Surya Pati Raghava Dash

Surya Pati Raghava Dash Hare Krishna I am an eternal servant of Lord, Sri Krishna and His associates. But somehow or other, I

Package-01অন্তে নারায়ণস্মৃতিঃ (Beyond Bo***ge)দিব্য দর্শন (Spiritual Awakening Part-01)জীব জাগো (Spiritual Awakening Par...
29/03/2024

Package-01
অন্তে নারায়ণস্মৃতিঃ (Beyond Bo***ge)
দিব্য দর্শন (Spiritual Awakening Part-01)
জীব জাগো (Spiritual Awakening Part-02)
গৌরাঙ্গ (Gauranga)
হৃদয়স্পর্শী (Touching Your Heart)
আনন্দের সীমা নেই (On the Path of Limitless Joy)
কলির দুঃস্বপ্ন (Kalir Duhsvapna)
আনন্দদায়ীনি ভক্তি (Bhakti for Bliss)
শ্রীকৃষ্ণের ধামে অভিমুখে (Toward Krishna's Abode)
ভগবৎ সেবার রহস্য (Secret of Service)
মিলওয়াকি থেকে মায়াপুর (Milwaukee to Mayapur)
ভক্তি ভেক্সিন (Bhakti Vaccine)
প্রতি নগরাদি গ্রামে (Every Town & Village)

13 books
1300 bdt (1700 bdt)

Gift: গুরুমহারাজের মহাপ্রসাদ কাপড়,
শ্রীগুরু প্রসঙ্গ ৬.১ (SGP 6.1)
শ্রীগুরু প্রসঙ্গ ৬.২ (SGP 6.2)

Package-02
মিলওয়াকি থেকে মায়াপুর (Milwaukee to Mayapur)
দিব্য দর্শন (Spiritual Awakening_Part-01)
জীব জাগো (Spiritual Awakening Part-02)
হৃদয়স্পর্শী (Touching Your Heart)
গৌরাঙ্গ (Gauranga)
শ্রীকৃষ্ণের ধামে অভিমুখে (Toward Krishna's Abode)
আনন্দের সীমা নেই (On the Path of Limitless Joy)

7 books
600 bdt (800 bdt)
Gift: Gurudev Picture (Lamination),
শ্রীগুরু প্রসঙ্গ ৬.২ (SGP 6.2)

Package-03
মিলওয়াকি থেকে মায়াপুর (Milwaukee to Mayapur)
স্মরণামৃত-০৩ (Srila Prabhupad Memories)
দামোদর

3 books
400 bdt (600 bdt)
Gift: Gurudev Picture (Lamination)
শ্রীগুরু প্রসঙ্গ ৬.২ (SGP 6.2)

যোগাযোগ করুন
- 01630818320
Inbox me

07/09/2023
পবিত্রারোপিণী একাদশীর মাহাত্ম্য একদিন মহারাজ যুধিষ্ঠির ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণের কাছে শ্ৰাবণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম জানতে...
27/08/2023

পবিত্রারোপিণী একাদশীর মাহাত্ম্য

একদিন মহারাজ যুধিষ্ঠির ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণের কাছে শ্ৰাবণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম জানতে চাইলেন। এই কথা শোনামাত্ৰেই বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।

প্ৰাচীন কালে দ্বাপর যুগের শুরুতে মহিজীৎ নামে এক বিখ্যাত রাজা ছিলেন। তিনি মাহেশ্মতি নগরে রাজত্ব করতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে তার মনে বিন্দুমাত্ৰ সুশান্তি ছিল না। কেননা তিনি ছিলেন অপুত্ৰক। নিজেকে অত্যন্ত দুৰ্ভাগা মনে করে রাজা চিন্তাগ্ৰস্ত হলেন। রাজা প্রজাদের ডেকে জানান যে, তিনি এই জন্মে কোন পাপ করেননি। রাজার এই প্ৰকার কাতর উক্তি শ্ৰবণে ব্যথিত রাজভক্ত পুরোহিত ব্ৰাহ্মণগণ রাজার মঙ্গলের জন্য গভীর বনে ত্ৰিকালজ্ঞ মুনিঋষির কাছে যেতে মনস্থ করলেন।

বনের মধ্যে ঋষিদের আশ্ৰমসকল দেখতে দেখতে তারা এক মুনির সন্ধান পেলেন। তিনি দীৰ্ঘায়ু, নীরোগ নিরাহারে ঘোর তপস্যায় মগ্ন ছিলেন। সর্বশাস্ত্ৰ বিশারদ ধৰ্মতত্ত্বজ্ঞ ও ত্রিকালজ্ঞ সেই মহামুনি লোমশ নামে পরিচিত। ব্ৰাহ্মণেরা বললেন যে, মহিজীৎ নামে এক রাজা নিঃসন্তান হওয়ায় অতি দুঃখে দিনযাপন করছে। তারা তার প্রজা, তিনি তাদেরকে পুত্রের মতো পালন করেন। কিন্তু তিনি পুত্ৰহীন বলে তারা সবাই মর্মাহত। তার দুঃখ দূর করতে তারা এই বনে প্ৰবেশ করেছে। রাজা যাতে পুত্রের মুখ দৰ্শন করতে পারে সেই কৃপা চাইলেন। কিছু সময় পরে মুনিবর রাজার পূর্বজন্মবৃত্তান্ত বলতে লাগলেন। এই রাজা পূৰ্বজন্মে এক দরিদ্র বৈশ্য ছিলেন। একবার তিনি একটি অন্যায় কাৰ্য করে ফেলেন। ব্যবসা করবার জন্য তিনি এক গ্ৰাম থেকে অন্য গ্ৰামে যাতায়াত করতেন। এক সময় তিনি শুক্লপক্ষের দশমীর দিনে কোথাও যাওয়ার পথে অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন। গ্ৰাম প্ৰান্তে একটি জলাশয় দেখতে পান। সেখানে জলপানের জন্য যান। সেই সময় একটি গাভী জলপান করছিল। তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে তিনি নিজে জলপান করতে লাগলেন। এই পাপকর্মের ফলে তিনি পুত্ৰসুখ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু পূৰ্বজন্মের কোন পুণ্যের ফলে তিনি এইরকম নিষ্কণ্টক রাজ্য লাভ করেছেন।

লোমশ মুনি শ্ৰাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পবিত্ৰারোপণ একাদশী ব্ৰত পালনের কথা বললে তারা রাজ্যে ফিরে গিয়ে রাজাকে এই কথা জানান ও সকলে একাদশী পালন করেন। তাদের সকলের পুণ্যফল রাজাকে প্ৰদান করলেন। উপযুক্ত সময়ে বলিষ্ঠ, সৰ্বাঙ্গসুন্দর এক পুত্ৰসন্তানের জন্ম হলো। ভবিষোত্তরপুরাণে এই মাহাত্ম্য বৰ্ণিত হয়েছে। এই ব্ৰত মহাত্মা যিনি পাঠ বা শ্ৰবণ করবেন তিনি সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হবেন এবং পুত্ৰসুখ ভোগ করে অবশেষে দিব্যধাম প্ৰাপ্ত হবেন।
হরেকৃষ্ণ 🙏🙏🙏

🌿🌸রাধারাণীর নাম কেন শ্রীকৃষ্ণের আগে উচ্চারণ করা হয়?একদা অমর্ত্যধাম গোলক বৃন্দাবনে শ্রীভগবান রত্নসিংহাসনে বসে আছেন এমন সম...
27/08/2023

🌿🌸রাধারাণীর নাম কেন শ্রীকৃষ্ণের আগে উচ্চারণ করা হয়?

একদা অমর্ত্যধাম গোলক বৃন্দাবনে শ্রীভগবান রত্নসিংহাসনে বসে আছেন এমন সময় হঠাৎ তাঁর হৃদয়ে আকস্মিকভাবে ইচ্ছা জাগে প্রেমলীলা করার। লীলা কাকে বলে? ভগবানের আনন্দময় উচ্ছ্বাসের নাম লীলা। ভক্ত ও ভগবানের মিলন বৈচিত্রের নাম লীলা। যে মুহূর্তে বাসনার উদ্রেক হল সে মুহূর্তেই তাঁর বাম অঙ্গ থেকে আবির্ভূতা হলেন এক অপরূপ স্ত্রী। কোটি চন্দ্রের স্নিগ্ধতা তাঁর সর্বাঙ্গে। গলিত স্বর্ণের থেকেও অধিক উজ্জ্বল বর্ণবিশিষ্টা তিনি। শরতের শত পদ্মের সুষমাকেও পরাজিত করে এমন মুখসৌষ্ঠব, অতুলনীয়া অঙ্গসৌন্দর্য তাঁর।

পীতবর্ণা রত্ন ঘটা, জিনিয়া জানুর ছটা,
যেই হরে তাঁর গর্ব মান।
শরতের পদ্ম যিনি, শ্রীচরণ দুইখানি,
নূপুরের ধ্বনি যার গান ॥
কোটি পূর্ণিমার চান্দ, জিনিয়া নখের ছান্দ,
ঝলমল কিরণ যাহার।
সাত্ত্বিকাদি ভাবগণ, আকুল তাহার মন,
তাতে হয় বিগ্রহ যাহার ॥
যার কটাক্ষ কামশরে, কৃষ্ণে উন্মাদিত করে,
মনাব্ধির তরঙ্গ বাঢ়ায়।
হেন বৃন্দাবনেশ্বরী, তাঁরে বঁন্দো কর যুড়ি,
কৃষ্ণ প্রিয়াগণানন্দ তায় ॥
মহাভাব মাধুরী, যাঁহাতে উদয় করি,
বিহ্বল করয়ে অতিশয়।
অশেষ নায়িকার গুণ, তাঁতে হয় প্রকটন,
অপরূপ চরিত্র আশয় ॥

(শ্রীভাষাচাটু পুষ্পাঞ্জলি)

রত্নসিংহাসনে শ্রীকৃষ্ণের বামপার্শ্বে উপবিষ্টা হলেন তিনি। আবির্ভূতা হয়েই শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা ও পুষ্পচয়ন করবেন বলে উদ্যানের দিকে ধাবমান হলেন। তাই তাঁর নাম হল রাধা। কারণ, ‘রা’ অর্থে ‘আরাধিকা’ আর ‘ধা’ অর্থে ‘ধাবমানা’। এই যে ভগবান এক দেহ থেকে দুই দেহ হলেন, শ্রীল জীব গোস্বামীপাদ এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করলেন ‘চাণক্যবৎ’ বলে। অর্থাৎ মটরের মত। যেমন একটি মটরদানাকে ভিজিয়ে রাখলে সেটি ফুলে যায়। তারপর হাতের সামান্য চাপে তা থেকে দুটি অর্ধাংশ বেড়িয়ে আসে। দুটি অংশই কিন্তু সমান। অথচ শুকনো অবস্থায় বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে ভিতরে দুটি সমান অর্ধাংশ আছে। ঠিক তেমন “রাধাকৃষ্ণ তত্ত্ব”। কোনো ভেদ নেই তাঁদের মধ্যে। এক আত্মা, দুই দেহ তাঁরা।

রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা, দুই দেহ ধরি’।
অন্যোন্যে বিলসে রস আস্বাদন করি ॥

(চৈ. চ. আদি ৪/৫৬)

অধর্মের বিনাশ ঘটিয়ে ধর্ম সংস্থাপন করতে, দুষ্টদের হাত থেকে সাধু ব্যক্তিদের পরিত্রাণ দিতে, দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজের গোপবেশ, বেণুকর, নবকিশোর, নটবর যে প্রকৃত স্বরূপ, সেই স্বরূপ ধারণ করেই অবতীর্ণ হয়ে লীলা করলেন ধরিত্রীতে। চিন্ময়ধাম গোলক বৃন্দাবনে তিনি শ্রীমতিরাধাসহ যে প্রেমবিলাস করেন সেই লীলাই মর্ত্যলোকে বা ভৌম বৃন্দাবনে করেন এই কৃষ্ণ অবতারে।

কৃষ্ণের যতেক খেলা, সর্বোত্তম নরলীলা,
নরবপু তাহার স্বরূপ।
গোপবেশ বেণুকর, নবকিশোর নটবর,
নরলীলার হয় অনুরূপ ॥

(চৈ.চ.অন্ত্য)

অতএব লৌকিক জগতের সাধারণ নরনারীর মতো তাঁদের কল্পনা করতে নেই। তাঁদের অবতরণ কেবল নরলীলা বিগ্রহরূপে কেবল। আমাদের মতো পঞ্চভৌতিক উপাদানে তাঁদের শরীর গঠিতও নয়। তাঁরা কামবাসনায় বদ্ধ নন। তাঁদের তনু সচ্চিদানন্দময় (সদ্+চিদ্+আনন্দ)। সদ্ অর্থাৎ পূর্বে ছিলেন এখনও আছেন পরেও থাকবেন। চিদ্ অর্থাৎ যাঁর চেতনা সর্বদা বলবতী থাকবে কোনোদিন কোনোকালে তা লুপ্ত হবার নয়। আর যার ভিতর কেবল আনন্দই আনন্দ, আনন্দ ভিন্ন অপর কিছু নেই তিনি ভগবান। ভগবানের এই আনন্দ অংশের বা হ্লাদিনী শক্তির দ্বারা ভগবান নিজে আনন্দ লাভ করেন ও প্রতিটি জীবকে আনন্দ দান করেন। এখন জগতে যত প্রকার আনন্দ আছে সকলের প্রধান হল প্রেম যা দ্বারা ভগবদ্ মাধুরী আস্বাদন করা যায়। প্রেমের সার বস্তু হল ভাব। আর ভাবেরও সার বস্তু হল মহাভাব। এই মহাভাবের মূর্তিমন্ত রূপ হলেন শ্রীমতি রাধা ঠাকুরাণী।

প্রেমের পরমসার মহাভাব জানি।
সেই মহাভাবরূপা শ্রী শ্রী রাধাঠাকুরাণী ॥

(চৈ.চ. আদি)

মহাভাব কি? যেমন আখের বীজ থেকে আখ হয় তারপর তা থেকে ক্রমে রস, রস থেকে গুড়, গুড় থেকে খণ্ডসার, খণ্ডসার থেকে শর্করা, শর্করা থেকে সিতা, সিতা থেকে মিশ্রি, মিশ্রি থেকে ওলা হয় তেমনি প্রেম কতগুলো ধাপ পেড়িয়ে পরিণত হয় মহাভাবে। সেগুলি কি কি? প্রেম, স্নেহ, মান, প্রণয়, রাগ, অনুরাগ, ভাব, মহাভাব। প্রেম কাকে বলে? “অনন্যমমতা বিষ্ণৌ মমতা প্রেমসঙ্গতা”- একমাত্র ভগবানেই মমতা অর্থাৎ হৃদয়ের যাবতীয় ভালো লাগা, ভালোবাসা, আকর্ষণ, আসক্তি শুধুমাত্র শ্রীভগবান কৃষ্ণের জন্য হয় তখন সেই মনোবৃত্তির নাম প্রেম। আর জগতের এই যে এত সব সম্পর্ক তা সেই ভগবৎ প্রেমের আভাস বা প্রেমাভাস। প্রেম একমাত্র ভগবানের সঙ্গেই সম্ভব।

রাধা-পূর্ণশক্তি, কৃষ্ণ-পূর্ণশক্তিমান।
দুই বস্তু ভেদ নাই শাস্ত্র পরমান ॥

(চৈ. চ.আদি ৪/৯৬)

শ্রীমতি রাধারাণী হচ্ছেন পূর্ণশক্তি এবং শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পূর্ণ শক্তিমান। তাঁদের দুজনের মধ্যে কোন ভেদ নেই, এই কথা শাস্ত্র প্রমাণিত হয়েছে। রাধা ও কৃষ্ণে তাই কোন ভেদ নেই। লীলারস পুষ্টির জন্য দুটি দেহ ধারণ।
এমন যে রাধা ঠাকুরাণী ধরিত্রী মাঝে তাঁর অবতরণ বৈবস্বতীয় সপ্তম মন্বন্তরের অষ্টাবিংশতি চতুর্যুগের দ্বাপরের শেষে। বিশাখা নক্ষত্র যোগে, ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মধ্যাহ্ন কালে। অভিজিৎ যোগের শুভক্ষণে রাজা বৃষভানুর পত্নী রাণী কীর্তিদার গর্ভ থেকে জন্ম নেন তিনি।
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন – যে ব্যক্তি ‘রা’ উচ্চারণ করে আমি ব্যগ্র হয়ে তাকে উত্তম ভক্তি প্রদান করি। পরে যখন ‘ধা’ উচ্চারণ করে তখন আমি তার মুখ থেকে রাধানাম শ্রবণের লোভে তার কাছে চলে যাই। যে ব্যক্তি ষোড়শ উপাচারসহ নিত্য আমার আরাধনা করে তাতে আমি যত না প্রীত হই তার থেকে বেশি সন্তুষ্ট হই রাধানাম উচ্চারণ করলে। (ব্রঃ বৈঃ কৃঃ জঃ ১৫/৭০-৭২)
“রাধা-কৃষ্ণ। প্রথমে রাধার নাম কেন? রাধারাণীর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর ভক্ত কেউ নেই। যখন রাধার নাম উচ্চারিত হয় তখন কৃষ্ণ অধিকতর আনন্দিত হন। সেটিই পদ্ধতি। যদি ভগবানের সম্মুখে আমরা ভক্তদের চরিত্র, তাদের গুণকীর্তন করি, সরাসরি স্বয়ং তাঁর মহিমা কীর্তনের চেয়েও ভগবান বেশি সন্তুষ্ট হন।”

(শ্রীল প্রভুপাদ হাওয়াই মার্চ ২৪, ১৯৬৯ প্রবচন)

সরাসরি কৃষ্ণের নাম উচ্চারণ থেকে তার ভক্তের মহিমা কীর্তন করলে তখন ভগবান আরো বেশি সন্তুষ্ট হন। ভগবানের মূখ্য নাম রয়েছে সেগুলো হলো: রোহিনী নন্দন, যশোদা নন্দন, গোবিন্দ ও গোপীনাথ। এইভাবে যখন কৃষ্ণকে তার ভক্তদের সাথে সম্পর্কিত করে কোনো নাম দ্বারা সম্বোধিত করা হয় তখন ভগবান আরো বেশি সন্তুষ্ট হন।
এজন্য ভগবানের শক্তি রাধারাণী, সীতাদেবী ও লক্ষ্মীদেবী। রাধারাণী সেই মূল আদি শক্তি (হ্লাদিনী শক্তি)। তাঁর প্রকাশ সীতাদেবী ও লক্ষ্মীদেবী। সুতরাং তার শক্তিকে যখন আমরা আগে সম্বোধন করি তখন ভগবান আরো বেশি সন্তুষ্ট হন। এইভাবে (অহম্ ভক্ত পরাধীনো) নীতি স্থাপন করেন। অর্থাৎ ভগবান ভক্তের কাছে পরাধীন। তাই আমরা যেন ভগবানের ভক্তের চরণে কোনো অপরাধ না করি। তাদের সন্তুষ্ট করলেই ভগবান সন্তুষ্ট হবে। তাই মহাজন লিখেছেন-

জয় জয় রাধানাম প্রেমতরঙ্গিণী।
প্রেমতরঙ্গিণী নাম সুধাতরঙ্গিণী ॥
জপিতে জপিতে উঠে অমৃতেরও খনি।
বংশীনাদে গান করে ব্রজের নীলমণি ॥

তাই তো অমৃতের খনির আশায় বংশীবদন কৃষ্ণের বংশী কেবল ‘রাধা রাধা’ সুর তোলে। বৃন্দাবনবাসীরা তাই প্রতিটি কথার শুরুতে রাধে রাধে বলে। তারা প্রশংসাও করে রাধার নাম আগে বলে আবার তিরষ্কারও করে রাধার নাম আগে বলে। রাধারাণীর কৃপাতেই কৃষ্ণচরণ প্রাপ্ত হওয়া যায় সহজে।
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলতেন “আমরা গৌড়ীয়, রাধারাণীর ভক্ত। যারা বিষ্ণুভক্ত তাদেরকে বলা হয় ‘বৈষ্ণব’। যারা কৃষ্ণ ভক্ত তাদেরকে বলা হয় ‘কার্ষ্ণ’। সেই রকম যারা রাধারাণীর ভক্ত তাদের বলা হয় ‘গৌড়ীয়’। তিনি আরো বলতেন ‘আমরা আসলে কৃষ্ণের আরাধনা করি না ও কৃষ্ণের ভক্ত নই। আমরা রাধারাণীর ভক্ত। কিন্তু আমরা কেন কৃষ্ণের আরাধনা করি? কৃষ্ণের পূজা করি?
যেহেতু রাধারাণীর সাথে কৃষ্ণের একটা সম্পর্ক আছে, সেজন্য আমরা কৃষ্ণকে আরাধনা করি। কারণ তিনি রাধাকান্ত রূপে অভিহিত। তিনি হচ্ছেন রাধার কান্ত। যদি রাধারাণীর সাথে কৃষ্ণের সম্পর্ক না থাকত তাহলে আমরা কৃষ্ণের সেবা করতাম না।
কলিযুগের মহামন্ত্রেও শ্রীরাধারাণীর নাম ‘হরে’ ভগবানের হ্লাদিনী শক্তি প্রথমে।

💙আজ থেকে রাধা-কৃষ্ণের ঝুলন যাত্রা আরম্ভ❣️❇️ ঝুলনযাত্রা লীলাকথামৃত মাহাত্ম্য পড়ুন এবং আপনি অনুভবে রাধা-কৃষ্ণ গোপীদের সাথে...
27/08/2023

💙আজ থেকে রাধা-কৃষ্ণের ঝুলন যাত্রা আরম্ভ❣️

❇️ ঝুলনযাত্রা লীলাকথামৃত মাহাত্ম্য পড়ুন এবং আপনি অনুভবে রাধা-কৃষ্ণ গোপীদের সাথে ঝুলনযাত্রায় অংশগ্রহণ করুন।☑️☑️

শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্ত্তী ঠাকুর ''কৃষ্ণভাবনামৃত'' গ্রন্থে রাধাকৃষ্ণের আনন্দঘন ঝুলন যাত্রা লীলা লিপিবদ্ব করেন। এই গ্রন্থে অনেক সুন্দরভাবে দোলন উৎসবের বর্ননা করা হয়েছে। কৃষ্ণলীলায় রাধাকুন্ডের তীরে ঝুলন উৎসবটি লীলায়িত হয়েছিল।

🌷একদা ব্রজের সব গোপীরা একেকজন নিজঘর থেকে সুন্দরভাবে সেঁজে রাধাকুন্ডের পাশে কুঞ্জবনে এল। এখানেই তাদের প্রানের যুগলমুর্ত্তি নবকিশোর রাধা-কৃষ্ণকে ঝুলনে বসিয়ে দোল দিবে বলে একত্রিত হয়েছিল। কিন্তু রসরাজ শ্রীকৃষ্ণ এই দোলন উৎসবের সুযোগে এক অদ্ভুত লীলা গোপীদের সাথে করেছিলেন।
তুলসি মহারানী বৃন্দাদেবী এই লীলাকে আরও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ষড়ঋতুকে আহ্‌বান করে বলেছিলেন যেন তারা তাদের ষড়ঋতুর প্রভাব এখানে বিস্তার করে। ষড়ঋতুগন মুর্ত্তিমান রুপ ধারন করে যেন এখানে তারা একই সময়ে গ্রীষ্মকালের ঝলমল রৌদ্রে বর্ষার পুষ্পম বৃষ্টির কণায় নির্মল শরতের নীল আকাশে কাল মেঘের আনাগোনা গাছে গাছে পাতায় পাতায় শিহরন সঞ্জিবতায় কদম কেয়া শিউলি ফুলের মৃদগন্ধ তীরে তীরে কাশফুলের ছড়াছড়ি বৃষ্টি আলোর মধ্যে মেঘের লুকোচুরি শ্বেতশুভ্র পুঞ্জ মেঘের নীচে হেমন্তের রিক্ততাহীন ধুসরতায় ভেসে আসা চাষীদের ফসল কাটার গানসহ কুয়াশার চাদর মোড়ান শিশির সিক্তকে কাছে ডেকে অশোক পলাশ কৃষ্ণচুড়া আর শিমুলের আগুন লাগা ফাগুনের বসন্তে কোকিলের মত সব গোপীরা গোপীগীত করে যুগলমুর্ত্তি রাধা-কৃষ্ণকে আজ দোলনে দোল দিতে পারে।

🌷নিকুঞ্জ বনের কুঞ্জে আজ রাধাকৃষ্ণে একত্র হয়ে তারা বিশ্রাম ছেড়ে ললিতা বিশাখার ডাকের অপেক্ষায় আছে কখন তারা দোলনায় দোল খেতে আসবে।
আজ এক অদ্ভুত মাধুর্য্য লীলা করার জন্য কৃষ্ণের ইচ্ছে হল রাধাকে আজ তার ইচ্ছামত সাঁজাবে বলে রাধাকে রাজী করল। কৃষ্ণ মনের মাধুরী দিয়ে রাধাকে সাঁজাতে লাগল। নানারকম রং দিয়ে কৃষ্ণের পোশাকের মত পোশাক পড়িয়ে চুল কোকড়া করে মাথায় পাগড়ি বেধে মুল্যবান বেশভূষা ও অলংকারে কুমকুম রেনু ছড়িয়ে কৃষ্ণের মত হাতে চুড়ি-বালা পরে মুখে তাম্বুলের রক্তিম অধরে সেঁজে রাধাকে সত্যিকারে কৃষ্ণ সাঁজিয়ে দুই যুগল কিশোরমূর্ত্তি হাতে বংশী ধরে অপেক্ষায় প্রহর গুনছে কখন সখীরা আসে।
যখন সব সখীরা রাধাকুন্ডে একত্রিত হল তখন ললিতা বিশাখা বলল, চল আমরা নিকুঞ্জ কুঞ্জে গিয়ে রাধাকৃষ্ণকে দর্শন করে তাদেরকেও নিয়ে আসি। তারা কুঞ্জের ভিতরে ঢুকে ত সবাই অবাক।
তারা দেখল সেখানে রাধারানী নেই। সেখানে দুই কৃষ্ণ বাঁশী হাতে বসে আছে। রাধা কোথা গেল সবাই হায় হায় করতে লাগল। সর্বনাশ হল।
আর দুই কৃষ্ণ উপড়ে তাকিয়ে মধুর সুরে বাঁশী বাজাচ্ছে।

🌷সখীরা বুজতে পারল এরা দুই কৃষ্ণ নয়। এদের মধ্যে একজন আমাদের রাধা। কিন্তু কোন কৃষ্ণ রাধা তারা বিচার করতে লাগল। কিন্তু কিছুতেই কোনটি রাধা তারা চিনতেই পারছিল না। ললিতা এক কৃষ্ণকে অর্থাৎ সত্যিকারের কৃষ্ণকে ধরে বলতে লাগল, হে রাধে, তোমাকে কে এমন করে কৃষ্ণ সাঁজিয়েছে ?
কপট কৃষ্ণ আরও বাকপটু করে রাধারানীর গলার স্বর নকল করে বলছে, ''ললিতা এই দুষ্ট কৃষ্ণ আমাকে এমন করে সাঁজিয়েছে''।
আর আসল রাধা উপরে তাকিয়ে সেইমত বাঁশী বাজিয়ে চলছে।
সব সখীরা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আস্বস্ত হল !
সখীরা বলল, হে রাধে বল বল কিভাবে তুমি এমন হলে।
তখন ললিতা কৃষ্ণকে কুঞ্জের বাহিরে নিয়ে এল। সব সখীরা কৃষ্ণকে রাধা মনে করে কাঁধে হাত রেখে গায়ে গায়ে ঘেসে ঐ দোলনার সামনে যেতে লাগল। আবার রাধারানী যেমন সখীদের সাথে আচরন করে কৃষ্ণও ঐরুপ করতে লাগল। যেমন কেউ বুজতে না পারে।
সবাই বলছে, হে রাধে তোমার শরীর কেন পুরুষেরে মত শক্ত শক্ত লাগছে।
কৃষ্ণ বলছে, ''সেই কপট কৃষ্ণ তার মন্ত্রপুতঃ জল আমার গায়ে ছিটিয়ে দিয়েছে তাই আমার অঙ্গ কৃষ্ণের অঙ্গের মত হয়ে গেছে''।
তখন বিশাখা বলছে, ''হে সখী, তোমার গলার স্বর কেন পরিবর্ত্তন হয়নি''।
কৃষ্ণ বলল, ''যখন জল দিচ্ছিল তখন আমি মুখ বন্ধ করে ছিলাম। তাই কন্ঠ পরিবর্তন হয়নি''।
সব সখীরা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আস্বস্ত হল। সব সখীরা বলল, হে রাধে আর সব পরিবর্তন কিভাবে এমন হলে। বল রাধে।
তখন কপট কৃষ্ণ বলছে, হায় হায় সেকথা আমি সবাইকে বলতে পারব না। আমার লজ্জা করছে। তোরা যদি শুনতে চাস তবে একজন একজন করে গোপনে আড়ালে গিয়ে কানে কানে বলতে পারি।

🌷পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অখিলরসামৃত। তিনি চেয়েছেন যে, সকল গোপীকে চিন্ময় জ্ঞান দান করে তাদের গত জন্মের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা রক্ষা করা। যা তারা অনেক জন্ম জন্ম ধরে তপশ্চর্যা করে লাভ করেছিল। একইভাবে কৃষ্ণ আরও চেয়েছেন শ্রীমতি রাধারানীকে যে ভাবে প্রেম ভালবাসা ও আনন্দবিধান করেন আজকে তাদেরকেও সেই আনন্দ দান করবেন, যা আনন্দ লাভ করলে এই বিশ্বব্রম্মান্ডে আর কিছুর বাকী থাকে না।
যদিও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমস্ত স্ত্রীলোকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়, সকলের আরাধ্য, সমস্ত ঐশ্বর্য্যের অধিকারী, সকলের মাননীয়, পরম নিয়ন্তা ও আত্মারাম, তবুও তিনি গোপসখীদের সাথে নিজের স্বত্ত্বতা প্রকাশ করেন যে, তিনি আর রাধা একই তত্ত্ব।
''রাধা পুর্নশক্তি, কৃষ্ণ পুর্নশক্তিমান,
দুই বস্তু ভেদ নাহি, শাস্ত্র - প্রমান''।। চৈতন্যচরিতামৃত

🌷ললিতা তখন সব সখীদের বলল,'তোরা সবাই এখানে থাক, আমি রাধারানীর কি গুহ্যতম কথা তা শুনে আসি''।
এই বলে ললিতা কপট কৃষ্ণের সাথে ললিতা একটু আড়ালে গেলেন। সেখানে গিয়ে কৃষ্ণ তাকে দেখালেন যে তিনি রাধা নন স্বয়ং কৃষ্ণ। কৃষ্ণ ও রাধারানী যে একই তত্ত্ব তার প্রমান সহ রাসলীলা দেখালেন এবং ফিরে এসে ললিতা চুপ।
তারপর বিশাখা গেলেন। তিনিও ফিরে এসে চুপ। একে একে সব সখীদের কৃষ্ণ রাধারানীর সাথে তার অনন্ত সম্পর্কের কথা প্রকাশ করলেন।
কিন্তু কৃষ্ণ আবার যোগমায়া বলে আবার সবাইকে তা ভুলিয়ে দিলেন।
এবার সব সখীরা তবুও কৃষ্ণকে বলছে, হে সখী, অনেক ছলনা হল, হে রাধে, এবার তোমার স্বরুপে আস। দোলনার সময় গড়িয়ে যাচ্ছে।
কৃষ্ণও চুপ করে রইল।
তখন কিছু সখীরা কুঞ্জে গিয়ে রাধাকে কৃষ্ণ ভেবে অনুনয় করতে লাগল যে, তাদের সখীকে আবার রাধা করে দিতে। সেই সময় রাধারানীর হুস হল বলল, কেন রে সখীরা আমি ত রাধা, আমি কি করে কৃষ্ণকে রাধা বানাব।
তখন সবাই কৃষ্ণের ছলনা বুঝতে পারল।
সব সখীরা ও কৃষ্ণ হাসি তামাসা করে আনন্দের সীমা রইল না। সব সখীরা রাধাকৃষ্ণকে ঘিরে নৃত্যগীত করতে লাগল।

🌷বৃন্দাদেবী আগেই যুলন তৈরী করে রেখেছিল। রাধা-কৃষ্ণসহ সব সখীরা সেই যুলনের কাছে গেলেন। যে যুলনটি ছিল সোনার ও মনিমুক্তা দিয়ে গাঁথা, রুপর দড়ি বিভিন্ন ফুল ফল লতা গুল্ম দিয়ে আচ্ছাদিত আর ষড়ঋতুর কারনে এক আনন্দ মোনহর পরিবেশ ছিল এক গাছ আরেক গাছকে আলিঙ্গন করছে। পাখীরা কুঞ্জন ও ময়ুর সকল নৃত্য করতে ছিল।
সব সখীরা সেই স্বর্নখচিত যুলনটিতে রাধাকৃষ্ণকে বসালেন, কেউ গান গাইতে লাগল, কেউ বাদ্য বাজাতে লাগল, অন্যরা দোল দিতে লাগলেন, রাধা দোলনার অপর প্রান্তে একটু দুরে সরে দড়ি ধরে আছে দেখে কৃষ্ণ সবাইকে আরও জোরে দোল দিতে উৎসাহ দিতে লাগলেন,
যুলন একপাশে আস্তে আস্তে অনেক উপরে উঠতে লাগলো,
আবার ওপাশেও অনেক উপরে উঠতে লাগলো ,
কৃষ্ণ গোপীদের আরও আরও জোরে দোল দিতে উৎসাহ দিতে লাগল। এবার রাধা ভয় পেতে লাগল এবং দড়ি ছেড়ে কৃষ্ণকে জড়িয়ে ধরল, ''এ হল পুর্ন শরনাগতি''।
তবুও কৃষ্ণ গোপীদের জোরে দোল দেওয়ার জন্য বলতে লাগল।

🌷সেদিন গীত বাদ্য সখীদের হাস্য তামাশা প্রকৃতি রাধারানীর চিৎকার কৃষ্ণের হাস্য কথা সব মিলিয়ে রাসলীলার আনন্দকেও ম্লান করেছিল।

🌷সবশেষে সকল সখীদের অংশগ্রহনে ললিতা ও বিশাখা তাদের প্রিয় যুগল কিশোর রাধাকৃষ্ণাকে আনন্দ বিধান করেছিল। ধন্য তারা।

🌷আসুন আমরাও রাধাকৃষ্ণকে ঝুলনে বসিয়ে দোল দিয়ে তাদের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হই।

হরেকৃষ্ণ।

 #প্রশ্নঃ শিখা ধারণ কেন করবেন? মস্তকে শিখা ধারণের শাস্ত্রীয় প্রমাণ কি? #উত্তরঃ সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বৈদিক সংস্কৃতির অন্ত...
27/08/2023

#প্রশ্নঃ শিখা ধারণ কেন করবেন? মস্তকে শিখা ধারণের শাস্ত্রীয় প্রমাণ কি?

#উত্তরঃ সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বৈদিক সংস্কৃতির অন্তর্গত দশবিধ সংস্কারের অন্যতম হলাে চূড়াকরণ বা শিখাধারণ। বৈদিক সংস্কৃতি অনুসারে, চূড়াকরণ ও উপনয়ন তথা দীক্ষাকালে মস্তক মুণ্ডন মস্তক এর পেছন দিকে মধ্যভাগে একগুচ্ছ কেশ রাখতে হয়। এই কেশগুচ্ছকে বলা হয় শিখা। আবার, ভগবৎ-চেতনা দান করে বলে একে চৈতন্য বলা হয়।

শ্রীমদ্ভাগবত (৩/২২/২৫) টীকাকার শ্রীধর স্বামী ব্যাখ্যা করেছেন, শিখা হচ্ছে 'মস্তক মধ্যস্থ কেশপাশ।' বৈদিক সংস্কৃতির অঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও কলিযুগের প্রভাবে অপসংস্কৃতি চর্চায় উৎসুক মনুষ্য আজ এসম্পর্কে কোনাে ধারণাই রাখে না। সে কারণে শাস্ত্রজ্ঞানের অভাবে তথা অজ্ঞতাহেতু একে টিকি-এন্টেনা বলে কাউকে উপহাস করতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ মনে করে থাকেন এটি অশাস্ত্রীয়। তাই এখানে শিখা সম্পর্কিত বিশেষত শাস্ত্র প্রমাণ উল্লেখ করা হলাে।

বৈষ্ণব স্মৃতিশাস্ত্র শিরোমণি শ্রীহরিভক্তিবিলাস (তৃতীয় বিলাস, শ্লোক সংখ্যা ২৩৫-২৩৬) গ্রন্থে প্রণব ও গায়ত্রী স্মরণ করিয়া শিখা বন্ধন করার কথা বলা হয়েছে—
অথ কেশপ্রসাধনাদিঃ
অথ কেশসংস্করণাদি।
ততশ্চাচম্য বিধিবৎ কৃত্বা কেশপ্রসাধনম্।
স্মৃত্বা প্রণবগায়ত্র্যৌ নিবধ্নীয়াচ্ছিখাং দ্বিজঃ॥
( টীকা—দ্বিজ ইতি স্নানে শূদ্রস্য মুক্তশিখত্বাৎ॥)
মূলশ্লোকানুবাদ—"অনন্তর দ্বিজ অর্থাৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য দন্তদাবনের পর আচমন করিয়া পশ্চাল্লিখিত বিধানানুসারে কেশসংস্কার করিয়া প্রণব ও গায়ত্রী স্মরণ পূর্বক শিখা বন্ধন করিবেন।"
তথাচোক্তম্।
অতএব উক্ত হয়েছে।
ন দক্ষিণামুখো নোর্দ্ধং কুর্য্যাৎ কেশপ্রসাধনম্। স্মৃত্বোস্কারঞ্চ গায়ত্রীং নিবধ্নীয়াচ্ছিখাং ততঃ॥
(টীকা—বিধিবদিতি লিখিতং, তং বিধিমেব লিখতি—ন দক্ষিণেতি॥)
মূলশ্লোকানুবাদ—"দক্ষিণ অথবা ঊর্দ্ধমুখ হইয়া কেশসংস্কার করিবে না। পরে প্রণব ও গায়ত্রী স্মরণ করিয়া শিখা বন্ধন করিবেন।"

পুরাণ বচন!

ব্রাহ্মণৈশ্চ বিশেষেণ বৈষ্ণবৈশ্চ বিশেষতঃ।
উপবীতং শিখা যদ্বচ্চক্রং লাঞ্ছনসংযুতম্॥
(স্কন্দপুরাণ, বিষ্ণুখণ্ডে-মার্গশীর্ষমাসমমাহাত্মম্ ৩/৫৭)

অর্থাৎ—"বিশেষত ব্রাহ্মণ-বৈষ্ণবগণের পক্ষে যেরূপ উপবীত ও শিখা নৃত্য ধারণীয়, তদ্রূপ নিত্য চক্রচিহ্ন যুক্ত হবেন।"

তিলক ধারণকালে বিষ্ণুর দ্বাদশ নাম উচ্চারণপূর্বক দ্বাদশ অঙ্গে যেরূপ বিষ্ণুনাম ন্যাস করা হয়, তদ্রূপ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভগবানের বিবিধ নাম ন্যাস প্রসঙ্গে পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে—

শিখায়াং শ্ৰীধরং ন্যস্য শিখাধঃ শ্রীকরন্তথা॥
(পদ্মপুরাণ, উত্তরখণ্ড, ৭৮/১৭)

অর্থাৎ—"শিখায় শ্রীধর, শিখানিম্নে শ্রীকর বিন্যাস করিবে।"

সশিখাশ্চ যথা শূদ্রা কপিলাক্ষীরপায়কঃ।
দ্বাদশী দশমীযুক্তা তথা রাষ্ট্রমবৈষ্ণবম্॥
(স্কন্দপুরাণ, বিষ্ণুখণ্ডে-মার্গশীর্ষমাসমাহাত্মম্ ১১/৩২)

অর্থাৎ—"যেরূপ শূদ্রের শিখাধারণ ও কপিলাদুগ্ধপান এবং যদ্রূপ দশমীযুক্ত দ্বাদশী (বর্জনীয়)-অবৈষ্ণব রাষ্ট্রও তদ্রূপ।" (যেখানে বাস করা উচিত নয়-ন তু রাষ্ট্রে অবৈষ্ণবে-১১/২৪)।

অবৈষ্ণবস্ত যাে বিপ্রঃ স পাষণ্ডঃ প্রকীর্ত্তিতঃ।
শিখোপবীতত্যাগী বিকর্ম্মস্থ ইতীরিতঃ॥
(পদ্মপুরাণ উত্তরখণ্ড ২৩৪/২৭)

অর্থাৎ—"অবৈষ্ণব বিপ্র পাষণ্ড বলে কথিত হয়, আর শিখা ও উপবীত পরিত্যাগী ব্যক্তি বিকর্মস্থ।"

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অনুসারে, কর্ম তিন প্রকার। যথা কর্ম, অকর্ম ও বিকর্ম। বেদ বিহিত জড় কামনা-বাসনাযুক্ত কর্মকে বলা হয় কর্ম, জড়কামনা শূন্য হয়ে ভগবানের সন্তুষ্টিবিধানার্থে যে কর্ম, তাকে কলা হয় অকর্ম এবং বেদবিরুদ্ধ বা নিষিদ্ধ কর্মকে বলা হয় বিকর্ম।

যেহেতু শিখাধারণ না করা শাস্ত্র বিরুদ্ধ, তাই শিখাহীন ব্যক্তিকে শাস্ত্রে বিকর্মস্থ বলা হয়েছে।

শিখা ধারণ না করা যে বৈদিক শাস্ত্র তথা বৈদিক সংস্কৃতির পরিপন্থী, একথা ভবিষ্যপুরাণে স্পষ্টই প্রতিপন্ন হয়। এ প্রসঙ্গে ভােজরাজের প্রতি ত্রিপুরাসুর বাক্য—

আর্যধর্ম হি তে রাজন্ সর্বধর্মোত্তমঃ স্মৃতঃ।
ঈশাজ্ঞয়া করিষ্যামি পৈশাচং ধর্মদারুণম্॥
লিঙ্গচ্ছেদী শিখাহীনঃ শ্মশ্রুধারী স দূষকঃ।
উচ্চালাপী সর্বভক্ষী ভবিষ্যতি জনাে মম্॥
(ভবিষ্যপুরাণ, প্রতিসর্গপর্ব, ৩য় খণ্ড, শ্লোক সংখ্যা–২৪-২৫)

অর্থাৎ—"হে রাজন, তােমার আর্যধর্ম (বৈদিক ধর্ম) অতি উত্তম। কিন্তু ঈশ্বরের আজ্ঞায় আমি পৈশাচ ধর্ম পালন ও প্রচার করব। আমি লিঙ্গচ্ছেদন, শিখাচ্ছেদন, শ্মশ্রুধারণ, দুষক, উচ্চৈঃস্বরে আলাপ ও সকল কিছু ভক্ষণ করব।"

এই শ্লোকে স্পষ্ট যে, আর্য বা সনাতন ধর্ম অতি উত্তম বা সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম, যেখানে মস্তকে শিখা ধারণের সংস্কৃতি রয়েছে। কিন্তু, ভগবানেরই ইচ্ছাতে শিবের উপাসক ত্রিপুরাসুর কলিযুগে এমন এক পৈশাচিক ধর্ম পালন ও প্রচার করবে।

সুতরাং, সনাতন ধর্মাবলম্বীগণের উচিত উক্ত পৈশাচ ধর্মের বিপরীতে সর্বোত্তম সনাতন সংস্কৃতির প্রতি আরাে শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং যথাসম্ভব ব্যক্তিজীবনে সেই সংস্কৃতি পালন করা।

শিখায়াং তুলসীং কৃত্বা যস্তু প্রাণান্ পরিত্যজেৎ। দুষ্কৃতৌঘাদ্ধিনির্মুক্তঃ স্বর্গমেতি নিরাময়ম্॥
(পদ্মপুরাণ সৃষ্টিখণ্ড ৬০/১৩২)

অর্থাৎ—"যে ব্যক্তি শিখায় তুলসী রেখে প্রাণ পরিত্যাগ করে, সে দুষ্কৃতরাশি হইতে নির্মুক্ত হয়ে নিরাময় স্বর্গলাভ করে থাকে।"

ঋষি মার্কণ্ডেয়ের প্রশ্নের উত্তরে দেবীকবচ বর্ণনা প্রসঙ্গে ব্রহ্মা বলেন—
শিখাং ম দ্যোতিনী রক্ষেদুমা মুর্ধ্নি ব্যবস্থিতা।
মালাধারী ললাটে চ ভ্রুবৌ রক্ষেৎ যশস্বিনী॥
(দেবীকবচ, মন্ত্র-২৩)

অর্থাৎ—"দ্যোতিনী, আমার শিখা রক্ষা করুন, উমা আমার মস্তকে অবস্থান করুন এবং মালাধারি ললাটে ও যশস্বিনী আমার ভ্রুদ্বয় রক্ষা করুন।"

বিশেষ স্মৃতি প্রমাণ!

সদোপবীতিনা ভাব্যং সদা বদ্ধশিখেন চ।
বিশিখো ব্যুপবীতশ্চ যৎ করোতি ন তৎকৃতম্॥
কাত্যায়ন সংহিতা, প্রথম খণ্ড, শ্লোক-৪

অর্থাৎ—"সর্বদা যজ্ঞোপবীতধারী হবে ও শিখাবন্ধন করে থাকবে। দ্বিজ শিখাবন্ধন-শূন্য বা যজ্ঞোপবীতশূন্য হয়ে যা করবে, তা না করার তুল্য হবে।"

অতএব, শিখা কেবল আর্য জাতির ধার্মিক-চিহ্নই নয়; বরং কর্তব্য কর্মের সহায়ক বটে।

চূড়াকর্ম দ্বিজাতীনাং সর্বেষামেব ধর্মতঃ।

প্রথমেহব্দে তৃতীয়ে বা কর্তব্যং শ্রুতিচোদনাৎ॥
(মনুসংহিতা-২/৩৫)

অর্থাৎ—চূড়া শব্দের অর্থ শিখা (এক গুচ্ছ চুল)। তার জন্য যে কর্ম, তাকে বলা হয় চূড়াকর্ম। মাথার বিশেষ বিশেষ জায়গায় চুল কেটে বিশেষ রকমের বিন্যাস (Tufts of hair) করে চুল রাখা হয়। এর নাম চুড়াকর্ম। এই সংস্কার প্রথম বা তৃতীয় বৎসরে কর্তব্য; গ্রহসন্নিবেশকে প্রশস্ত করার জন্য এই রকম বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলা হয়।

("চূড়া শিখা তদর্থং কর্ম’ চূড়াকর্ম।
কেসষুচিদ মূর্ধদেশেষু কেশানাং স্থানং রচনা বিশেষশ্চ এতৎ চূড়াকর্ম উচ্যতে। প্রথমবর্ষে বর্ষে তৃতীয়ে বা গ্রহসৌস্থিত্যপেক্ষায়য়া বিকল্পম-মেধাতিথি)।" (মানবেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কৃত)

সশিখং বপনং কৃত্বা ক্রিসন্ধ্যমবগাহনম্।
গবাং গোষ্ঠে বসেদ্রাত্রৌ দিবা তাঃ সমনুব্রজেৎ॥
(পরাশর সংহিতা-৮/৩৮)

অর্থাৎ—"প্রায়শ্চিত্তকালে শিখা সহ কেশ মুণ্ডন করবে, ত্রিসন্ধ্যা অবগাহন (পূর্ণ স্নান) করবে এবং রাত্রিকালে গোশালায় শয়ন, দিবাভাগে গাগণের অনুসরণ করতে হবে।

আবার, গােহত্যা পাপের চার প্রকার প্রায়শ্চিত্ত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—

পাদেহঙ্গরোমবপনং দ্বিপাদে শ্মশ্রুণোহপি চ।
ত্রিপাদে তু শিখাবর্জ্জং সশিখন্তু নিপাতনে॥
(পরাশর সংহিতা-৯/১৪)

অর্থাৎ—"ত্রিপাদ প্রায়শ্চিত্ত সময়ে শিখা ব্যতীত সমস্ত লােম মুণ্ডন করতে হয়, আর পূর্ণ প্রায়শ্চিত্ত কাল শিখা সমেত সমুদয় রোম মুণ্ডন করতে হয়।"

অগম্যা গমনের প্রায়শ্চিত্তের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে—

শিখন পবনং কুর্য্যৎ প্রাজাপত্যত্রয়ং চয়েৎ।
ব্ৰহ্মকূর্চ্চং ততঃ কৃত্বা কুর্য্যাদব্রাহ্মণতর্পণম্॥
(পরাশর সংহিতা-১০/৬)

"যে দ্বিজ, চণ্ডালী বা শ্বপচী গমন করবেন, তিনি বিপ্রগণের আজ্ঞাক্রমে ত্রিরাত্র উপবাসী থাকবেন। তৎপরে শিখাসমেত সমুদয় কেশ মুণ্ডন করে তিনটি প্রাজাপত্য ব্রত অনুষ্ঠান করবেন। তৎপরে ব্রহ্মকুর্চ্চ পান করে ভোজনানি দ্বারা ব্রাহ্মণদের তুষ্ট করবেন। তাকে নিত্য গায়ত্রী জপ করতে হবে। এক গাভী ও এক ষাঁড় বিপ্রগণকে দক্ষিণাস্বরূপ দান করতে হবে। তাহলে নিশ্চয়ই তিনি শুদ্ধি লাভ করবেন।"

ইতিহাস প্রমাণ!

ছান্দ্যোগ্য উপনিষদ অনুসারে, ইতিহাস ও পুরাণ সমূহ পঞ্চম বেদ বলা হয়। অনার্যরা এই শ্লোকের কদর্থ করে থাকে। যাহােক, বাল্মীকি রচিত রামায়ণ এবং ব্যাস কৃত মহাভারত হলাে ইতিহাস প্রধান শাস্ত্রসমূহের মধ্যে অন্যতম। যে যে কর্তব্য কর্ম সম্পাদনের ফলে পাপবিহীন ব্রাহ্মণ ব্রহ্মলোক প্রাপ্ত হতে পারেন, মহাভারতে সেগুলোর উল্লেখ প্রসঙ্গে প্রথমেই শিখাধারণের কথা বলা হয়েছে—

শিখাযজ্ঞোপবীতা যে সন্ধ্যাং যে চাপ্যুপাসতে॥
নষ্ট্রদূষ্কৃতকর্ম্মণো ব্রহ্মলোকং ব্রজস্তি তে॥

(মহাভারত, অশ্বমেধিকপর্ব ১১৯/২, ৫)

অর্থাৎ, "যাদের সর্বদা শিখা ও যজ্ঞােপবীত থাকে, যারা প্রত্যহ সন্ধ্যা করেন, যারা জপযজ্ঞপরায়ণ হন... এভাবে যাদের পাপ দগ্ধ হইয়া যায়, সেই পাপবিহীন ব্রাহ্মণেরা ব্রহ্মলোকে গমন করেন।"

এছাড়া, ঐতিহাসিক বিশেষ চরিত্রগুলােতে শিখা ধারণের প্রসঙ্গ দেখা যায়। যেমন—চানক্য পণ্ডিত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রমুখ।

শ্রুতি প্রমাণ!

যে বেদকে সকলে সমস্ত জ্ঞানের মূলাধার বলে গ্রহণ করেন, সেই বেদে শিখা রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

শুক্লযর্জুবেদের (১৭/৪৮) মন্ত্রে বলা হয়েছে—
যত্র বানাঃ সম্পতন্তি কুমারা বিশিখা ইব।
তন্ন ইন্দ্রো বৃহস্পতিরদিতিঃ শৰ্ম যচ্ছতু বিশ্বহা শৰ্ম যচ্ছতু॥

অর্থাৎ—"যে রণক্ষেত্রে বীরগণ কর্তৃক পরিত্যাক্ত বাণসকল শিখাহীন তথা মুণ্ডিতমস্তক চঞ্চল কুমারগণের ন্যায় ইতস্তত ভূয়াে ভূয় পতিত হচ্ছে, সেরূপ এ মহাযুদ্ধে সর্ববাক্যের অধিপতি ও অখণ্ডনীয় শক্তিসম্পন্ন ঈশ্বর আমাদের কল্যাণবিধান করুন, সময়ও আমাদের পক্ষে অনুকূল হােক।"

এই মন্ত্রে “বিশিখা পদটির অর্থ হচ্ছে বিশিষ্টা, দীর্ঘা, গােখুর পরিমাণ শিখা বা চূড়া তাদৃশা কুমার ইব অর্থাৎ, গোখুর (তথা গরুর খুর যে পরিমাণ স্থান দখল করে) পরিমাণ শিখা কুমারদের হওয়া উচিত।

প্রায় একইরকম মন্ত্র ঋগ্বেদেও (৬/৭৫/১৭) রয়েছে—
যত্র বাণাঃ সম্পতন্তি কুমারা বিশিখা ইব।
তত্রা নো ব্রহ্মণষ্পতিরদিতিঃশৰ্ম যচ্ছতু বিশ্বহা শৰ্ম যচ্ছতু॥

অর্থাৎ—"মুণ্ডিত মস্তক কুমারগণের (চূড়াকরণকালে কেশ ভূপতিত হওয়ার) ন্যায় বাণসমূহ যে যুদ্ধভূমিতে সম্পতিত হয়, সেখানে ব্রহ্মণষ্পতি আমাদের সর্বদা সুখ দান করুন, অদিতি সুখ দান করুন।"

অথর্ববেদ (১৯/২২/১৫)—শিখিভ্যঃ স্বাহা।
অর্থাৎ, শিখাধারীদের কল্যাণ হােক।

শুক্লযর্জুবেদের (১৯/৯২) মন্ত্রে বলা হয়েছে—

আত্মনুপন্থে ন বৃকস্য লােম মুখে শ্মশ্রুনি ন ব্যাঘ্র লোম।
কেশা ন শীর্ষন্যশসে শ্রিয়ৈ শিখা সিংহস্য লােমাত্বিষিরিন্দ্রিয়ানি॥

এখানে কীর্তি ও শ্রী প্রাপ্তিহেতু শিখা ধারণের বিধান দেওয়া হয়েছে এবং শিখার কেশের সহিত ব্যাঘ্রের সিংহের লােমের সাদৃশ্য দেখানাে হয়েছে।

অতএব, বৈদিক শাস্ত্রে বহু প্রমাণ থেকে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, পরশ্রীকাতর ও অজ্ঞলোকের ভ্রান্ত কথার দ্বারা বিভ্রান্ত না হয়ে, বৈদিক সংস্কৃতির বিশেষ অঙ্গরূপ দ্বিজাতির বিশেষত ব্রাহ্মণ-বৈষ্ণবগণের শিখাধারণ অবশ্যই কর্তব্য।

Follow the Mu Page
🙏🏻🙏🏻🙏🏻

https://youtube.com/watch?v=aRazyYsNCD4&feature=share
18/08/2023

https://youtube.com/watch?v=aRazyYsNCD4&feature=share

হরে কৃষ্ণ 🙏 Heart Touching Kritan Tvসুস্বাগতম আমাদের চ্যানেলে 🏵️এই কলিযুগে যুগো ধর্ম হচ্ছে হরিনাম সংকীর্তন তাই সকালে হরে কৃষ্ণ...

18/08/2023

https://youtu.be/29t39EolQIk

হরে কৃষ্ণ 🙏 Heart Touching Kritan Tvসুস্বাগতম আমাদের চ্যানেলে 🏵️এই কলিযুগে যুগো ধর্ম হচ্ছে হরিনাম সংকীর্তন তাই সকালে হরে কৃষ্ণ...

17/08/2023

Durga Maiya ki Jay
♥️♥️♥️

💐🔱মনসার পূজায় পশুবলি বৈধ নাকি অবৈধ? 🚫                            🕉️🚫✅🕉️  মনসা দেবী সম্পর্কে সনাতন ধর্মের তিনটি প্রধান শা...
16/08/2023

💐🔱মনসার পূজায় পশুবলি বৈধ নাকি অবৈধ? 🚫
🕉️🚫✅🕉️
মনসা দেবী সম্পর্কে সনাতন ধর্মের তিনটি প্রধান শাস্ত্র, যথা- মহাভারতের আদিপর্ব, শ্রীব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের প্রকৃতিখন্ড ও দেবীভাগবত উপপুরাণের ৯ম স্কন্ধে আলোকপাত করা হলেও এই তিন শাস্ত্রের কোথাও মনসা পূজায় পশুবলি ন্যূনতম উল্লেখ পাওয়া যায় না। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে কিছু অপপ্রচারক নিজেদের অন্ধবুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে হঠকারিতা করার নিমিত্তে এই সমস্ত শাস্ত্র হতে দাবি করেন মনসা পূজা নাকি পশুবলির বিধান আছে!!

আসুন এ সমস্ত অপপ্রচারকগণের অপযুক্তিসমূহের খন্ডন দেখে নিই!!

---------অপপ্রচারকগণের দাবিঃ--------
শাস্ত্রের পূর্বাপর বাক্য গোপণ করে অপপ্রচারকগণ মূল শাস্ত্রের মাঝখান থেকে হুট করে যে সমস্ত শ্লোক তুলে এনে দাবী করে মনসা পূজায় পশুবলি প্রযোজ্য সে সমস্ত শ্লোক হলো-

নত্বা ষোড়শোপচারং বলিঞ্চ তৎপ্রিয়ং তদা।
প্রদদৌ পরিতুষ্টশ্চ ব্রহ্মাবিষ্ণুশিবাজ্ঞয়া।।
[শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ,প্রকৃতিখন্ড, ৪৬।১১৭; দেবীভাগবত ৯।৪৮।১১৪]
অনুবাদঃ
ব্রহ্মা বিষ্ণু ও শিবের আজ্ঞায় দেবেন্দ্র কর্তৃক মনসাদেবী ষোড়শোপচারে পূজিতা হইলে দেবরাজ তাহার প্রিয় বলি প্রদান করিলেন।

পঞ্চম্যাং মনসাখ্যায়াং দেব্যৈ দদ্যাচ্চ যো বলিম্।
ধনবান্ পুত্রবাংশ্চৈব কীর্তিমান্ স ভবেদ্ ধ্রুবম্।।
[ শ্রীব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ,প্রকৃতি খণ্ড,৪৬।৯ ; দেবীভাগবত ৯।৪৮।৯ ]
অনুবাদঃ
পঞ্চমী তিথিতে দেবী মনসাকে যে ব্যক্তি বলি প্রদান করে, সে ধনবান, কীর্তিমান এবং পুত্রবান হয়।


------------❤️অপযুক্তির খন্ডনঃ❤️-----------

প্রথমত অপপ্রচারকগণের দাবীকৃত শ্লোক দুটিতে কেবল 'বলি' শব্দের উল্লেখ আছে, কিন্তু কোথাও 'পশুবলি' শব্দের উল্লেখ নেই। এ সমস্ত অন্ধবুদ্ধি সম্পন্ন অপপ্রচারকগণ 'বলি' শব্দটি দেখলেই ভেবে বসেন সেখানে 'পশুবলি'-র কথা বলা হচ্ছে! কি হাস্যকর!!

দাবীকৃত শ্লোক দুটিতে 'বলি' শব্দ দ্বারা আসলে পশুবলিকে নির্দেশ করা হয়েছে নাকি সাত্ত্বিকী বলি তথা বিষ্ণুপ্রসাদ নিবেদন করার কথা বলা হয়েছে তা নিয়ে নিম্নে ক্রমান্বয়ে আলোচনা করা হলো-

বিশ্লেষণের সুবিধার্থে শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ ও দেবীভাগবত থেকে মনসা দেবী কি পরিচয় তা দেখে নেওয়া যাক-

🔴আত্মারামাচ সা দেবী বৈষ্ণবী সিদ্ধ যোগিনী।
ত্রিযুগঞ্চ তপস্তপ্ত্বা কৃষ্ণস্য পরমাত্মনঃ ॥
[ #শ্রীব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ,প্রকৃতি খণ্ড, ৪৫/৪ ও #দেবীভাগবত ৯/৪৭/৪]
➡️অনুবাদঃ
মনসা দেবী আত্মারামা ও 'বৈষ্ণবী' নামে বিখ্যাত আছেন। তিনি যুগত্রয় পরমাত্মা কৃষ্ণের প্রীতিকামনায় তপস্যা করিয়া সিদ্ধযোগিনী হন।

🔴শুদ্ধসত্ত্বস্বরূপা ত্বং কোপহিংসাবিবর্জিতা।
ন চ শপ্তো মুনিস্তেন ত্যক্তয়া চ ত্বয়া যতঃ ।।
ত্বং ময়া পূজিতা সাধ্বি জননী চ যথাদিতিঃ ।
[ #শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ,প্রকৃতি খণ্ড,৪৬।৩০ এবং দেবীভাগবত ৯।৪৮।৩০ ]
➡️অনুবাদঃ
দেবরাজ ইন্দ্র স্তুতি করলেন, " মনসা! তুমি শুদ্ধসত্ত্ব স্বরূপা ও হিংসা ক্রোধ বিবর্জিতা। যখন তুমি স্বীয় পতি জরৎকারু কর্তৃক পরিত্যক্ত হইয়াও সেই মুনিবকে শাপ প্রদান কর নাই, তখন তোমার ন্যায় শমগুণ সম্পন্না সাধ্বী আর কে আছে? হে দেবি ! আমার জননী অদিতির ন্যায় তুমি যে আমার পূজ্য হইয়াছ তাহার কিছুমাত্র সন্দেহ নাই।"

🔰এখানে স্পষ্টত মনসা দেবী একজন বৈষ্ণবী দেবী এবং তিনি শুদ্ধসত্ত্বস্বভাব এবং হিংসাবর্জিতা দেবী। একইভাবে শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের প্রকৃতিখন্ডের ১।৬৯, ৪৫।৯, ৪৫।১৫ ইত্যাদি শ্লোকে এবং দেবীভাগবতমের ৯।১।৭৪, ৯।৪৭।৯, ৯।৪৭।১৫ আদি শ্লোকেও মনসাদেবীকে বারংবার বৈষ্ণবীদেবী, বিষ্ণুভক্তা, বিষ্ণুপূজাপরায়না ইত্যাদি নামে স্তুতি করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই একজন শুদ্ধসত্ত্বস্বভাব হিংসাবর্জিতা বৈষ্ণবীদেবীর পূজায় রক্তরঞ্জিত পশুবলির কোন প্রকরণই থাকতে পারেনা। তাই আলোচিত শাস্ত্রে অর্থাৎ শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে স্পষ্টভাবে বৈষ্ণবীদেবীর পূজা যে পশুবলি ব্যতীত হবে তা বলা আছে –

🔴উৎসর্গকৰ্ত্তা দাতা চ ছেত্তা পোষ্টা চ রক্ষকঃ।
অগ্রপশ্চান্নিবদ্ধা চ সপ্তৈ তে বধভাগিনঃ ॥
যো যং হন্তি সতং হন্তি চেতি বেদোক্ত মেবচ।
কুৰ্ব্বস্তি বৈষ্ণবী পূজাং বৈষ্ণবাস্তেন হেতুনা ॥
[ #শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, প্রকৃতিখন্ড, ৬৫।১১,১২ ]

➡️অনুবাদঃ
"উৎসর্গকর্তা, দাতা, ছেত্তা, পোষক, রক্ষক ও অগ্রপশ্চাৎ নিবন্ধা এই সপ্তজন পশুবলির বধভাগী বলিয়া নির্দিষ্ট আছে। বেদে নির্দিষ্ট আছে, যে যাহাকে বিনাশ করে সে তাহার হন্তা(হত্যাকারী) হয়। এইজন্য বৈষ্ণব মহাত্মারা বৈষ্ণবী দেবীর সাত্ত্বিকী পূজা করিয়া থাকেন।"

🔰এখন কেউ যদি এ শাস্ত্রবিধি পরিত্যাগ করে বৈষ্ণবীদেবীর পূজায় পশু বলি দেয় তবে অবশ্যই ভীষণ পাপের ভাগী হতে হবে -একথাও উক্ত শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে -

🔴"বলিদানেন.. হিংসাজন্যঞ্চ পাপঞ্চ লভতে নাত্রসংশয়ঃ॥"
[ #শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, প্রকৃতিখন্ড, ৬৫।১০ ]
➡️অনুবাদঃ
পশুবলিতে হিংসার জন্য মানবগণের যে পাপসঞ্চার হয় তাহাতে আর সন্দেহ নাই ॥

উক্ত শাস্ত্রে তাই বৈষ্ণবীদেবীগণকে শুদ্ধসাত্ত্বিক রীতিতে পূজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-

🔴"জীবহত্যা বিহীনায়া বরা পূজাচ বৈষ্ণবী ॥"
[ #শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, প্রকৃতিখন্ড, ৬৪।৪৭]
➡️অনুবাদঃ
বৈষ্ণবীদেবীর পূজায় জীবহত্যা হয় না- তাই এটি শ্রেষ্ঠ পূজা ॥

😡কিন্তু অপপ্রচারকগণ এ সমস্ত শ্লোক গোপন রাখে নিজেদের হীন স্বার্থসিদ্ধি তথা পশুবলির মৌসুমী ব্যবসা ও জিহ্বা লালসা মিটানোর লোভে মন্দিরের পবিত্র স্থানকে কসাইখানাতে পরিনত করেন😡

❇️তাহলে এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, মনসা পূজায় ইন্দ্র কর্তৃক পূজা উপাচার সমেত যে ‘বলি’ দেওয়ার কথা শাস্ত্রে বলা হচ্ছে তা যদি 'পশুবলি' না হয়, তবে এখানে 'বলি' দ্বারা কি বুঝাচ্ছে?

🌹নারায়ণাবতার শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস প্রণীত পদ্মপুরাণ এর উত্তরখণ্ডের ২৫৩ নং অধ্যায়ে মনসা দেবীর গুরু ভগবান শ্রীশিব দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিষ্ণুপ্রসাদ বা কৃষ্ণপ্রসাদকেই বলিরূপে নিবেদনের বিধান দিয়েছেন স্পষ্টভাবে এবং এও বলেছেন যারা উক্ত স্থানে পশুহিংসা করেন তারা নিশ্চিতরূপে নরকভাগী হয়-

🔴শ্রী শিব উবাচঃ
হরের্ভুক্তাবশেষেণ বলিস্তেভ্যো বিনিক্ষিপেৎ।
হোমঞ্চৈব প্ৰকুব্বীত তচ্ছেষেণৈব বৈষ্ণবঃ ।
হরের্নিবেদিতং সম্যগদেবেভ্যো জুহুয়াদ্ধবিঃ॥
পিতৃভ্যশ্চাপি তদ্দদ্যাৎ সর্ব্বমান্নত্যমাপ্নুয়াৎ।
প্রাণিনাং পীড়নং যত্তদ্বিদুষাং নিরয়ায় বৈ ॥
অদত্তঞ্চৈব যৎকিঞ্চিৎ পরস্বং গৃহ্যতে নরৈঃ ।
স্তেয়ং তদ্বিদ্ধি গিরিজে নরকসৈব কারণম্ ॥
[ #পদ্মপুরাণ, উত্তরখন্ড, ২৫৩। ১০৭-১০৯ ]
➡️অনুবাদঃ
ভগবান শিব বললেন, "হরির ভুক্তাবশেষ (কৃষ্ণপ্রসাদ) দ্বারা দেবতাদের বলিপ্রদান করবে, ভুক্তাবশিষ্ট(কৃষ্ণপ্রসাদ) হবি দ্বারা দেবতাদের হোম করবে । হরিকে সম্যক্‌রূপে নিবেদন করে পরে দেবগণকে হবি হোম করবে। পিতৃগণকেও তা-ই প্রদান করবে। এইরূপে কৃতকাৰ্য্য সমস্তই অনন্ত ফলপ্রদ হয়ে থাকে। প্রাণিগণের পীড়নকে বিজ্ঞগণ নরকভোগের কারণ হিসেবে ব্যাখা করে থাকেন। মনুষ্য নিজের জীবনে অন্যজীব কর্তৃক যে নিষ্ঠুর ব্যবহার আশা করে না, সে নিষ্ঠুর আচরণ যদি সে অন্য জীবের উপর করে,তবে হে গিরিজে! সে মনুষ্য অবশ্যই নরকভোগী হবে।"

❇️শুধু মনসাদেবীর গুরু ভগবান শিবই নয়, মনসাদেবীর আরাধ্য পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণও যজ্ঞে পশুবলির নিন্দা করেছেন-

🔴শ্রীকৃষ্ণ উবাচ-
তে মে মতমবিজ্ঞায় পরোক্ষং বিষয়াত্মকাঃ।
হিংসায়াং যদি রাগঃ স্যাদ্‌যজ্ঞ এব ন চোদনা।
হিংসাবিহারা হ্যালব্ধৈঃ পশুভিঃ স্বসুখেচ্ছয়া।
যজন্তে দেবতা যজ্ঞৈঃ পিতৃভূতপতীন্‌খলাঃ৷৷
[ #শ্রীমদ্ভাগবতম, স্কন্ধ-১১ অধ্যায়-২১, শ্লোক ২৯-৩০]
➡️অনুবাদঃ
"পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বললেন- যদি পশু হিংসা এবং মাংসভক্ষণ কার্যে অনুরাগ হেতু তার ত্যাগ সম্ভব না হয় তাহলে যজ্ঞ সম্পাদনের মাধ্যমে সেটি গ্রহণ করো—এই বিধান কখনই উত্তম বলে স্বীকৃত হতে পারে না; তাকে কেবল স্বাভাবিক প্রবৃত্তির ভিন্ন রূপে স্বীকৃতি মাত্র বলা চলে। সন্ধ্যা বন্দনাদিসম অপূর্ব সুন্দর বিধি ওই সকল বিধির তুলনায় বহুলাংশে প্রকৃষ্ট। এইভাবে আমার অভিপ্রায় না জেনে বিষয়লোলুপ ব্যক্তিগণ পশুহিংসায় মত্ত হয়ে পড়ে। তারা কপটতা হেতু ইন্দ্রিয়তৃপ্তির অভিলাষে পশুহিংসা দ্বারা প্রাপ্ত মাংস দ্বারা যজ্ঞ সম্পাদন করে দেবতা, পিতৃপুরুষ ও ভূতপতি আদি যজনের অভিনয়-ক্রিয়া করে থাকে৷৷"

❇️এমনকি বেদও যজ্ঞে ছাগবলি,পশুবলিকে প্রশ্রয় দেয় না, বেদে বীজ দ্বারা যজ্ঞ করার নির্দেশ। মহাভারতের আদিপর্বে মনসাদেবীর উপাখ্যান পাওয়া যায়। সে মহাভারতের শান্তিমহাপর্বে যজ্ঞে ছাগবলি,পশুবলি যে বেদবিরুদ্ধ তার স্পষ্টত উল্লেখ আছে-

🔴ঋষয় উচুঃ
বীজৈর্যজ্ঞেষু ষষ্টব্যমিতি বৈ বৈদিকী শ্ৰুতিঃ।
অজসংজ্ঞানি বীজানি ছাগং নো হন্তমর্হথ।।
নৈষ ধৰ্ম্মঃ সতাং দেবা যত্ৰ বধ্যেত বৈ পশুঃ ।
ইদং কৃতযুগং শ্রেষ্ঠং কথং বধ্যেত বৈ পশুঃ ॥
[ #মহাভারত, শান্তিপর্ব, ৩২৩।৭-৮ ]
➡️অনুবাদঃ
ঋষিগণ বলিলেন—'বীজ দ্বারা যজ্ঞ করিবে' ইহাই বেদে শুনা যায়। অতএব 'অজ' শব্দের অর্থ বীজ; সুতরাং আপনারা ছাগবধ করিতে পারেন না।। হে দেব! যজ্ঞে পশুবধ সজ্জনের ধর্ম্ম নহে। এটা শ্রেষ্ঠ কৃতযুগ। কি প্রকারে পশুবধ করা হইবে? (অতএব যজ্ঞে পশুবলি হতে পারে না)

❇️এখানে পুনরায় স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়, মনসাদেবীর আরাধ্য পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ এবং গুরু ভগবান শিব যজ্ঞে পশুবলির নিন্দা করেছেন এবং ভগবান শিব কৃষ্ণপ্রসাদকেই দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলিরূপে নিবেদনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই অপপ্রচারকগণের দাবীকৃত শ্লোকে বিষ্ণু-শিবাদি দেবতা কর্তৃক নির্দেশপ্রাপ্ত দেবরাজ ইন্দ্রের মনসাপূজায় যে বলি তা পশুবলি নয়। উক্ত দাবীকৃত শ্লোকে 'বলিঞ্চ তৎপ্রিয়ং' শব্দ দ্বারা মনসাদেবীর প্রিয় ভোজ্য কৃষ্ণপ্রসাদকেই বুঝানো হয়েছে।

❇️উপযুক্ত শাস্ত্রযুক্তির আলোকে অপপ্রচারকারীগণের দাবীকৃত শ্লোক দুটির ব্যাখাপূর্ণ সঠিক ভাবানুবাদ দাঁড়ায়-

🔴নত্বা ষোড়শোপচারং বলিঞ্চ তৎপ্রিয়ং তদা।
প্রদদৌ পরিতুষ্টশ্চ ব্রহ্মাবিষ্ণুশিবাজ্ঞয়া।।
[ #শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ,প্রকৃতিখন্ড, ৪৬।১১৭ এবং দেবীভাগবত ৯।৪৮।১১৪]
➡️অনুবাদঃ
ব্রহ্মা বিষ্ণু ও শিবের আজ্ঞায় দেবেন্দ্র কর্তৃক মনসাদেবী ষোড়শোপচারে পূজিতা হইলে দেবরাজ মনসাদেবীকে তাহার প্রিয় বস্তু তথা কৃষ্ণপ্রসাদ বলিরূপে প্রদান করিলেন।

🔴পঞ্চম্যাং মনসাখ্যায়াং দেব্যৈ দদ্যাচ্চ যো বলিম্।
ধনবান্ পুত্রবাংশ্চৈব কীর্তিমান্ স ভবেদ্ ধ্রুবম্।।
[ #শ্রীব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ,প্রকৃতি খণ্ড,৪৬/৯ এবং দেবীভাগবত ৯।৪৮।৯ ]
➡️অনুবাদঃ
পঞ্চমী তিথিতে দেবী মনসাকে যে ব্যক্তি 'কৃষ্ণপ্রসাদ' বলিরূপে প্রদান করে, সে ধনবান, কীর্তিমান এবং পুত্রবান হয়।

আমাদের সমাজে ধর্মান্ধ কিছু মানুষ লোকজ সাহিত্য 'মনসা মঙ্গল' নামক মঙ্গল কাব্যকে শাস্ত্র ভেবে সেখান থেকে চাঁদ সদাগরের মনসা পূজায় পশুবলির উল্লেখ করেন। কিন্তু তাদের জেনে রাখা প্রয়োজন 'মনসা মঙ্গল কাব্য' ভগবান কিংবা কোন মুনি ঋষি প্রদত্ত শাস্ত্র নয়। এটি চট্টগ্রামের ২২ জন রসিয়াল কবি রচিত পঙ্কিল সাহিত্য মাত্র, যার সাথে প্রামাণিক শাস্ত্র সমূহের কোন মিল নেই। উলটো গ্রামীন মানুষদের মনরঞ্জন করতে সেখানে দেবাদিদেব শিবকে লম্পট, ভাঙখোর, হস্তমৈথুনকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা কখনোই প্রামাণিক শাস্ত্রানুকূল নয়। আবার দূর্গাদেবী ও মনসা দেবীর মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক যা দেখানো হয়েছে তা অত্যন্ত হাস্যকর। এই 'মনসা মঙ্গল' কাব্যের নাম চেঞ্জ করে নাম দেওয়া হয়েছে পদ্মাপুরাণ। যখন মানুষ এটা আর কিনছে না, তখন এটার নাম 'পদ্মপুরাণ' দিয়ে ছাপানো হচ্ছে। এটা কোন শাস্ত্র নয়। মূর্খ কতিপয় বাঙ্গালী এসব পঙ্কিল সাহিত্যকে শাস্ত্র ভাবে।
মনসাদেবীর প্রকৃত পরিচয় জানতে হলে মহাভারতের আদিপর্ব ও ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে যেভাবে উল্লেখ আছে, সেভাবে জানতে হবে। চাঁদসদাগরের পুরো কাহিনীটাই অবান্তর, হাস্যপ্রদ ও কাল্পনিক। যেমন: মনসামঙ্গল নামক কাব্যে বলেছে, চাঁদ সদাগর ডান হাতে দূর্গা দেবীর পূজা করতো। তাই তিনি মনসা পূজার সমস্ত কার্য বাঁ-হাতে করতো। তিনি ৯ দিনে বাম হাতে ৯ লক্ষ পশুবলি দিয়েছিলেন! কিন্তু গাণিতিক হিসেবে সেটা অসম্ভব। ১ দিন= ৮৬৪০০ সেকেন্ড। অর্থাৎ, ১ দিনে ১ লক্ষ সেকেন্ডও হয় না। ফলে প্রতি সেকেন্ড নিজ হাতে ১টা করে বলি দিলেও ৯ দিনে ৯ লক্ষ বলি দেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। ব্যাপারটা হাস্যকর ও অযৌক্তিক।

❇ভক্ত গনকে সর্প দংশন হতে সর্বদা রক্ষা করেন মাতা মনসা। তিনি জগন্মাতা। মাতা কখনো তার কোন সন্তানের রক্ত চান না। সমস্ত ভারতবর্ষজুড়ে মাতা মনসার শুদ্ধসাত্ত্বিকী পূজা হয়ে থাকে। কিন্তু যবন সান্নিধ্যে পীর সমাজ কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট সহ বেশ কয়েক অঞ্চলে ধর্মকে পুঁজি করে অহেতুক পশুবলি নামক কুপ্রথা চলে আসছে, যা কোন মতেই শাস্ত্রীয় নয়। এরূপ ধর্মের নামে রক্তরঞ্জিত অসাত্ত্বিকী পূজা ইহলৌকিক ও পরলৌকিক অমঙ্গল-ই ডেকে আনে।

❇️ তাই পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদগীতায় স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন -
🔴ঊর্ধ্বং গচ্ছন্তি সত্ত্বস্থা মধ্যে তিষ্ঠন্তি রাজসাঃ।
জঘন্যগুণবৃত্তিস্থা অধো গচ্ছন্তি তামসাঃ।।
[ #শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১৪/১৮ ]
➡️অনুবাদঃ
সত্ত্বগুণ-সম্পন্ন ব্যক্তিগণ ঊর্ধ্বলোকে গমন করে, রজোগুণ-সম্পন্ন ব্যক্তিগণ মধ্যে নরলোকে অবস্থান করে এবং জঘন্য গুণসম্পন্ন তামসিক ব্যক্তিগণ অধঃগতি প্রাপ্ত হন।।


- ব্রজ সখা
গৌরধাম নন্দনকানন
( ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ )

🙏‼️জয় জয় কৃষ্ণভক্তা, শিবশিষ্যা, সর্পভীতি নাশিনী বৈষ্ণবী মাতা মনসা‼️🙏

Address

Mayapur Nadia
Mayapur

Telephone

+8801630818320

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Surya Pati Raghava Dash posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share