ্যই দেখা উচিত)।
কিভাবে ঘুরতে হবে ::
যেকোনো দিন সকাল 5.10এর 37361 আরামবাগ লোকাল ধরে হাওড়া থেকে আরামবাগ পৌছান যাবে সকাল 7.30টায়। মাথাপিছু ভাড়া 25.00টাকা। সময় লাগবে আড়াই ঘন্টা। পথে পড়বে উত্তড়পাড়া, শ্রীরামপুর, শেওড়াফুলি, সিঙ্গুর, তারকেশ্বর, ইত্যাদি। আরামবাগ ষ্টেশন থেকে শেয়ার মারুতি বা টাটাসুমোতে পৌছাতে হবে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ। মাথাপিছু ভাড়া 50.00টাকা। দূরত্ব 16-km, সময় লাগবে প্রায় 45মিনিট। এবার মঠের ভিতরের সমস্ত দর্শনীয় স্থান দেখে 9.30নাগাদ কাউন্টারে নিজের ইচ্ছেমত দান করে দুপুরের ভোগ-প্রসাদের কুপন নিয়ে নিতে হবে ও ইঞ্জিন-ভ্যান (সহজলভ্য) করে জয়রামবাটি চলে যেতে হবে। ভাড়া মাথাপিছু 25.00টাকা, দুরত্ব 7-km, সময় লাগবে প্রায় আধ ঘন্টা। 11.30টায় জয়রামবাটির মিশনের ঘেরাটোপ থেকে বেড়িয়ে মায়ের দীঘি ও ঘাট্, ভানু পিসির বাড়ি, ধর্মরাজের মন্দির, তালপুকুর, সিংহবাহিনীর মন্দির দেখে নিতে হবে। এবার কামারপুকুর ফেরার পথে দেখে নেওয়া যেতে পারে নর-নারায়ন মন্দির, আদ্যাপীঠ মন্দির। তারপর 2টো নাগাদ কুপন দেখিয়ে কামারপুকুর মঠের প্রসাদ বিতরন স্থলে ঢোকা যাবে। প্রসাদ গ্রহন করে কামারপুকুরের বাকি দর্শনীয় স্থান দেখে নিতে হবে। এইভাবে ঘোরার কারণ দুপুর11.30 থেকে বিকাল3.30 পর্যন্ত দুই জায়গাতেই মঠের ঘেরাটোপের ভিতর প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু কুপন থাকলে খাওয়ার জায়গায় ঢোকা যাবে, নচেৎ নয়। এরপর সন্ধ্যা 6.00টায় কামারপুকুর মোড় (বামনিয়া-ইন্দাস রাস্তা ও বাদানগঞ্জ-কামারপুকুর রাস্তার ক্রসিং) থেকে মারুতি বা টাটাসুমোতে পৌছাতে হবে গোঘাট ষ্টেশন, দূরত্ব 7-km, সময় লাগবে 15মিনিট । সন্ধ্যা7.05র 37368 গোঘাট-হাওড়া লোকাল ধরে রাত 9.25এ হাওড়া।