04/12/2016
----------------------
মেয়েটির আজ আইডির নামেরও পরিবর্তন হয়েছে। হয়তবা সেও এখন ভাল থাকার অভিনয়টা শুরুকরে দিছে।
কখন যে ওর ফ্রেন্ডলিস্টে ডুকে পড়লাম তা এখন আর বলতে পারছি না।
প্রতিদিন দু-একটা পোষ্ট চোখে পড়ত। পোষ্টগুলো কখনও আনন্দের ছিল না। পোষ্টগুলো পড়েই মনে হত মেয়েটির মনে হয়ত অনেক কষ্ট লুকায়িত আছে। না পাওয়ার একটা বেদনা মেয়েটিকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। মেয়েটিও হয়ত কাউকে ভালবাসত, কাউকে নিয়ে হাজার বছর বাঁচার রঙীন স্বপ্ন দেখত।কোন কারণে হয়ত স্বপ্নটা স্বপ্নই রয়ে গেল। সাহস করে একদিন এক পোষ্টে কমেন্টর্স করলাম। সাথে সাথে রিপ্লাইও পেলাম। এভাবেই প্রতিদিন কথা চলত, তবে মেসেজে নয় চলত কমেন্টর্স এর রিপ্লায়ে।
আমার কমেন্টর্সগুলো সবসময় হত উৎসাহ মূলক। আমি বুঝাতে চাইতাম যে চাইলেই সবি সম্ভব। একটা মানুষ চাইলেই ভাল থাকতে পারে। আর মানুষ কিন্তু অভিনয়টা খুব সুন্দর পারে।
আপনি অন্তত ভাল থাকার অভিনয়টা করার চেষ্টা করেন। হয়তবা অভিনয় করতে করতেই একদিন ভাল থাকাটা শিখে যাবেন।
আর ওনি সবসময় বলত, চাইলেও সব সম্ভব না। অনেক কিছু চেষ্টা করলেও হয়না।
হঠাৎ করেই লক্ষকরলাম একটা মেসেজ।
-জাস্ট থেংস আর কিছুনা।
-রিপ্লাইয়ে বললাম থেংস কেন?
-ওনি বললেন বোঝানোর জন্য।
আর সেদিন থেকেই শুরু হয় মেসেজ আদান প্রদান। আস্তে আস্তে আপনি থেকে চলে এলাম তুমিতে। প্রতিদিন অসংখ্য মেসেজ আদান-প্রদান হয় দুজনের মধ্যে। আমি সবসময় জানতে চাইতাম কিসে ওর এত কষ্ট? একদিন এক পোষ্ট চেখে পড়ল 'ফিলিং ক্রাই '। ঐদিন ওকে বলছিলাম একটা ফোন দাও ত। জিঙ্গেস করছিল কেন? বলছিলাম কান্নার শব্দ শুনতে, বিশ্বাস করেনি। ভাবছিল হয়ত ওর ফোন নাম্বার পাওয়ার জন্য হয়ত বলতেছি। যখন জিঙ্গেস করতাম কি কর? মাঝে মাঝেই বলত গানশুনি।
বলতাম গান গাইতে পার?
-হুম একটু একটু ।
আর আমার আগে থেকেই গান শুনার প্রতি ছিল অসম্ভব রকম ভাল লাগা। তবে ফোনে বা লেপটপে নয়। একদম মিউজিক ছাড়া, খালি গলায়। আমার একফ্রেন্ড ছিল মাঝে মধ্যে গান গেয়ে শুনাত। এখনও আছে তবে গান শুনা হয় না আর। একসময় মনে হয় ওকে গান শুনাতে বললে হয়ত কিছুটা বিরক্ত হয়। তাই অনেকদিন যাবৎ এই ফালতু আবদার টা আর করিনি।
তবে সেই ছিল আমার সবথেকে পছন্দের শিল্পী।যদিও বা আমার মত বড় ফ্যান হয়তবা তার আর নেই।
যাই হওক তাকেও বলতাম গান শুনানোর জন্য, কিন্তু সে ভাবত আমার মূল উদ্দেশ্য হয়ত ফোন নাম্বার নেওয়া। যখন বয়ফ্রেন্ড প্রসঙ্গে কথা তুলতাম তখনি সে খুব ক্ষেপে যেত। ওর হয়ত এই বিষয়টা প্রতি অনেক ঘৃনা আছে। কখনও কারণটা জিঙ্গেস করা হয়নি।
অনুমান করে নিয়েছিলাম। ফেমেলিগত দিকে সে একদমি বন্ধী। ইচ্ছামত কিছুই করতে পারে না। আমার কাছে সবকিছু খুলে বলে। সে চায় স্বাধীনতা। একটু নির্মল বাতাস অনেকটা খোলা আকাশ। যেখানে সে ইচ্ছেমত দৌড়াতে পারবে, পারবে প্রাণ খুলে চিৎকার করতে। যেখানে থাকবে না ওকে বাধা দেওয়ার মত কেউ।
ইস যদি পারতাম ওকে একটু মুক্তি দিতে !
হয়তবা চাইলেও সম্ভব না।
ইদানিং ওর প্রতি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়তেছি । মাঝে মাঝেই মনে হয় ভাললাগে বা ভালবাসি কথাটা বলে
ফেলি। অনেকবার বলতেও চেয়েছি, কিন্তু আমি আমার বিবেকের কাছে যে বন্ধী। হয়তবা এটা কেবল মাএ ওর প্রতি ভাললাগা বা আন্তরিকতা। যে আমাকে এতটুকু বিশ্বাস করে তার সব কথা আমার সাথে শেয়ার করল, আর আমি জেনে শুনে তার ঘৃনিত একটা বিষরের প্রতি কেমনে তাকে প্রস্তাব করি!
থাকনা আমার ভাললাগা বা ভালবাসাটা না বলায়। আর নিজেকেউ কন্টোল করা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে দিন দিনে। তাই ভাবছি আনফ্রেন্ড করে দিব। যদিও অনেকটা কষ্ট হবে। তাহলে হয়ত ওর নামের সাথে নীল ফোঁটা চলে যাবে একেবারে।
হয়ত বা প্রতিদিনের মত খোঁজ করব সে লাইনে আছে কিনা ? হয়তবা লাইনে পাবনা জেনেও ওকে খুঁজার ব্যার্থ চেষ্টা করব। হয়ত বা কোন এক নির্জন একাকিত্বে পুরুনো সেই মেসেজ গুলো পড়ে মনের মধ্যে কল্পনার এক জগত সৃষ্টি করব, যেখানে ওর অজান্তেই বসবাস হবে আমাদের।
সাথে না থাকলেও মনে মধ্যে রয়ে যাবে সে। প্রেম কি পাশে থেকেই হয়?
স্পর্শ বিহীন প্রেমও ত হয়। আমার প্রেমেটা না হয় অসমাপ্তই থেকে গেল।
তবে চাই ও ভাল থাকুক সবসময়,ওর জীবনে এমন কেউ আসুক যে আমার থেকেও বেশি ওর ভাল চাইবে,ওকে ভালবাসবে। তাকে তার অতীত ভুলিয়ে স্বাধীন একটা ভবিষ্যত উপহার দিবে।