25/04/2026
বিদেশে বাজার করতে গেলে প্রথম দিনটাই আপনাকে বুঝিয়ে দেবে, আপনি আসলে কতটা “নিজে নিজে” চলতে পারেন।
আমি এখনো মনে করতে পারি, প্রথম যখন সুপারশপে ঢুকেছিলাম, কী কিনবো, কত লাগবে, কোনটা সস্তা - কিছুই পরিষ্কার ছিল না। দেশে থাকলে মা বলে দিত, “এটা নিয়ে আয়, ওটা লাগবে না।” এখানে? কেউ নেই। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়।
বিদেশে বাজার মানে শুধু জিনিস কেনা না, এটা একটা স্কিল। আপনি কীভাবে টাকা ম্যানেজ করছেন, কীভাবে প্রয়োজন আর চাহিদা আলাদা করছেন - সবকিছু এখানে শেখা যায়।
প্রথম কিছুদিন আপনি হয়তো ভুল করবেন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনবেন, বাজেটের বাইরে চলে যাবেন, বা এমন কিছু কিনবেন যেটা খেতেই পারবেন না। কিন্তু আস্তে আস্তে আপনি বুঝতে শুরু করবেন - কোন ব্র্যান্ড ভালো, কোনটা সস্তা, কোথায় অফার চলে, কখন কিনলে লাভ।
একটা সময় পরে দেখবেন, আপনি লিস্ট বানিয়ে বাজারে যাচ্ছেন। আগে থেকেই হিসাব করে নিচ্ছেন, এই সপ্তাহে কত খরচ হবে। ডিসকাউন্ট দেখলে বুঝতে পারছেন, এটা আসলেই লাভজনক কিনা।
আর সবচেয়ে বড় জিনিস - এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই আপনাকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট করে তোলে। আপনি আর কারো উপর নির্ভরশীল থাকেন না।
বিদেশে থাকার রিয়াল লাইফটা আসলে এই ছোট ছোট কাজগুলোর মধ্যেই লুকানো। ক্লাস, পার্টটাইম জব, ঘোরাঘুরি - সবকিছু আছে, কিন্তু দিনের শেষে এই বাজার করা, রান্না করা, খরচ সামলানো - এগুলোই আপনাকে যা শেখায়, সেগুলো বিয়ের পরে সংসার চালাতে হেল্প করে।
আজকে আপনি যদি একা বাজার করতে পারেন, নিজের খরচ সামলাতে পারেন, তাহলে আপনি আসলে শুধু বিদেশে থাকছেন না, নিজের লাইফটাও নিজের মতো করে চালাতে শিখছেন।
আপনার যে বন্ধুরা বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তাদেরকে মেনশন দিতে পারেন। হয়তো এই রিয়াল অভিজ্ঞতাটা তাদের কাজে লাগবে।