10/05/2022
আমাদের কলেজে ফ্রেন্ড একটা ঘটনা আমাকে নারিয়ে দিয়েছে, আমরা খুব ভালো বন্ধ ছিলাম, কিন্ত জীবন কি,
জীবনে কিছু সত্য বাস্তবতা গুলো কেমনভাবে সামনে এসে দাঁড়ায়। ,যে রিলেশন এর জন্য আপনি দিশেহারা আপনার নাভির শ্বাষ ওঠে , যে পরিবারের সদস্যদের জন্য আপনার সবথেকে কন্টিবিউশন, জার জন্য আপনার এক মুহূর্তের বিশ্রাম নেই , কিন্ত আপনি কি ভাবছেন যে আপনি না থাকলে পরিবারের কী হবে । আসুন আপনাদের কে একটা স্বতী ঘটনার মুখোমুখি দারকাই। আমার একবান্ধবী ঘটনা।
আমার এক বান্ধবী রিমি চার মাস আগে multiple organ failure এর কারণে মারা যায়।
রিমির সাথে যতক্ষণ কথা হতো সারাক্ষণ বর আর বাচ্চাকে নিয়েই কথা বলত। ওরা কি করতে ভালোবাসে, কি খেতে ভালোবাসে, একসাথে কোথায় ঘুরতে গেছে, পরিবারের সবাই ওকে কত ভালোবাসে ইত্যাদি ইত্যাদি। বরকে ছাড়া তো ওর দুনিয়া অন্ধকার ছিল। সামান্য একটা কুর্তি কিনলেও সেটা বরের পছন্দের কিনত। বাড়ির সব খুঁটিনাটির দিকে নজর ছিল ওর। সবসময় বলত, "আমি না থাকলে আমার সংসার ভেসে যাবে..!" কখনো সখনো ভাবতাম, একবারে ও সংসারের প্রতি অন্ধ, ওকে আমি বলতাম তোর নিজের একটা লাইফ আছে।
যাইহোক..সকালে ওর বরকে ফোন করেছিলাম। ওরা কেমন আছে, বাচ্চাটা কেমন আছে সেটার খোঁজ নেওয়ার জন্য। ভাবছিলাম রিমির অনুপস্থিতে হয়তো ভীষন ভাবে ভেঙে পড়েছে। ঘর, অফিস সবদিক সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে বেচারা, তারপর ছোট বাচ্চা সামলানো। কি বিধ্বস্ত অবস্থায় না আছে কে জানে।
ফোনটা বাজছে..প্রায় 20সেকেন্ড পর ফোনটা ধরলো। -"হ্যালো!"(দেখি ভীষন হাফাচ্ছে। কি কষ্ট লাগলো শুনে।)
-"কেমন আছো দাদা?"
-"হ্যাঁ বলো। ভালো আছি। তোমরা সবাই কেমন আছো?"
-"সবাই ভালো আছে। এত হাফাচ্ছ যে, শরীর খারাপ নাকি?"
-"আরে না না, শরীর খারাপ হতে যাবে কেন? সকালে আশেপাশের কিছু বন্ধুদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলি। তাই জন্য আরকি!"
-"আচ্ছা! গুড্ডি ভালো আছে?"
-"হ্যাঁ দিব্যি আছে। ওর জন্য 24ঘণ্টার একটা আয়া রেখে দিয়েছি। উনিই রান্না করে দেন। আর বাজারটাও করে দেন। বেশ ভালো রান্না করেন, মুখে লেগে থাকার মতন।"
-"আচ্ছা! মাসিমা কেমন আছেন?"
-"মা আগের চেয়ে ভালো আছেন। Recently যোগা ক্লাসে জয়েন করেছেন।"
-"কলকাতাতেই আছো তো? ভাবছিলাম একদিন তোমাদের বাড়ি যাবো।"
-"না আমি তো হায়দ্রাবাদ চলে এসেছি ট্রান্সফার নিয়ে। ২ মাস হলো। কলকাতায় এলে তোমাকে জানাবো, তখন এসো।"
-"আচ্ছা! কোনো অসুবিধা হলে অবশ্যই জানিও।"
-"নিশ্চয়ই। তবে সেরকম কোনো অসুবিধা হচ্ছেনা। আমি ভালো আছি, গুড্ডি ভালো আছে, মা ভালো আছে। জীবন আবার ছন্দে ফিরছে।"
-"বাহ বেশ। আচ্ছা আজ তাহলে রাখি। ভালো থেকো।"
-"তোমরাও ভালো থেকো।"
ফোনটা রাখলাম। বুঝতে পারলাম তরল জাতীয় কিছু একটা চোখ ছাপিয়ে গাল বেয়ে নেমে পড়ছে। হাতের উলটো পিঠটা দিয়ে সেটা মুছলাম। শুধুমাত্র পারিবারিক অসুবিধার কারণে ও কত reunions, কত অনুষ্ঠান মিস করতো। কিন্তু আজ ওর অনুপস্থিতিতে কোনোকিছুই থেমে যায়নি। জীবনচক্র চলছে..চলবে..
এই দুনিয়ার প্রত্যেকটা মেয়েকে কয়েকটা কথা বলতে চাই:
▪️নিজেকে ভালো রাখো, তবেই সবাইকে ভালো রাখতে পারবে।
▪️বন্ধুদের সাথে সময় কাটাও। ঘোরো, বেরাও, খাওয়াদাওয়া করো..অনেক আনন্দ করো।
▪️নিজেকে সময় দাও। নিজেকে সর্বোপরি মনে করো। নিজের প্যাশনকে নিয়ে বাঁচো।
▪️কারোর কথা না ভেবে অন্তত একবার নিজে যেটা করতে চাও সেটা করো।
▪️অন্যের মধ্যে নিজের খুশি খুঁজো না। নিজেই নিজেকে খুশি রাখার চেষ্টা করো।
▪️সবার তোমাকে প্রয়োজন। কিন্তু তোমার নিজের নিজেকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
▪️এই নশ্বর জীবনে কোনোকিছু স্থায়ী নয়। না আনন্দ, না দুঃখ। সেহেতু তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার পরিবারের জীবনচক্র থেমে যাবে, এটা ভাবার ভুল কখনোই করো না।