16/06/2024
06/05/2024————-16/06/2024
দেশ ও বিদেশের সম্মানিত ভাই ও বোনেরা আসসালামু আলাইকুম । সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন । আজ 16/6/24 তারিখ আপনাদের ভাই ,বন্ধু কাজী শাহ আলমের দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার ৪০ দিন পূর্ণ হয়ে গেল। চিরাচরিত কথার মত “ দেখতে দেখতে সময় কত দ্রুত চলে যায় “ সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা ,দিন ,সপ্তাহ মাস, চলে গেছে ঠিকই সময়ের মত করে কিন্ত আমরা খুব একটা সহজে পার করতে পারছি না । এখনো বিশ্বাস করতে পারিনা ওনি আর কোথাও নাই আর চাইলেও আমরা দেখতে পারবো না । আল্লাহ দিয়েও পরীক্ষা নেয় , আবার নিয়েও পরীক্ষা নেয় । আল্লাহ দেয়া জিনিষটা যত সহজে গ্রহন করি ঠিক ততটাই অপ্রস্তুত থাকি নিয়ে নেয়ার পরীক্ষা গ্রহন করতে । আমাদের বেলাও তাই হচ্ছে । একসিডেন্টের খবর শুনে ৮ দিন পর ছুটে এসেছিলাম দেখতে ,দেখাও পেয়েছি কিন্ত পরিস্থিতি মেনে নেয়ার মত ছিলো না তাও মেনে নিয়েছি । যাই হোক বেচেঁ তো আছে আল্লাহর কাছে চাইলে সব ঠিক করে দিবে আল্লাহ সব পারেন । ওনার মত ছুটে চলা মানুষ থেমে যেতে পারে না । প্রথম এক বছর দেখা করাটা অনেক বেশি কস্টের ছিলো । কম্পানির কর্মকর্তার সাহায্যে দেখতে যেতাম ঠিকই জটিলতার কারনে দেখতে দিতো না তারপরও শান্তনা ছিলো গ্লাসের ঐ পাশে আছে তো আল্লাহ চাইলে দেখতে পারবো । শুরু হলো সবার কাছে দোয়া চাওয়া । আবার না চাইতেও অনেকে দোয়া করেছেন ওনার জন্য কান্না করেছেন ।এতো এতো দোয়া করেছেন যে , মনে হতো আল্লাহ এতো মানুষের দোয়া ফিরিয়ে দিবেন ? না ফিরিয়ে দেন নি আল্লাহ ।এ্যম্ভাসির সহায়তায় দেখতে পারার বিষয়টা আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন আলহাদুল্লিলাহ ! বাচ্চারাও হাসপাতালে ওদের বাবার সাথে শেষবারের মত সময় কাটাতে পেরেছে । যদিও তখন শেষ বার মনে হয়নি ।
আর ওনার প্রাণপ্রিয় সিনিয়র ভাইয়েরা , বন্ধু , ছোট ভাইয়েরা ওনাদের নিজেদের ব্যস্ত জিবন থেকে একটু ছুটি পেলেই দেখতে চলে এসেছেন নিয়ম করে । কেউ আসলে এতো খুশি হতেন একটু পর পর হাসপাতালের সব নার্সদের বলতেন যারা আসছেন তাদেরকে যেন একটু বেশি সময় দেন ওনারা যেন মন খারাপ না করেন ওনারাও হাসতে হাসতে আশ্বস্ত করতেন যে বসতে দিবেন ।
পরিবারটা ছড়ানোছিটানো ছিলো ঠিকই কিন্ত বাচ্চাদের সময় করে ফোনে দেখতেন পরামর্শ দিতেন বাবা ভালো হয়ে যাবো আশ্বস্ত করতেন সন্তানদের । রোজার মাসে সবার কাছে নিজের জন্য দোয়াও চাইলেন ।
কিন্ত কি থেকে কি হয়ে গেলো আবারো বেন্টিলেশন ।আমাকে সাথে আর না থাকার প্রস্তাব দিলো কতৃপক্ষ । শেষ মেষ বাসায় চলে আসতে হলো ।তারপর আবার ও প্রত্যেক দিন নিয়ম করে দেখতে যেতে পারতাম , পাশে থাকতে পারতাম । যেই সময়টায় যেতাম ওই সময়টায় অধির আগ্রহ নিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকত এদিকে হাসপাতালের ফর্মালিটিস শেষ করে ঢুকতে ঢুকতে ৫ মিনিট দেরি হলেও বলত এতো দেরি করছো কেন ? আরো আগে আসলে না কেন? ওদেরকে বলো না আমার বেন্টিলেশন খুলে দিতে ? মামুন ভাইকে বল কথা বলতে। রুনেল দাদাকে বল সাব্বিরকে বল আব্দুল্লাহ ভাইকে বল তোমাকে হাসপাতালে দেয়ার ব্যবস্থা করতে ।
এই হাসপাতাল ,ঐ হাসপাতালে ,এই সময়ে ঐ সময়েই হোক দেখতে তো পারতাম ।বাচ্চারা ওদের বাবাকে দেখতো ,ওনি বাচ্চাদের দেখতো ইশারায় কথা বলত । ছিলো তো দুনিয়াতে ।
এবার বাচ্চাগুলো বলত বাবা কান্না কইরো না আল্লাহ তোমার পরীক্ষা নিতেছে বাবা তুমি ভালো হয়ে যাবা টেনশন কইরো না আল্লাহ আছেন তো । আমরা আল্লাহর কাছে চাই তো বাবা তোমাকে । কিন্ত উপরওয়ালার ফয়সালায় এখন কোথায় আছেন ? কেমন আছেন ? আপন মানুষদের দেখতে চাওয়ার জন্য ব্যকুল হয়ে থাকে কিনা ? মায়াভরা চোখগুলো দিয়ে কাঁদে কি না ? কিছুই তো জানিনা ।
বাচ্চাগুলোর পাশে থাকতে চেয়েছিলো খুব , আল্লাহর কাছে বলতো আল্লাহ আমাকে দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও আমার পরিবারটা এক করে দাও ।আমি আর কয়েকটা বছর বাচ্চাগুলোকে দেখে যেতে চাই ওদের সাফল্য দেখে যাই ।
রাত জেগে কত কাতুতি মিনতি করে চোখের পানি যে ফেলছে । বলত আমাকে এইটুকু দিলে তো তোমার কিচ্ছু কম্বে না আল্লাহ । কিন্ত আমি না থাকলে আমার বাচ্চাগুলো মানুষিকভাবে ভেঙ্গে পরবে আল্লাহ তুমিতো সবার অভিভাবক । বাচ্চারা বাবার পরিস্থিতি মেনে নিয়েই সামনে আগাতে চাচ্ছিল । কিন্তু এরমাঝেই ওদের বাবার এইভাবে চলে যাওয়াটা ওদেরকে একদম আশাহীন করে দিয়েছে । বড় মেয়ে বলে এখন দুনিয়াতে আর কি করবো কি আছে আর আমাদের কে পরামর্শ দিবে এখন তাড়াতাড়ি চলে গেলেই ভালো । ছোট মেয়ে বলে বাবা চলে গেলে যে সবাই এতিম বলে এইটা কেন জানি সব কিছু এলোমেলো করে দেয় এইটা কেন করে দিলো আল্লাহ আমাদেরকে ? আল্লাহ কাছে কত চাইলাম বাবাকে । বিছানায় শুয়েই থাকুক তবুও থাকুক আমাদের বাবা । আমার শক্ত মনের বাচ্চাগুলো ভিতর ভিতর একদম ভেঙ্গে পরলো । এতো কঠিন লাগে উপরওয়ালার ফয়সালা । কিন্ত সব কিছু যে আমাদের মেনে নেয়া না নেয়ার উপর কিংবা আমাদের পরিকল্পনার উপর কিচ্ছু নির্ভর করে না ।
অনেক কথা বলতে চাইতো বলতো তোমার সাথে অনেক কথা বলতে চাই অনেক কথা বলার আছে কিন্ত কথা বলতে চাওয়ার চেস্টাটা ওনার অনেক সমস্যা হয়ে যেত তাই আমি বলতাম তোমার মুখের এইগুলো খুলে দিলে তুমি কথা বলবে আমি শুনবো । ওনি তখন উপরের দিকে ইশারা দিয়ে বলতো তা আর হবে না কিন্ত বিশ্বাসই করতাম না কথা না বলে এখনি চলে যাবেন ।
উপরওয়ালা দেশে নিয়েছেন পরিবারটা একসাথে হয়েছেও কিন্ত ওনি কিচ্ছু উপভোগ করতে পারলেন না ।ওনি দেখতেই পারলেন না যে ওনাকে কুরিয়াতে ওনার ভাই ,বন্ধু ওনাকে যেমন ভালোবাসা আদর সম্মান করেছেন ,
বাংলাদেশেও ওনার প্রাণপ্রিয় বন্ধুরা ওনাকে তেমনি পরম আদরের সাথে সম্মানের সাথে গ্রহন করেছেন যা কারো ভরা পরিবার থাকলেও এতোটা পাওয়ার সৌভাগ্য সবার হয় না এই ক্ষেত্রে ওনি অনেক অনেক সৌভাগ্যবান ।
দিন শেষে তিনটা জিনিষ ভেবে শান্তনা নিতে পারি যে
১। এতো কস্টের বেন্টিলেশন এক নিমিষেই খুলে দিয়েছে ,যেটার জন্য ভাষা না আমি নার্স ডাক্তারের কাছে ছুটাছুটি করেছি মামুন ভাইকে ,রুনেল দাদাকে , সাব্বির ভাইকে সময় অসয়ে বিরক্ত করেছি । এখন আর এতোগুলো নল মুখে লাগিয়ে রাখার কস্ট করে না এই ভেবে।
২।আমার জন্য আমার বাচ্চাদের জন্য অনেক দোয়া করেছেন যে আল্লাহ আমাদেরকে যেন ভালো রাখে।
৩। আমার আগের গুনা পরের গুনাহ যেন আল্লাহ মাফ করে দেন এবং আখিরাতে সকল হিসাব সহজ করে দিয়ে আমাদের পরিবারের সাথে একটা পবিত্র পূর্ণমিলনি করে যেন দেন । সংসারের সাথে না থাকতে পারার অপূর্ণতা রাহমানুর রাহিম যেন পূর্ণ করে দেন ।
সব শেষে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং ওনার জন্য দোয়া চাই ওনাকে আল্লাহ যেন সর্ব উত্তম জায়গায় রাখেন । কবরের আযাব ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করেন । সেই মহান দিনে যেন ওনার হিসাব সহজ করে দেন । আমরাও যেন ওনার আযাবের কারন না হই । সবার দোয়াতে আমার বাচ্চাদের রাখবেন ।আমিন