16/10/2025
জাপানি ভাষা শিক্ষায় বাংলাদেশ কেন এখনো পিছিয়ে?
Why Bangladesh Is Still Behind in Learning Japanese Compared to Nepal, Myanmar, and Vietnam
বাংলাদেশে জাপানি ভাষা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে, বিশেষ করে নেপাল, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের তুলনায়। তথ্যগুলোই সেই বাস্তবতা তুলে ধরে।
ভিয়েতনামে বর্তমানে প্রায় ১,৮০,০০০ এর বেশি শিক্ষার্থী জাপানি ভাষা শিখছে, আর মিয়ানমারে হাজারো প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এমনকি নেপালেও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে জাপানি ভাষা শিক্ষার পরিবেশ দ্রুত উন্নত হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে Japan Foundation-এর ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী মাত্র প্রায় ৯,৬০০ শিক্ষার্থী জাপানি ভাষা শেখার সঙ্গে যুক্ত। ভাষা শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও দক্ষ শিক্ষকের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম।
JLPT পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এ বৈষম্য স্পষ্ট। বাংলাদেশে JLPT পরীক্ষায় প্রতি সেশনে প্রায় ১০–১২ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, কিন্তু একই সময়ে মিয়ানমারে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০,০০০-এরও বেশি এবং ভিয়েতনামেও কয়েক গুণ বেশি। এর ফলে বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির সুযোগের জন্য তাদের ভাষাগত প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
মূল সমস্যাগুলো হলো:
• JLPT কেন্দ্রের সীমিত সংখ্যা (মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক)।
• পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও আধুনিক পাঠ্যসামগ্রীর অভাব।
• সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভাষা বিভাগের সীমিত পরিসর।
• গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় ভাষা শিক্ষার সুযোগ প্রায় অনুপস্থিত।
তবে আশা হারানোর কিছু নেই। বাংলাদেশে আগ্রহ বাড়ছে, এবং যদি আমরা —
✅ JLPT কেন্দ্র ও সিট সংখ্যা বৃদ্ধি করি,
✅ শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা জোরদার করি,
✅ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট সেক্টরে জাপানি ভাষা বিভাগ সম্প্রসারিত করি,
✅ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সারা দেশে শিক্ষা সহজলভ্য করি,
তাহলে খুব দ্রুত এই ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব।
জাপানি ভাষা শেখা শুধু একটি স্কিল নয় — এটি জাপানে পড়াশোনা, স্কলারশিপ, এবং গ্লোবাল ক্যারিয়ারের দরজা খুলে দেয়।
বাংলাদেশ এখন সেই দিকেই এগিয়ে যেতে পারে — যদি আমরা সম্মিলিতভাবে ভাষা শিক্ষার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করি।
— Aurora International Consultancy
(বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাগত সংযোগ গড়ে তোলার পথে)