Hati sakiti

Hati sakiti Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Hati sakiti, Business service, Kuala Lumpur.

23/12/2018

এলাকার যে ছেলেটি কখনো খারাপ কাজ বা নেশা করে নি,
আজকে সে এখন নাম কড়া নেশাখোর আর খারাপ কাজে লিপ্ত। যে ছেলেটি সিগারেটে থাকা নিকোটিনের ধোঁয়া সহ্য করতে পারতো না,
আজ সে সেই নিকোটিন তার চলার পথের সঙ্গী।
সে এখন প্রতি রাতেই ছাদের কোণে গিয়ে নিকোটিনের আগুনে নিজেকে পুড়তে বসে।

যে ছেলেটি কলেজ, কোচিং, কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে সবাইকে মাতিয়ে রাখতো, আজ সে একদম চুপ।

কারো সাথে কোনো কথা বলে না সব সময় একা থাকে।
যে ছেলে অন্ধকার কে এবং কালো জিনিস অপছন্দ করতো,
আজ সে শপিং এ গেলে সবথেকে আগে কালো রঙটাকে চয়েজ করে আর প্রায় সময়টাই অন্ধকারের মধ্যে থাকতে চায়।
এছাড়াও আরো অনেক ঘটনা আছে যা আমাদের চারপাশে ঘটে চলছে।
হয়তো কারোটা প্রকাশ পায় আবার কারো টা প্রকাশ পায় না।
সমাজের ছোট বড় প্রত্যেকেই ভাবে হয়তো খারাপ সঙ্গ পেয়েই ভালো খারাপ হয়েছে।
এভাবেই আমাদের সামনে ঘটে যাওয়া কর্মকাণ্ড গুলোর প্রতিক্রিয়া জানাই।
প্রতিক্রিয়া গুলো হয় সাধারনত এরকমঃ-
★ ছেলেটা ভালো ছিল, কিন্তু এখন রোজ সিগারেট খায়।
★ ছেলেটা একদম নষ্ট হয়ে গেছে, রোজ মারপিট আর নেশা করে।
★ এই ছেলে ছোট থেকে অনেক সম্মান করতো, কিন্তু এখন সামনে বসে সিগারেট ধরায়।
★ ছেলেটা খারাপ হবে কখনোই ভাবি নি।…. ইত্যাদি।
আমরা ভেবে থাকি এসব ছেলেগুলো এভাবে নষ্ট হওয়া আর বিগড়ে যাওয়ার
পিছনে খারাপ সঙ্গ একমাত্র দায়ী।
কিন্তু কখনো কি জানতে চেয়েছি বা চেয়েছেন তাদের এই খারাপ হওয়ার
পিছনের কারনটা। কিসের জন্য তারা এ পথে এসেছে…??
একটা ছেলে শুধু খারাপ সঙ্গ পেয়ে নেশার জগতে পা দেয় না।

এর পিছনে জড়িয়ে থাকে পারিবারিক সমস্যা না হয় কাছের মানুষের দেয়া কষ্ট আর অবহেলা।
আমাদের সমাজের প্রায় অর্ধেকের বেশি ছেলেরা নেশায় আসক্ত হয় প্রেম বিচ্ছেদে। আর অল্প কিছু ছেলেরা হয় পারিবারিক কারনে।

তখন এরা বেঁচে থাকার জন্য এবং পুরাতন স্মৃতি গুলো মুছে ফেলার জন্য নেশার জগতে পা দেয়।
আচ্ছা কতটা কষ্ট পেয়ে একটা ছেলে তার চোখের পানি ফেলে…!!
হ্যাঁ, আপনাকেই জিজ্ঞাস করছি যিনি বা যে এই গল্পটাকে পড়ছেন।

আমার জানা মতে, একটা ছেলেকে কখনো আপনি সামনে বসে তেমন একটা কান্না করতে দেখবেন না।
কারন সে জানে সবার সামনে বসে কান্না করতে দেখলে তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা, তামাশা করবে।
তাই সে নিরবে তার কষ্টটাকে বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। কারন ওখানে লুকিয়ে রাখলে কেউ দেখতে পাবে না, একমাত্র স্রষ্টা আর নিজে ছাড়া।

রাতে অন্ধকারে ঘরের কোনো এক কোণে বসে বা বিছানায় শুয়ে নিঃশব্দে দু’চোখের পানি ফেলে কেঁদে যাবে।
চিৎকার দিয়েও সে তখন কাঁদতে পারে না, যদি তার বাসার কেউ কান্নার শব্দ শুনে যায়।
বাসার যে ছেলেটি খুব হাসি খুঁশি থাকতো, প্রাইভেট বা আড্ডা দিয়ে সবাইকে
মাতিয়ে রাখতে পারতো। আজ হয়তো তার ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে অবহেলা পেতে পেতে সে দিনদিন এতো বদলে গেছে বা যাচ্ছে।
আগের মত আর কারো সাথে মিশে না, মন মরা আর সবসময় একা থাকতে চায়।
কারন, সে জানে বন্ধুদের সাথে চলতে হলে তাকে হাসি-খুঁশি থাকতে হবে।
যদিও ক্ষেত্রবিশেষ চলতে হয় তখন তাকে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে জীবন কাটাতে হয়।
যখন একটা ছেলের জীবনে কোনো মেয়ে আসে, তখন তাকে নিয়েই জীবনটাকে রঙ্গিন করতে চায়।

কিন্তু হঠাৎ করে সেই রঙ্গিন কে কালো করে দিয়ে অন্য ছেলের হাত ধরে চলে যায়, তখন শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়।
সে ভাবতে থাকে এই কি সেই মেয়ে যে কোনো একসময় আমায় নিয়ে ভালোবাসার স্বপ্ন বুনতো।
আপনি যদি একটা ছেলের একদম কাছের বা ভালোবাসার মানুষ হয়ে তাকে কষ্ট দিতে চান বা তাকে কাঁদাতে চান।
তাহলে তাকে কোনো ভরা জনসম্মুখে এনে চড় মারুন, তাকে বেশি করে গালাগালি করুন বা তাকে অপমান করুন।

দেখবেন নিরবে কোনো প্রতিবাদ না করে আপনার সামনে থেকে মাথা নিচু করে চলে যাবে তবুও কাঁদবে না।
কিন্তু তাকে সামান্য পরিমান অবহেলা করুন, তার সাথে একটু কথা বলা কমিয়ে দিন,
খোঁজ-খবর নেয়া কিছুদিনের জন্য বাদ দিয়ে দিন বা তার সাথে কম যোগাযোগ করুন।

তাহলে দেখবেন কিছুদিনের মধ্যে তার চোখের নিচটা কালো হয়ে গেছে আর আগের থেকে অনেকটা শুকিয়েও গেছে।

কারন সারারাত কেঁদে নির্ঘুমে কাটানো রাত আর ঠিকভাবে নিয়মিত না খাওয়ার ফলে এ অবস্থা তার।
ছেলেরা অনেক কিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু কাছের মানুষদের অবহেলা সহ্য করতে পারে না।

একটা ছেলের সাজানো জীবনকে এলোমেলো করে দিতে তার ভালোবাসার মানুষের অল্প অবহেলাই যথেষ্ট।
ছাদে বসে নীল আকাশকে দেখতে থাকা ছেলেটিও কোনো একসময় রাতের আধারে ছাদের কোনো এক কোণে বসে তারা গুনে,

আর নিজের বুকটাকে একের পর এক সিগারেটের ধোঁয়ায় পুড়তে থাকে।
বাড়ির ছেলের কোনো একসময় পছন্দ ছিলো নীল আর লাল।
কিন্তু এখন তার পছন্দের রঙ বদলে গিয়েছে। সে এখন আর নীল আর লাল রঙের কিছু পড়ে না।

কারন ওটা ছিল তার পুরনো ভালোবাসার মানুষেরও পছন্দ।
তাই আজ এসব বাদ দিয়ে তার একমাত্র পছন্দ রঙ হল কালো।
একটা ছেলে যে কখনো অন্ধকারে থাকতে পারতো না। সবসময় বন্ধুদের সাথে বাহিরে ঘোরাঘুরি করতো।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সে এখন অন্ধকারকে নিজের আপন করে নিয়েছে।

সে এখন দিনের বেশির ভাগ সময়টাও অন্ধকার রুমেই কাটিয়ে দেয়, তবুও বাহিরে বের হয় না।
একটা ছেলে কখনোই চায় না খারাপ হতে, কিন্তু আমাদের সমাজ, পরিবেশ আর পরিস্থিতি তাকে খারাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
দশটা খারাপ ছেলের সাথে চলতে গিয়ে একটা ভালো ছেলেও কোনো একসময় খারাপ হয়ে যায়।

আর দশটা ভালো ছেলের সাথে একটা খারাপ ছেলে চললে একসময় নেশা করা ছেড়ে দিয়ে সে ভালো হয়ে যায়।
সবশেষে সেই সকল কাছের বা ভালোবাসার মানুষদের একটা কথাই বলবো যে, কোনো ছেলেকে ভালোবাসলে তাকে মন দিয়ে ভালোবাসবেন।

কোনো প্রকার ছলনা বা মিথ্যের আশ্রয় না নিয়ে ভালোবাসুন দেখবেন সে আগের থেকে আরো দ্রুত ভালো কিছু করার জন্য এগিয়ে যাবে।
আর তাকে যদি আপনি নাই ভালোবাসেন তাহলে দয়া করে তার সাজানো সুন্দর ভবিষ্যতটাকে নষ্ট করে দিবেন না।

কারন আপনার একটু একটু করে দেয়া অবহেলা আর কষ্ট একটা ছেলের স্বপ্ন গুলো মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারে যে কোনো মুহূর্তে।

মাঝে মাঝে বিষণ্ণ হতে ভাল লাগে মিশকাতের । অথবা ব্যাপারটি এরকম ও হতে পারে , বিষণ্ণ একটি জীবন নিয়ে চলতে চলতে সে বিষণ্ণতাকে ...
02/07/2018

মাঝে মাঝে বিষণ্ণ হতে ভাল লাগে মিশকাতের । অথবা ব্যাপারটি এরকম ও হতে পারে , বিষণ্ণ একটি জীবন নিয়ে চলতে চলতে সে বিষণ্ণতাকে ভালবেসে ফেলেছে । শীতের কুয়াশা ঢাকা এই সকালটিতে দাঁড়িয়ে গরম কফি খেতে খেতে তার মনে হতে লাগল , বিষণ্ণ মানুষদের কাছে শীতের সকালটি হয়ত নিজস্ব একটি রুপে ধরা দেয় , যেমনটা দেয় তার কাছে । অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস চলে আসে, জীবনটা তাকে হয়ত অনেক কিছুই দিয়েছে , সেই অনেক কিছুটা তাকে আর সকলের কাছে অসহায় হবার হাত থেকে মুক্তি দিয়েছে ঠিকই , কিন্তু নিজের কাছে নিজেকে অনেক সংকীর্ণ মনে হয় তার । মেডিকেল থেকে পাশ করা একজন ডাক্তার হিসেবে নিজেকে ঢাকা শহরের উঁচু স্তরে ঠেলে না দিয়ে চট্টগ্রামের বেসরকারি একটি মানসিক হাসপাতালে চাকরি নেয়াটাকে সবাই হয়ত বোকামিই বলবে । কিন্তু মিশকাত এটাই চেয়েছে ,তার জীবনে সুখ চাইবার মত মানুষ তো নেই , একমাত্র হয়ত প্রকৃতি পারে তাকে শান্তিতে রাখতে । জোরে একটা ফু দিল , ধোঁয়ার মত বেরিয়ে গেল মুখ থেকে । আনমনে হেসে ফেলে মিশকাত, তার জীবন থেকেও ক্ষণিকের জন্যে আসা কিছু হাস্যকর সুখ এভাবেই ধোঁয়ার মত বেরিয়ে গিয়েছে । সুখের পরে নাকি দুঃখ আসে, দুঃখের পরে সুখ , একথাটি মিশকাতের কাছে খুবি হাস্যকর, দুদিনের জন্যে এসে যে সুখ সারাজীবনের জন্যে তাকে দুঃখ দিয়ে গেছে , সে সুখকে সুখ বলে মানা যায় কি ? নানা নানির কাছে মানুষ সে , নানির মুখ থেকেই শুনেছে পালিয়ে বিয়ে করা তার বাবা মাকে মেনে নিতে পারেনি তার নানা , কিন্তু তার জন্মের আগেই বাবার এক্সিডেন্টে মৃত্যু এবং তাকে জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যুর পর ছোট্ট মিশকাতকে তার নানা ছুঁড়ে ফেলতে পারেননি। তবে আদর আহ্লাদেও মানুষ হয়নি মিশকাত , নানা কে ভীষণ ভয় হত তার। মেডিকেলে পড়বার ২য় বছরের মধ্যে এই দুজন ও যখন চলে যায় তখন মিশকাত অনুভব করে টানবার মত তার আর কোনও শিকড় রইল না । নানার উইল করা টাকা দিয়েই পড়াশুনা চলতে লাগল , জীবনের প্রতি যখন তার অতিমাত্রায় অভিমান তখনি নীরার আগমন । কত পাগলামিটাই না নীরা করত তাকে পাবার জন্যে । ক্লাসের সবাই যদিও জানতো মিশকাতের প্রতি নীরার পাগলামির কথা , কিন্তু মিশকাতের চোখে সেদিনি প্রথম ধরা পড়ল যেদিন সে তার ক্লাসের টেবিলে ''মিশকাত + নীরা'' লেখাটি খোদাই করা দেখল । তারপর নীরা কে কতই না বুঝিয়েছে সে , তার কেউ নেই পৃথিবীতে , এরকম নিঃসঙ্গ মানুষের এসব মানায় না, কিন্তু নীরার এক কথাই ছিল , তাকে সে ছেড়ে যাবেনা । মিশকাত পারলনা নিজেকে দূরে রাখতে ,নীরা কে জড়াল নিজের জীবনে। কিন্তু ৪ বছর পর মিশকাত অবাক হয়ে দেখল সেই নীরার বদলে যাওয়া, দুইকুলে সব হারানো মিশকাতের তখন কোনও যোগ্যতাই পারলনা নীরাকে ধরে রাখতে । ২৯ বছরের জীবনটাতেই নিজেকে,নিজের স্মৃতির আধারকে অনেক ভারি মনে হয় মিশকাতের । হঠাত ই বাস্তবে ফিরে আসে সে যখন কফি মগে চুমুক দিয়ে জিভের আগায় আর কফির ছোঁয়া পেলনা । বড় ধরনের পাগলামি ,ইদানিং এই ঘটনাটা বেশি ঘটছে , কফি কখন শেষ হয় বুঝতেই পারেনা । ঘরে ঢুকে দেখল হসপিটালে যাবার সময় হয়ে গিয়েছে । তৈরি হল সে । কয়েকটা পেশেন্টকে চেক করে নিজের কেবিনে ঢুকবার সময় মিশকাতের সাথে সিনিয়র নার্সের দেখা হল , সে মিশকাতকে জানাল ডাঃ আশরাফ তাকে রুম নং ২৪ এ যেতে বলেছে , সেখানে একজন নতুন পেশেন্ট এসেছে, খুব ঝামেলা করছে, ডাঃ আশরাফ নিজে এক পেশেন্টকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকায় তাকে দায়িত্ত নিতে বলেছেন । মিশকাত রুম ২৪ এর দিকে ছুটল, ভেতরে ঢুকে দেখল ২২-২৩বছর বয়েসি একটা মেয়ে , কাউকে কাছেই ঘেঁষতে দিচ্ছেনা ,চিৎকার করছে , কান্নাকাটি ও করছে ,বেডে দাপাদাপি শুরু করেছে । মিশকাত নার্সদের ইঞ্জেকশানের ব্যবস্থা করতে বলে মেয়েটার দিকে এগিয়ে গেল । মেয়েটা প্রবল আক্রোশে মিশকাতকে খামচে দিল এবং মিশকাতের আইডি কার্ড টিও খুলে নিয়ে আসল । মিশকাত অবাক হয়ে দেখল মেয়েটা মিশকাতের আইডি কার্ডটার দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে, তার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে । মেয়েটির নাম ত্রিনি । ত্রিনি যখন ঘুমিয়ে পড়ল তখন মিশকাত লক্ষ করল মেয়েটির হাতে মুখে পায়ে অসংখ্য কাটা দাগ , ব্লেড দিয়ে পোচ দিয়েছে যেন । নিজের কেবিনে আসল মিশকাত । সেখানে ত্রিনির বাবা আর ছোট বোন রিনি। মিশকাত বলল , '' ওর গায়ে ব্লেডের অনেক দাগ , ওসব কি ও নিজেই দিয়েছে ? '' ত্রিনির বাবা মাথা নেড়ে হ্যা বললেন । মিশকাত আবার বলল '' ওর অসুস্থতা কি আগে থেকেই ? নাকি কোনও ঘটনা আছে ? আমাকে একটু পরিষ্কার করে বলুন '' । ত্রিনির বোন শুরু করল , ''আমরা আসলে কানাডা থাকতাম । আপু সেখানে একজন কানাডিয়ানকে ভালবাসত , তাকে বিয়ে করার কথাও ছিল অথচ বিয়ের ৪-৫দিন আগে আগুনে পুড়ে সেই ছেলেটা মারা যায়, আমার আর আপুর সামনে । তখন থেকেই এই অবস্থা ।'' খুব খারাপ লাগল মিশকাতের , অবশ্য বেশিরভাগ রুগির ক্ষেত্রেই এরকম অনেক কাহিনি দায়ী , তবুও এই কাহিনিটা আলাদা লাগল মিশকাতের কাছে । কিছুক্ষন পর ত্রিনির বাবা উঠে গেল, রিনি উঠলো না , মিশকাতের মনে হল মেয়েটা কিছু বলতে চায় । মিশকাত বলল, ''' কিছু বলবেন কি ?'' '' স্যার আপনি চেষ্টা করলে আমার আপুকে সুস্থ করতে পারবেন '' , মিশকাত একটু হাসার চেষ্টা করতেই রিনি আবার বলল , '' আপনার মনে কি প্রশ্ন হয়নি আপনার আইডি দেখে আপু এত শান্ত কিভাবে হল ?'' '' আমি এটাই জিজ্ঞেশ করতাম '' রিনি কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার বাবার তাড়াতে উঠে চলে যায় । মিশকাত চশমা খুলে ভাবতে থাকে । সবকিছু জট পাকিয়ে যায় । মিশকাত এরপরদিন লক্ষ করল , তাকে দেখলেই ত্রিনি কেমন যেন শান্ত হয়ে যায় । ত্রিনির সাথে কথা বলার চেষ্টা করে মিশকাত , প্রথম প্রথম মেয়েটা তার দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকত আর টপটপ করে পানি পড়ত দুই চোখ থেকে । মিশকাতও ত্রিনির আবেগে কেমন যেন বিভ্রান্ত হয়ে যায় । বেশিরভাগ সময় ই সে ত্রিনির কাছাকাছি থাকবার চেষ্টা করে, ত্রিনি কথা বলেনা , তবে ৩য় দিন সে মিশকাতকে তার জামার পকেট থেকে একটা ব্লেড বের করে দেখাল , মিশকাত ব্লেডটা নিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতেই ত্রিনি নিজের হাতে ব্লেড দিয়ে অতর্কিত আঘাত করতে লাগল এবং ত্রিনিকে আটকাতে গিয়ে মিশকাতের হাত ও কেটে গেল । মিশকাত ''আহ'' বলে আর্তনাদ করতেই মেয়েটা মিশকাতের হাতের রক্তের দিকে তাকাল তারপর ব্লেডটা ফেলে দিয়ে কেপে উঠে হঠাত করেই অচেতন হয়ে গেল । মিশকাত গভীর এক মায়াতে নিজের ব্যাথা ভুলে ত্রিনির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। এই মেয়েটার সাথে তার কিসের যোগাযোগ ? পরদিন ত্রিনির কেবিনে গিয়ে মিশকাত দেখল ত্রিনি শান্ত হয়ে বসে আছে । মিশকাত গিয়ে ত্রিনির সামনে বসল । মিশকাতকে অবাক করে দিয়ে ত্রিনি মুখ তুলে তাকিয়ে একটু হাসল । মিশকাতের বুকের বামদিকটা মোচড় দিয়ে উঠল , এমন মিষ্টি চেহারার একটা মেয়ে কতটুক শক পেলে নিজেকে এভাবে আঘাত করতে পারে । মিশকাত হাসার চেষ্টা করে বলল , '' কেমন লাগছে এখন ?'' ত্রিনি বলল , '' আমি তো জানিনা , তুমি বল তো কেমন আছি এখন '' মিশকাত সামলে নিয়ে বলল , '' তুমি এখন ভাল আছ ত্রিনি '' ত্রিনি বাচ্চাদের মত ফিক করে হেসে দিল। মিশকাত বলল , '' নিজেকে ব্যাথা দাও কেন ? কষ্ট হয়না ?'' ত্রিনির চোখ হঠাত করেই ধক করে জ্বলে উঠল । সে আচমকাই হাটু মুড়ে বসে মিশকাতের শার্ট খামচে বলল , '' আমার তো অনেক কষ্ট । তুমি কেন জাননা ? তুমি তো মিশকাত তুমি কেন জাননা ?'' ত্রিনিকে এভাবে অস্থির হতে দেখে মিশকাত তাকে কোনও রকমে শান্ত করে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পারিয়ে দিল । মিশকাত ত্রিনির কথাগুলি মাথা থেকে সরাতে পারল না । বিকেলে রিনি ত্রিনিকে দেখার পর মিশকাতের সাথে দেখা করতে আসল । মিশকাত রিনিকে চেম্বারে বসাল , তার ভেতরে অনেক প্রশ্ন । সে একেক করে সব কথাই জানাল রিনি কে । রিনি দুর্বল ভাবে বলল , '' আমি সেদিন ই বলেছিলাম আপনি আপুকে সুস্থ করতে পারবেন , কারন '' মিশকাত আগ্রহ নিয়ে তাকাল । রিনি বলল , '' কারনটা আপনি নিজেই '' '' মানলাম , কিন্তু আপনার বোনের সাথে এর সম্পর্ক কি ? আপনি স্পষ্ট বলেছেন ত্রিনির যে লাভার সে কানাডিয়ান , আমার সাথে তার সাদৃশ্য থাকার কথা নয় '' রিনি তার ব্যাগ টা খুলল । সেখান থেকে একটা ডায়েরি বের করল, মিশকাতের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল , '' আপনি চাইলে এটা পড়তে পারেন , আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন ।'' মিশকাত হাতে নিল ডায়েরিটা । রিনি চলে গেল । মিশকাত স্থির চোখে তাকিয়ে রইল ডায়েরিটার দিকে । ২. ছোটবেলা থেকেই খুব চঞ্চল একটি মেয়ে ত্রিনি , সারাক্ষণ দুষ্টুমি, হাসি আর চাঞ্চল্লে মাতিয়ে রাখত পুরো বাড়ি । কানাডাতেই তার জন্ম, পুরো পরিবারের সাথে সেখানেই বেড়ে ওঠা ।কানাডার বরফ শীতল পরিবেশ তাকে স্থির রাখতে পারত না । ত্রিনি শুধু অবাক হয়ে দেখত তার এসব দুষ্টুমির অত্যাচারগুলি তার পরিবারের সবাই কি নির্মল ভাবে মেনে নেয় । শীতের দিনগুলি তে যখন কানাডা সাদা শুভ্র তুশারে ঢেকে যায় ত্রিনির তো তখন ঘরে মনই টেকে না । স্নো বল বানিয়ে ছুড়োছুড়ি খেলতে তার কি যে ভাল লাগে ! কিন্তু এমনই এক হিম শীতল কানাডাতে তার ভেতর যে হঠাতই বসন্ত নেমে আসবে সেটা কি ত্রিনি ভাবতেও পেরেছিল ? ঘটনার সুত্রপাত ত্রিনির ঘরের জানালা থেকেই । ত্রিনির রুমটা বাড়ির দোতলায় , তার জানালা থেকেই পাশের বাড়ির একটা রুম দেখা যায় । একটা লম্বা টাইপ ছেলেকে দেখা যায় , সে জানালার পর্দা তুলে রেখে সারারাত পড়াশোনা করে , তাও আবার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে , ত্রিনি ছেলেটার নাম দিল '' white horse '' ! তারপর একদিন স্নো দিয়ে খেলতে গিয়ে ছেলেটার মুখে মেরে বসে , একটু খুনসুটি , জানালা দিয়ে তাকিয়ে মুখ ভেংচানো , ভেংচি টা অবশ্য ত্রিনিই দিত আর ছেলেটা শুধু হকচকিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত । ক্রমেই ত্রিনির কাছে কোনও একজন কে ভেংচি কাটাটা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াল , আর ছেলেটাও কেন যেন ভেংচি খাবার জন্যেই জানালায় এসে দাঁড়িয়ে উকি দিত ।এভাবেই এরিকের সাথে পরিচয় ত্রিনির। ছেলেটা ব্রোকেন ফ্যামিলির , বাবা মা কারো কাছেই না থেকে একা একা একটা এপার্টমেন্টে থাকে , পড়াশোনায় অনেক ভালবাসা তার , সেটার পেছনেই সময় চলে যায় । ত্রিনির মুগ্ধ সময় গুলি কাটতে থাকে এরিকের সাথে । একসময় দুজনই বুঝতে পারে ভেতর থেকে কি যেন এক বাধনে জড়িয়ে পড়েছে । সময় চলে যেতে থাকে । বছর দুই পর একদিন হঠাত করে এরিক ত্রিনিকে বলে যে সে ইসলাম গ্রহন করতে চায় । ত্রিনি বারবার জিজ্ঞেস করে সে এটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে করছে কি না , কিন্তু না এরিক অনেক ভেবেই সিদ্ধান্ত নেয় এবং কিছুদিনের মাঝেই ধর্মান্তরিত হয় । ত্রিনির পছন্দ অনুযায়ী এরিকের নতুন নাম হয় ---- মিশকাত। এরিক তার নতুন নামটিকে এতই পছন্দ করল যে ত্রিনিকে সবসময় এই নামেই ডাকতে বলল । ত্রিনির কাছে এরিক ফিরে এল মিশকাত হয়ে । এর দেড় বছর পর মিশকাত আর ত্রিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ।ত্রিনির পরিবার থেকেও বাধা আসেনা । কিন্তু বাধাটা হয়ত অদৃষ্টেই ছিল । মিশকাত ছোটো একটা বাড়ি কেনে , সেখানে এক বিকেলে ত্রিনি আর রিনিকে নিয়ে যায় । মিশকাত নিজেই রান্না করবে বলে কিচেনে রান্না বসিয়ে দেয় , তারপর শাওয়ার নিতে যায় । ত্রিনি আর রিনি ঘর কি দিয়ে সাজাবে তাই ঠিক করছিল, হঠাত কিভাবে যেন কিচেনে আগুন লেগে যায় , ছোট বাড়িটা আগুনে ছেয়ে যেতে একটা মুহূর্তই লেগেছিল হয়ত, রিনি ত্রিনিকে ধরে বাইরে নিয়ে আসে ,ত্রিনি বেরোতে চায়না , মিশকাতের নাম ধরে চিৎকার করতে থাকে , কিন্তু মিশকাত আর বের হয়নি । আর ফিরে আসে নি । ত্রিনি স্বাভাবিক হতে পারলনা আর । ভিতরের কষ্ট টা যখন অসহ্য আকার ধারন করে নিজেকে তখন ব্লেড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে । ব্যাথা দিয়েই ব্যাথা কমানোর চেষ্টা । মিশকাত যখন ডায়েরিটা পড়া শেষ করল তখন মধ্যরাত ,রাত ২টা বাজে । নিজের এত কষ্টতেও এতটা কাদেনি সে , আজ তার চোখ কে সে আটকালও না । অনেক দিনের খরতাপে শুকিয়ে যাওয়া মনের মাটিটাকে ভিজতে দিল মিশকাত । সকালে জাগ্না পেয়ে মিশকাত নিজেকে টেবিলে আবিষ্কার করল । তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে হস্পিটালে ছুটল , ত্রিনির রুমে ঢুকে দেখল ত্রিনি গুটিসুটি মেরে ঘুমুচ্ছে । মিশকাত ত্রিনির মাথার কাছে বসল । সকালের সোনা রোদ খেলা করছে তার মুখে ।একটু আচ লাগতেই মিশকাতের দিকে ঘুরল ত্রিনি ,হাতের সাথে হাত লাগতেই চমকে তাকাল সে মিশকাতকে দেখে বাচ্চাদের মত দাঁত বের করে বল ''মিশকাত ! '' তারপর মিশকাতের হাতটা শক্ত করে ধরে বলল ,'' তুমি এভাবেই বসে থাক , আমি ঘুমাই, হ্যা? '' মিশকাত ত্রিনির হাতে হাত রেখে মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসল , বলল , '' আমি এখানেই আছি ত্রিনি , তুমি ঘুমাও '' । মিশকাত অবাক হয়ে দেখল কি পরম নির্ভরতার হাসি মুখে নিয়ে ত্রিনি এক পলকেই ঘুমিয়ে গেল । মিশকাত কখনও ভাবতেই পারেনি এত মিষ্টি একটা মেয়ের কাছে এত ভরসার একজন মানুষের স্থান টা সে পাবে ।নিজের কথাই বা কেন ধরছে না ?নিজের কাছে ধরা দেয় মিশকাত ,ভীষণ ভালবেসে ফেলেছে সে ত্রিনি কে ।

ছেলে→ আই লাভ ইউ তমা..মেয়ে→থাপ্পড় চিনেন? ছেলে→চিনি তো,,মেয়ে→ খাবেন? ছেলে→ কে দিবে? মেয়ে→আমি দিবো,,ছেলে→দেড়ি করছো কেনো...
03/11/2017

ছেলে→ আই লাভ ইউ তমা..
মেয়ে→থাপ্পড় চিনেন?
ছেলে→চিনি তো,,
মেয়ে→ খাবেন?
ছেলে→ কে দিবে?
মেয়ে→আমি দিবো,,
ছেলে→দেড়ি করছো কেনো এখনি দাও,,
মেয়ে→লজ্জা করেনা আপনার?
ছেলে→ আমি তো প্যন্ট পরছি
মেয়ে→আপনাকে যে কি করি
ছেলে→ বিয়ে করো
মেয়ে→আসলে একটা থাপ্পড় দেয়া উচিৎ আপনাকে..
ছেলে→ চাইলে কিস ও করতে পারো না করবোনা,,
মেয়ে→সামনে থেকে সরুন
ছেলে→পিছনে পিছনে আসবো নাকি?
মেয়ে→ কি করেন আপনি?
ছেলে→পড়াশোনা করি,,
মেয়ে→আপনার বাবা কি করেন?
ছেলে→বাবা নেই,
মেয়ে→মারা গেছেন?
ছেলে→ না আসলে আমি জানিনা,
মেয়ে→আপনার মা কি করেন?
ছেলে→আমার জন্মের সময় মারা গেছেন,,
মেয়ে→থাকেন কোথায়?
ছেলে→বস্তিতে,,
মেয়ে→ওখানে থাকেন কেনো?
ছেলে→এক ভিখুকের সাথে এখন ওনি আমার মা,,
মেয়ে→ ফকিন্নির বাচ্চা তোর সাহস তো কমনা,,
ছেলে→আপনাকে ভালবাসতে পারবো না কেনো?
মেয়ে→একজন ভিখারির বাচ্চাকে বয়ফ্রেন্ড কি করে বানাই?
ছেলে→আর কোন দিন তোমার সামনে আসবোনা,,,

আমি আর কিছু বললাম না চুপ করে নিরবে চলে আসলাম। ভালবাসা জোর করে হয়না আর আমি যেহুতু ভিখারির ছেলে। আমার জন্য এইসব ভাবাও পাপ,,

আমি ফারাবী হাবিব ডাক নাম ফারাবী এক বস্তিতে থাকি,, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্স করছি।
আমার বাবা কে তা জানিনা মা জন্মের সময় মারা গেছেন। তাই মায়ের মুখ দেখিনি।
বড় হয়েছি এক ভিখারির কাছে তাই তিনিই এখন আমার মা।

কিছুটা বুঝতে শিখেছি তাই টোকাই দলে নাম লিখিয়েছি। সারাদিন টোকাই করে যা পেতাম তাতেই আমার দিন চলে যেতো।
একদিন পাশের মহল্লার কিছু টোকাই ছেলে আমাকে মেরেছিলো।
তাই আমার মা আমাকে আর টোকাই গিরি করতে দেননি। কিছু দিন পর একটা স্কুল এ পড়তে পাঠালেন। আর তিনি সারাদিন রাস্তাঘাটে মানুষের কাছ থেকে টাকা জোগার করে সংসার চালান।

প্রাইমারী পাস করার পর আসি হাইস্কুল এ বেশ মেধাবী ছিলাম। সব সময় ক্লাসে ফাস্ট হতাম পাশাপাশি একটা প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতাম। যে টাকা বেতন দিতো কোন রকম পেট চলতো। পড়ালেখার টাকা মা ভিখুকের কাজ করে জোগার করতো,

খুব ভালো খাবার খেতে পারতাম না। নিন্ম মানের চালের ভাত আর কাচা মরিচের ঝাল পেয়াঁজ হলেই পেট ভরে খেতে পারতাম।
মাজে মাজে মা বড়লোকদের আধা খাওয়া বাঁশি পচা খাবার নিয়ে আসতেন।
আমার চোখ খাবারের লোভে চকচক করতো গপাগপ গিলতাম।
খাবের শেষে তৃপ্তিকর ঢেঁকুর সাথে মায়ের দিকে তাকাতাম দেখতাম মায়ের চোখে জল টলমল করছে,,
আমি তাকালেই মা চোখের জল আড়াল করে আচল দিয়ে মুছতো আর বলতো। বাজান চোকে মনে অয় সমেস্যা দেহা দিচে। খালি পানি পরে চোক দিয়া।
তোই কবে বড় অইবি বাজান? আমারে মেমসাব গো মতন একটা সসমা কিন্না দিবে কবে?

আমার গলা ধরে আসে। আমি তো জানি আমার মায়ের চোখের জলের উৎস।
আমাকে বড় হতে হবে অনেক বড়,,
প্লাস্টিক কারখানার চাকরি ছেরে দিলাম মালিকটা খালি প্যানপ্যান করে,, কিছু হলেই মায়েরে নিয়া বাজে কথা বলে,,,
কিছুদিন চুক্তি রিক্সা নিলাম জাবেদ চাচার কাছ থেকে।
স্কুলের সময় স্কুলে যেতাম বাকী সময় রিক্সা চালাতাম।

একদিন এক বড়লোক ছেলে আর তার গ্যলফ্রেন্ড নিয়া গ্রিনরোড থেকে রবিন্দ্র সরোবর যাইতেছিলাম, রিক্সায় বসে বসে তারা আজ কত টাকার শপিং এবং খাওয়া দাওয়া করলো। সব কিছুর হিসেব করছে।
মনে মনে বেশ খুসি হলাম বাড়ার পাশাপাশি চাইলে কিছু বকখশিও পেতে পারি আজ। রবিন্দ্র সরোবর বললাম স্যার নামেন ওনারা নামলেন।
ছেলেটি একটা দশ টাকার নোট ধরিয়ে দিলো আমি বললাম স্যার হয়নাতো আর দশটা টাকা দেননা স্যার।
লোকটা আমার কলারে ধরে বললো চুপচাপ চলে যা ছোটলোক কোথাকার।
মেয়েটি বললো কি দরকার বাবু? এইসব ছোট লোকদের গায়ে হাত তুললে তোমার হাত নোংরা হবে। এই লোকের গায়ে জিবাণু থাকে,, চুপ করে নিরবে চলে আসলাম, গরিবের জন্ম ই তো মার খাবার জন্য। চোখের জল মুছে চলে আসলাম।

জাবেদ চাচার গ্যারেজে রিক্সা জমা দিয়ে আমাদের বস্তির খুপরিতে ডুকলাম। মা বাতাস দিতে লাগলো আমি মুড়ি খেয়ে পড়তে বসলাম।
সামনে আমার এস এস সি অনেক কস্টে আমি আর মা ফরম ফিলাপের টাকা জোগার করেছি।
আমি পরছি মা বাতাস করছে মাঝে মাঝে মায়ের চোখের দিকে তাকাই। মায়ের চোখে রাজ্যের সপ্ন ভাসে। যে সপ্নে ভিবোর হয়ে সারাদিনের কস্ট ভূলে যায় আমার মা। আর আমি মায়ের সপ্নভরা চোখের দিকে তাকিয়ে অদ্যম হয়ে উঠি আরো ঝোরে পড়তে থাকি।

এস এস সি এইচ এস সি দিলাম দুইটা তেই গোল্ডেন প্লাস পেয়েছিলাম পেপারে ছবি ও দিয়েছিলো। সাংবাদিক যখন এসেছিলো ছবি নিতে। গত রমজানে এক সাহেবের জাকাতের দেয়া শার্টটা পড়েছিলাম, আহা কি সুবাস লাগছিলো নতুনের ছুয়া। খুব সুন্দর একটা ছবি উঠেছিলো হয়তো নতুন শার্ট নয়তো দামী ক্যামরা।

আমার মাকে এস এস সির রেজাল্ট এর পর বলেছিলাম। মা আমি গোল্ডেন প্লাস পাইছি।
তখন আমার মা বলেছিলো কিরুম্মা পিলাচ বাজান?
ঐযে কারেনের কাম করে?
কত বেচন যাইবো পিলাচটা?
বেচতে পারলে এক কেজি চাইল কিনিচ বাজান।
আজকে ঘরে চাইল নাই। তই বাজান নকত বেচন যাইবোনি বাজান?

আমি কিছু বলিনি সেদিন কান্না চেপে ধরে রেখেছিলাম।
মা চলে যাবার পর চিৎকার করে কেঁদেছিলাম,,
ফুলবানু খালা উকি মেরে দেখছিলো আমায়। ভাবছিলো হয়তো বড় পাস দিছি তাই আনন্দে কাঁদছি।

একদিন আমি রিক্সার উপর বসে গামছা দিয়ে গাম মুছছি। এমন সময় দেখছি আমার মা কোন এক সাহেবের গাড়ির জানালার সামনে দাড়িয়ে অনুরুধ করছে। ছার ও ছার আমার পোলারে ভারসিটিতে ভত্তি করামু কয়টা টেহা দিয়া সাহায্য করেন না ছার আল্লাহ্‌ আপনের ভালা করবো। সাহেব কি বললো তা আমি শুনিনী। তবে মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলো। আমার মায়ের হাত ভেঙে গিয়েছিলো নিস্টুর কালো পিচঢালায় পরে।
বেথায় কঁকিয়ে উঠছিলো আমি দৌড়িয়ে গিয়ে মাকে কোলে করে বস্তিতে নিয়ে আছিলাম।

আমার মা বেথায় নয় লজ্জায় মুখ লুকাতে চেয়েছিলো,, কারন আমার সামনে তিনি ধাক্কা খেয়েছিলেন।
ডাক্তারের কাছে নিতে পারিনি টাকা ছিলোনা। ফুলবানু খালায় প্রতিদিন তেল গরম করে মায়ের হাতে মালিশ করে দিতো দিতো। যদিও মায়ের হাতটা এখনো সোজা হয়নি তবে দিরে দিরে বেথা কমে গিয়েছিলো।

আমি মাকে একটা টং দোকান ভাড়া করে দিয়েছি। সেখানে মা পান সিগারট বিক্রি করে।

আমি ঢাকা ভারসিটিতে এডমিট হয়েছি আমার অনেক ফ্রেন্ডস। একদিন স্যার বললো ফারাবী তোমার নিজের লাইফের কথা বলো শুনি।
সেদিন সব বলেছিলাম বলার পর আমার আর কোন ফ্রেন্ডস নেই। তারা আমাকে ছেরে দিয়েছে কেমন করে জানি কথা বলে।
একদিন তো সোয়ান আবিরকে বলেছে দেখ আবির ফারাবী ফক্কির পোলাকে পাত্তা দিবিনা।
তারা হয়তো ভেবেছিলো আমিও কোন বড়লোক ক্রিমিনালের জাত কিন্ত না আমি তো ফক্কির সন্তান।

হঠাৎ পিয়নের ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম। এতখন অথিতে ডুবে ছিলাম। আমি এখন ম্যাজিস্ট্রেট।
সেদিনকার বড়লোক সোয়ান আবরদের স্যার হ্যা ওরা আমাকে এখন স্যার বলে ডাকতে হয়।
টাকা পয়সা ধন সম্পদ মান সম্মান সব আছে।
আরো আছে আমার জান্নাত আমার ভিখারী মা।
না তিনি এখন ভিখারী নন তিনি এখন ম্যাজিস্ট্রেট এর মা।

সেদিন পেপারে বিজ্ঞাপন দিলাম পাএি চাই।
শিরোনামে ঠিকানা দিয়ে দিলাম। কোন এক মেয়ের বাবা পরের দিন বাসায় এসে হাজির। আমি আমার মা এবং বাসার সব কিছু পছন্দ হলো উনার। উনার বাসার ঠিকানা দিলেন। কোনো একদিন আমি রিক্সা চালাতাম আমার মা রিক্সায় বসে থাকতো।
আজ আমি নিজের গাড়ি চালাই মা আমার পাশে বসে আছেন। মেয়ের বাসার সামনে গাড়ি রাখলাম।

বাসার বিতর ডুকলাম বেস সাদর জানালো। মেয়ের মা নাস্তা দিলেন আমাদের কে।
কিছুখন পর মেয়ে আসলো লম্বা গুমটা দিয়া। দুইটা মেয়ে দুপাশে ধরে নিয়েছে।
আমার মা বললেন ঘোমটা সরাতে।
আমি মেয়ের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলাম।
এটা তো তমা *
যার পিছনে আমি কলেজ জিবনে গুরতাম। তমা আমার দিকে তাকিয়ে হাসি দিলো। সেকি আমাকে চিনতে পেরেয়েছে?
চিনার কথা নয় সেদিনকার কালো চিকুন ফিরাবী আজ অনেক স্মার্ট।

আমি বললাম মেয়র সাথে একটু কথা বলবো সবাই রাজি হলো। আমি আর তমা ছাদে গেলাম।

আমি কয়একটা কাঁশি দিলাম।
তমা→ পানি খাবেন?
আমি→নাহ্
তমা→কেমন আছেন?
আমি →তুমি কেমন আছো তমা?
তমা→আপনি আমার নাম জানলেন কেমন করেরে?
আমি→ নাহ্ এমনি, আমাকে তোমার পছন্দ হয়েছে?
তমা→জ্বী
আমি→আমার পরিচয় জানো?
তমা→আপনি একজন ম্যাজিস্ট্রেট এতটুকু জানি।
আমি→নাহ্ এর বাহিরে ও একটা পরিচয় আছে।
তমা→সেটা কি বলুন
আমি→আমি ফারাবী কোন এক ভিখারির সন্তান তোমার পিছনে ঘুরতাম চিনতে পরেছো?
তমা→আপনি? আপনি এত বড় হলেন কেমন করে?

আমি রহস্যময় হাঁসি দিলাম সে হাঁসির মানে এক একজনের কাছে এক একরকম। তমার চেহারায় অবিশ্বাসের ছাপ দেখতে পেলাম,,

আমি পিছন হয়ে দাড়িয়ে আছি আকাশ প্রাণে তাকিয়ে কত গুলো পাখী উরছে দেখতে ভালো লাগছিলো। তমার দিকে তাকাতে পারছিনা।

তমা আমার দিকে অভাক চোখে চেয়ে আছে।

হঠাৎ কোথায় থেকে যেনো একটা গান বেজে উঠলো। একুল ভেঙে অকুল গরে এইতো নদির খেলা। সকাল বেলার ধনীরে তোই ফকির সন্দা বেলা।

Address

Kuala Lumpur
50000

Telephone

+60146608675

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hati sakiti posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Hati sakiti:

Share