26/12/2024
উপলব্ধি
কলমে : দীপঙ্কর সেনগুপ্ত
রচনাকাল : ২৬-১২-২০২৪
ভাবছি কি লিখবো? কেন লিখবো? আপন অনুভূতি! নাকি আপন প্রেমের কথাকলি? ভাবতে ভাবতে বুকের বামদিকে একটা চিলিক দিলো। হালকা ব্যাথা অনুভব করলাম। ডান হাত দিয়ে বুকটা চেপে ধরলাম। একটু ডলে দিলাম। একটু আরাম হলো।
বুঝলাম হৃদপিন্ডটা ঢুক পুক ঢুক পুক করছে। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগে। অতি মেরামত করা হয়েছিল। ডাক্তার বলেছিলো মেরামত না করলে ছয় মাস আর মেরামত করলে বেশ কয়েকবছর। অনেক নিয়ম মেনে চলা। আহারে রাশ টানা। কোনো রকম নেশা দ্রব্য বারণ। মেনে চলেছি আজও।
হঠাত মনে হলো ঈশ্বরের সৃষ্টি এই দম দেওয়া ব্যাটারি নিয়ম মেনে টিক টিক করে চলছে। সেটির মেরামত হলো। আবার কবে যে বিগরবে সেটা সৃষ্টি কর্তা জানেন।
কিন্তু আসলে কেউ জানে না এই হৃদপিন্ডে রয়েছে এক অদৃশ্য মন। সে কখন কাঁদে, কখন হাসে, স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন গড়ে ভাঙে, কখন প্রেমের ডাকে সারা দেয়, কখন হিংস্র হয়ে ওঠে। কত রকমের রকমারি রং ছড়ায়!
কল্পনার জগতে নিয়ে যায়। চোখে রঙিন আলো ছড়ায় আবার দয়ায় সে ব্যতিব্যাস্ত হয়ে ওঠে। করুনার সাগরে ডুব দেয়। সব ভালো মন্দের স্মৃতি রেকর্ড করে রাখে শুধু আমাকে শোনাবার জন্য। যন্ত্রণাগুলো লুকিয়ে রাখতে চায়। অজস্র গোপন ইচ্ছে, গোপন কথা সে চিরদিনের জন্য গোপন রেখে দেয়।
ভাবছো পাগলের প্রলাপ? হয়ত তাই। যখন আকাশে মেঘ করে বৃষ্টির জন্য। ময়ূর পেখম মেলে ধরে নাচতে থাকে। ঠিক তেমনই মন নাচতে থাকে নতুনের আগমনে। নতুনকে আঁকড়ে ধরবার জন্য।
অথচ সে যখন ভূমিষ্ঠ হয়েছিল, একা কিন্তু উত্তাপ চেয়ে ছিল যা সে তার গর্ভধারিণীর কোল আর বুকের দুধে পেয়েছিলো। সে শৈশব থেকে তারুন্য সান্নিধ্য চেয়েছিলো মা বাবা ভাই বোন ও আত্মীয়দের কাছে। এক এক করে সে ত্যাগ করে সান্নিধ্য পায় তার সহধর্মিনী র, পরবর্তী তে সন্তানাদির সর্ব শেষে সেই শৈশবে ফিরে যেতে চায়।
কিন্তু মন চাইলেও শরীর আর সাথ দিতে চায় না। শরীরটা ক্রমশঃ নুয়ে পরতে থাকে। তবু সেই শরীরকে মন স্বপ্ন দেখায় আগামীকালের সুদিনের। রোগে জর্জরিত শরীর যেন ফিরে পেতে চায় তার যৌবন।
একদিন সেই মন এমন বিস্ফোরণ ঘটায় যে হৃদ স্পন্দনের ব্যাটারিটা আর কাজে করে না। মন বেরিয়ে যায় দেহ ছেড়ে খুঁজে ফেরে আর এক সদ্যজাত কোনো শিশুর শরীর।
উপলব্ধি বোধহয় এটাই।