3D Design, 3D Sign Board & Digital Printing

3D Design, 3D Sign Board & Digital Printing our work

দেশ ও প্রবাসের সকলের প্রতি রইল পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক।
09/04/2024

দেশ ও প্রবাসের সকলের প্রতি রইল
পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক।

হযরত সোলায়মান (আ) এর জীবনী।আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর শুরু থেকে শেষপর্যন্ত অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন।যার সঠিক সংখ্যার কো...
28/03/2024

হযরত সোলায়মান (আ) এর জীবনী।

আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর শুরু থেকে শেষপর্যন্ত অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন।যার সঠিক সংখ্যার কোনোসুস্পষ্ট তথ্য নেই।কুরআনের বর্ণনা মতে এ সকল নবী-রাসূলদেরমধ্যে তিনি যাদেরকে নবুয়ত দানের পাশাপাশি রাজত্ব ও হিকমত প্রদান করেছেন, তাদের মধ্যেহজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম অন্যতম সংক্ষেপে তার রাজত্বের বিবরণ তুলে ধরা হলো-

জন্ম পরিচিতি
সুলাইমান আলাইহিস সালাম হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের ১৯ সন্তানের মধ্যে একজন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে নবুয়ত লাভ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও নবুয়ত দান করেন। তিনি শাম ও ইরাক অঞ্চলে তাঁর পিতার রেখে যাওয়া রাজ্যের বাদশাহি লাভ করেন।

শৈশব কাল
আল্লাহ তাআলা হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে শৈশবেই প্রখর মেধা ও প্রজ্ঞা দান করেছিলেন। যার প্রমাণ পাওয়া যায়- তাঁর পিতার (দাউদ আলাইহিস সালাম) দরবারে বকরির পাল ও শষ্যক্ষেত্র বিনষ্টের বিচারের ফয়সালায়। হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম বিচারে তাঁর দেয়া ফয়সালা বাতিল করে হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের ফয়সালা বহাল রাখেন। তাছাড়া দুই মহিলার ‘এক সন্তান’কে উভয়ের সন্তান বলে দাবির ফয়সালায় হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের দরবারে উপস্থিত হলেন। দাউদ আলাইহিস সালাম বয়স্ক মহিলাকে সন্তান প্রদানের ফয়সালা দেন। সে ফয়সালাও সুলাইমান আলাইহিস সালাম তীক্ষ্ণ মেধার মাধ্যমে সঠিক রায় দেন। যা পিতার ফয়সালার বিপরীতে যায়। হজরত দাউদ নিজের ফয়সালা বাতিল করে পুত্র সুলাইমান আলাইহিস সালামের ফয়সালা বলবৎ রাখেন।

রাজত্বকাল
হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম পিতার মৃত্যুর পর শৈশবেই মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি রাজত্বের দায়ভার গ্রহণ করেন। রাজত্ব লাভের চতুর্থ বৎসর হতে তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তিনি ৫৩ বছরের দুনিয়ার জিন্দেগিতে ৪০ বছর যাবত রাজ্য পরিচালনা করেন। তবে কত বৎসর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ করেছিলেন, তা সঠিক জানা যায়নি। তবে তাঁর রাজ্য ছিল তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ও শক্তিশালী রাজ্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ, আল্লাহ তাআলা দাউদ আলাইহিস সালামের ন্যায় হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকেও বিশেষ গুণ ও বৈশিষ্ট্য দান করেন এবং তাঁকে নিয়ামত দান করেন। তাঁর প্রতি

আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- বায়ু প্রবাহ অনুগত হওয়া।
আল্লাহ বলেন- ‘আর আমি বায়ুকে সুলাইমানের অধীন করেছিলাম, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করতো। (সুরা সাবা : আয়াত ১২)

‘তামা’কে তরল ধাতুতে পরিণত করে নহর প্রবাহিত করা। আল্লাহ বলেন- ‘আমি তার জন্যে গলিত তামার এক ঝর্ণা প্রবাহিত করেছিলাম।’ (সুরা সাবা : আয়াত ১২) জিন জাতি তাঁর অধীনস্থ হওয়া। আল্লাহ বলেন- ‘কতক জিন তার সামনে কাজ করত তার পালনকর্তার আদেশে। তাদের যে কেউ আমার আদেশ অমান্য করবে, আমি জ্বলন্ত অগ্নির-শাস্তি আস্বাদন করাব।’ (সুরা সাবা : আয়াত ১২) পক্ষীকুলকে অনুগত করা।

আল্লাহ বলেন- ‘সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক সকল! আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব।’ (সুরা নমল : আয়াত ১৬)
পিপীলিকার ভাষা বুঝার ক্ষমতা।

আল্লাহ বলেন, ‘যখন তারা পিপীলিকা অধ্যূষিত উপত্যকায় পৌঁছলো, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকার দল! তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে। তার কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থ দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে
দান করেছ।’ (সুরা নমল : আয়াত ১৮-১৯)

অতুলনীয় সাম্রাজ্য লাভ। আল্লাহ বলেন, ‘সোলায়মান বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। (সুরা ছোয়াদ : আয়াত ৩৫)

প্রাপ্ত অনুগ্রহ রাজির হিসাব না রাখার অনুমতি পাওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘এবং অন্য আরও অনেককে অধীন করে দিলাম, যারা আবদ্ধ থাকত শৃঙ্খলে। এগুলো আমার অনুগ্রহ, অতএব, এগুলো কাউকে দাও অথবা নিজে রেখে দাও-এর কোন হিসেব দিতে হবে না। (সুরা ছোয়াদ : আয়াত ৩৯-৪০)

ওফাত
বিশাল সাম্রাজ্যের বাদশা ও আল্লাহর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম ৫৩ বছর জীবিত ছিলেন। ৪০ বছর রাজত্ব পরিচালনা করেন। সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুনিয়ায় আগমনের ১৫৪৬ বছর পূর্বে হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের জীবনী ও নবুয়তের বর্ণনাকে মুসলিম উম্মাহর জন্য উপদেশ হিসেবে গ্রহণ করার এবং

কুরআন-
সুন্নাহর প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সুলাইমান (আঃ) এর জীবনী থেকে শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ উল্লেখ কর?

১. নবুঅত ও খেলাফত একত্রে একই ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সম্ভব।

২. ধর্মই রাজনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। ধর্মীয় রাজনীতির মাধ্যমেই পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

৩. প্রকৃত মহান তিনিই, যিনি সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও অহংকারী হন না। বরং সর্বদা আল্লাহর প্রতি বিনীত থাকেন।

৪. শত্রুমুক্ত কোন মানুষ দুনিয়াতে নেই। সুলায়মানের মত একচ্ছত্র এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাদশাহর বিরুদ্ধেও চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার চালানো হয়েছে।

৫. সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে প্রজাসাধারণের কাজ করলেও তারা অনেক সময় না বুঝে বিরোধিতা করে। যেমন বায়তুল মুক্বাদ্দাস মসজিদের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় আল্লাহ বাকী সময়ের জন্য সুলায়মানের প্রাণহীন দেহকে লাঠিতে ঠেস দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন জিন মিস্ত্রী ও জোগাড়েদের ভয় দেখানোর জন্য। যাতে তারা কাজ ফেলে রেখে চলে না যায় এবং নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হবার সুযোগ না পায়

ওজনে কম দিয়ে ধ্বংস হওয়া একটি জাতির গল্প!মাদইয়ান সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছেন হজরত শোয়াইব (আ.)। হজরত শোয়াইব (আ.) ছিলেন...
28/03/2024

ওজনে কম দিয়ে ধ্বংস হওয়া একটি জাতির গল্প!

মাদইয়ান সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছেন হজরত শোয়াইব (আ.)। হজরত শোয়াইব (আ.) ছিলেন হজরত ইবরাহিম (আ.) এর তৃতীয় স্ত্রী কাতুরার ঘরের পুত্র মাদইয়ানের বংশধর। এ জন্য হজরত ইবরাহিম (আ.) এর এই বংশধরকে বনি কাতুরা বলা হয়। কোনো কোনো বর্ণনা মতে, হজরত শোয়াইব (আ.) হজরত সালেহ (আ.) এর বংশোদ্ভূত নবী ছিলেন। যেহেতু তিনি মাদইয়ান সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছেন, তাই পরবর্তী সময়ে তার নামেই তার কওমের নাম হয়ে যায় কওমে শোয়াইব। বর্তমান সিরিয়ার মুয়ান নামক স্থানে সে কওমে শোয়াইবের বসবাস ছিল বলে জানা যায়। কোরআনে কারিমের কোথাও তাদের ‘আসহাবে মাদইয়ান’ ও ‘আহলে মাদইয়ান’ নামে উলেস্নখ করা হয়েছে। আবার কোথাও ‘আসহাবে আইকা’ নামে উলেস্নখ করা হয়েছে। আসহাবে আইকা ও মাদইয়ান একই সম্প্রদায়ের দুই নাম, নাকি তারা পৃথক পৃথক সম্প্রদায়- সে ব্যাপারে যথেষ্ট মতবিরোধ থাকলেও প্রসিদ্ধ মতানুসারে মাদইয়ান ও আসহাবে আইকা একই সম্প্রদায়। যাদের পিতার দিকে সম্বোধন করে মাদইয়ান বলা হতো আর ভৌগোলিক দিক থেকে আসহাবে আইকা বলা হতো। আইকা অর্থ বনজঙ্গল। এ জায়গার মাটি অত্যমত্ম উর্বর হওয়ায় সে স্থানে ফলফলাদিসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছালি বেশি হতো। তাই কোরআনে কারিমে তাকে ‘আইকা’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। মাদইয়ানবাসী পার্থিব লোভ-লালসায় মত্ত হয়ে পাস্পরিক লেনদেনের সময় ওজনে কমবেশি করে মানুষের হক আত্মসাৎ করত। মহান আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে শরিক স্থাপন করত। গাছপালা ও মূর্তি পূজায় তারা লিপ্ত থাকত। লেনদেনের ক্ষত্রে দুর্নীতি, প্রতারণা, ছিনতাই, রাহাজানি ও মজুদদারির মতো জঘন্য অন্যায় তারা করত। এসব পাপে তারা এমনভাবে লিপ্ত ছিল যে, তারা কখনোই উপলব্ধি করত না, তারা অন্যায় করছে বা তারা যা করছে তা গর্হিত কাজ। বরং তারা অবাধ্যতা প্রদর্শন করতে পেরে আনন্দ বোধ করত। এভাবে তারা ভূপৃষ্ঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত। তাদের কাছে পাঠানো হলো হজরত শোয়াইব (আ.)কে। হজরত শোয়াইব (আ.) সর্বপ্রথম তাদের তাওহিদের দাওয়াত দিলেন। বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করো, যিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই।’ (সুরা আরাফ : ৮৫)। তাওহিদের দাওয়াত দেয়ার পরপরই হজরত শোয়াইব (আ.) তাদেরকে তাদের কুকর্ম ওজনে কম দেয়ার হীন মানসিকতাকে দূর করার দাওয়াত দিলেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা পরিমাপে ও ওজনে কম দিও না। আজ আমি তোমাদের ভালো অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমি তোমাদের ব্যাপারে পরিবেশ নষ্টকারী দ্বীনের আজাবের ভয় পাচ্ছি। হে আমার কওম! ন্যায়-নিষ্ঠার সঙ্গে ওজন পূর্ণরূপে করো। লোকদের জিনিসপত্রে কোনোরূপ ক্ষতি করো না। আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।’ (সুরা আরাফ : ৮৪-৮৫)। ‘মানুষের জিনিসপত্রে কোনোরূপ ক্ষতি করো না।’ এ কথা থেকে বোঝা যায়, ওজনে কম দেয়া যেমন হারাম, তেমনি হারাম অপরের অধিকারে হসত্মক্ষপ করা। হজরত শোয়াইব (আ.) তাদের আরও উপদেশ দিলেন, মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করে তাদের সম্পদ গ্রহণ করার জন্য রাসত্মাঘাটে ওৎপেতে বসে থেকো না। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা পথেঘাটে এই উদ্দেশ্যে বসে থেকো না যে, আল্লাহ তায়ালার বিশ্বাসীদের হুমকি দেবে, আল্লাহ তায়ালার পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ করো যখন তোমরা সংখ্যায় ছিলে কম, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অধিক করেছেন এবং লক্ষ্য করো কিরূপ অশুভ পরিণতি হয়েছে ফিতনাকারীদের।’ (সূরা আরাফ, আয়াত নং : ৮৫)। আয়াতের শেষাংশে তাদের ভীতি প্রদর্শন করার জন্য বলা হয়েছে- পূর্ববর্তী ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী কওমের করুণ পরিণতির দিকে লক্ষ্য করো, কওমে নূহ, আদ, সামুদ ও কওমে লুতের ওপর কী ভীষণ গজব নাজিল হয়েছিল। তাই তোমরা এ ধরনের আজাব আসার আগেই সতর্ক হয়ে যাও। এভাবে হজরত শোয়াইব (আ.) তাদের বিভিন্নভাবে নবীসুলভ সহনশীলতার সঙ্গে বুঝিয়েছেন। কিন্তু বিনিময়ে তিনি শুধু উপহাস-পরিহাসই পেয়েছেন। অবশেষে তারা যখন সীমা লঙ্ঘন করে ফেলল তখন আল্লাহ তায়ালার আজাব এসে গেল। প্রথমে কয়েকদিন তাদের অঞ্চলে ভীষণ গরম পড়ল। গোটা জাতি ছটফট করতে লাগল। অতঃপর কাছের একটি ময়দানের ওপর গাঢ় মেঘমালা দেখা গেল। ময়দানে ছায়া পড়ল। শীতল বাতাস বইতে লাগল। এলাকার সবাই সেই ময়দানে জমায়েত হলো। বলতে লাগল এই মেঘ আমাদের ওপর বৃষ্টি নাজিল করবে। যখন সবাই সেখানে সমবেত হলো, তখন মেঘমালা থেকে অগ্নিবৃষ্টি বর্ষিত হতে শুরু হলো। নিচের দিকে শুরু হলো ভূমিকম্প। ফলে সবাই সেখানে নাসত্মানাবুদ ও ধ্বংস হয়ে গেল। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘তাদের ভীষণ ভূমিকম্প পাকড়াও করল। ফলে তারা নিজেদের গৃহের অভ্যমত্মরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।’ (সূরা আরাফ : ৯১)। তাফসিরকাররা এ সীদ্ধামেত্ম উপনীত হলেন যে, তাদের ওপর মোট তিন ধরনের আজাব অবতীর্ণ হয়েছিল। এক. মেঘমালা থেকে অগ্নিবৃষ্টি বর্ষিত হয়, দুই. এরপর বিকট শব্দ শোনা যায়, তিন. সর্বশেষ ভূমিকম্প হয়। এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) বলেন, হজরত শোয়াইব (আ.) এর সম্প্রদায়ের ওপর প্রথমে এমন আজাব চাপিয়ে দেয়া হয়, যেন জাহান্নামের দরজা তাদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছিল। ফলে তাদের শ্বাস রুদ্ধ হতে থাকে। তখন ছায়া তো দূরের কথা, পানিতেও তাদের শামিত্ম ছিল না। অতঃপর তারা অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ভূগর্ভস্থ কক্ষ প্রবেশ করে দেখল, সেখানে আরও বেশি গরম। তখন তারা অস্থির হয়ে ময়দানের দিকে ধাবিত হলো। সেখানে আল্লাহ তায়ালা একটি ঘন কালো মেঘ পাঠিয়ে দিলেন, যার নিচে শীতল বাতাস বইছিল। তারা সবাই গরমে দিগ্বিদিক জ্ঞানহারা হয়ে মেঘের নিচে এসে ভিড় করল। তখন মেঘমালা থেকে তাদের ওপর অগ্নিবৃষ্টি বর্ষিত হতে শুরু হলো এবং ভূমিকম্পও হলো। অপরদিকে বিকট গর্জনও তাদের পাকড়াও করল। ফলে তারা সবাই ভস্মসত্মূপে পরিণত হলো। (আলবাহরুল মুহিত)। বর্তমানে আমাদের সমাজে এমন লোকের অভাব নেই, যারা হজরত শোয়াইব (আ.) এর কওম যে অপরাধ করেছে সেরকম অপরাধে লিপ্ত। এ ঘটনায় তাদের জন্য রয়েছে সর্তকবাণী। সুতরাং যারা ওজনে কম দেন তাদের এ ঘটনা থেকে শিক্ষা অর্জন করা উচিত।

হযরত হুদ (আঃ) এর জীবনী।হযরত হুদ (আঃ) আদ জাতির নিকট প্রেরিত হল। আদ ছিল হযরত নূহ (আঃ) এর চার অধস্তন পুরুষ। হযরত নূহ (আঃ)-এ...
28/03/2024

হযরত হুদ (আঃ) এর জীবনী।

হযরত হুদ (আঃ) আদ জাতির নিকট প্রেরিত হল। আদ ছিল হযরত নূহ (আঃ) এর চার অধস্তন পুরুষ। হযরত নূহ (আঃ)-এর পুত্র সাম। সামের পুত্র ইরাম। ইরামের পুত্র আউস। আউসের পুত্র আদ। সামের আর এক পুত্র ছিল তার নাম ছিল আবির। আবিরের পুত্রের নাম ছিল ছামুদ। আদ ও ছামুদের বংশাবলী ক্রমশ বিস্তৃতি লাভ করে। পরবর্তী সময় আদ ও ছামুদের নামে তাদের বংশাবলীর নাম করন করা হয়। কওমে আদ ও কওমে ছামুদ। পবিত্র মেরাজে আদ ও ছামুদ সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর নির্দেশাবলীর কথা উল্লেখ আছে।

কওমে আদ পারস্য উপসাগরের অববাহিকায় অবস্থিত ওমান থেকে লোহিত সাগরের প্রান্তে হাজরামাউত ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েকশত বছর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তারা চার দেবতার পূজা অর্চনা করত। এক নম্বরের দেবতার নাম ছিল সাকীয়া। যাকে তারা বৃষ্টি দানকারী, ফসল দানকারী ও অর্থ দানকারী দেবতা বলে শ্রদ্ধা করত। দ্বিতীয় হল হাফিজা যাকে বিপদ মুক্তি, রোগ মুক্তি ও অমঙ্গল থেকে মুক্তি দানকারী বলে বিশ্বাস করত। তিন নম্বরে ছিল রাদিকা। এ দেবতাকে তারা অন্নদানকারী, শান্তি দানকারী ও পরকালের মুক্তি দানকারী দেবতা বলে সন্মান করত। চতুর্থ ছালীমা যাকে স্বাস্থ্য দানকারী, শক্তি দানকারী এবং যুদ্ধে বিজয় দানকারী বলে মনে করে তারা এ দেবতার পূজা করত।

আল্লাহ তা’য়ালা হযরত হুদ (আঃ)-কে এ আদ জাতির হেদায়েতের জন্য তাদের নিকট নবী হিসেবে প্রেরন করেন। হযরত হুদ (আঃ) ছিলেন আদ বংশীয় লোক। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনে একথা উল্লেখ করেন। তিনি কওমকে যখন হেদায়েতের দাওয়াত দিলেন তখন তারা নবীর কথা শুনে ঠাট্রা বিদ্রুপ আরম্ভ করে দিল। তারা নবীকে বলল, তুমি আল্লাহর বিশেষ দূত হিসেবে আমাদের হেদায়েত করতে এসেছ তার প্রমান কি? যদি তুমি নবী হও তাহলে উপযুক্ত প্রমান দাও। নবী তাদেরকে বললেন, আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতির মুক্তি ও কল্যাণের নিমিত্তে যুগে যুগে নবী রাসূলদেরকে প্রেরন করে থাকেন। তাঁদের কাজে ও কথায় কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকে না। আল্লাহ তা’য়ালার প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করাই তাঁদের প্রধান কর্তব্য। যখন কোন কওম নৈতিকতা ও ধর্মের ক্ষেত্রে অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং চরম উশৃংখলতার অনুসারী হয় তখন সে কওম ও জাতির পথের দিশা হিসেবে নবীগণের আবির্ভাব ঘটে।

তখন জাতি তার প্রতি আত্মস্মার্পণ করে দ্বীনে হক কবুল করলে আল্লাহ জাতিকে নাজাত দেন। তাঁদের তারাক্কিদান করেন। আর যদি তারা নবীর নাফরমান হিসেবে জীবন-যাপন শুরু করে তবে তাঁদের প্রতি আল্লাহর প্রকাশ্য গজব অবতীর্ণ হয়। অতএব তোমরা যদি স্বাভাবিক ভাবে আল্লাহর প্রতি ঈমান আন এবং দেবদেবীর পূজা-অর্চনা ছেড়ে দাও তাহলে তোমাদের সর্বত্র মঙ্গল হবে, না হয় তোমাদের উপর কঠিন আজাব আসবে, যাতে তোমরা ধ্বংস হবে। তোমাদের কোন অস্তিত্ব পৃথিবীর বুকে অবশিষ্ট থাকবে না। কওমে আদ নবীর নছিহত শুনে বলত আসুক আজাব, আমরা সে আজাবের ভয় করি না। আমরা শরীরে শক্তি রাখি। আজাবের মোকাবেলা করার শক্তি আমাদের আছে। তবুও আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষের ধর্ম পরিত্যাগ করব না। আমরা এসব দেব-দেবীর পূজা অর্চনা করে অনেক উপকার পেয়েছি, ধন সম্পদ ও স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়েছি। আমাদের জন্য নতুন ধর্ম গ্রহন করা কোনক্রমে সম্ভব নয়।

আদ জাতির লোকেরা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘকায়। তাঁদের মধ্যে উর্দ্ধে চারশ গজ পর্যন্ত লম্বা মানুষ ছিল। আর বেঁটেদের উচ্চতা ছিল সত্তর গজ। তারা দুই তিন জনে একত্রিত হয়ে ছোট ছোট পাহাড় উল্টিয়ে ফেলতে পারত। পাহাড়ের উপরে দাঁড়িয়ে যদি পা দিয়ে আঘাত করত তাহলে পাথরের মধ্যে পা গেড়ে যেত। যে কোন গাছপালা উপড়িয়ে ফেলা ছিল অত্যন্ত সহজ কাজ। তারা সেচ দ্বারা কৃষি কাজ করত। এ জন্য পানি রক্ষণের উদ্দেশ্যে তারা নদীর ন্যায় বড় বড় জলাশয় তৈরি করে রাখত। বর্ষা মৌসুমে সেখানে পানি জমা হত। সারা বছর সে পানি সেচ করে কৃষি কাজ করত। তখনকার দিনে আল্লাহ তা’য়ালা অল্প দিনে ক্ষেত খামারে বহুগুণ ফসল দান করতেন। ক্ষেতে গমবীজ বপন করলে পনের দিনের মধ্যে গম পেকে যেত। আঙুর, বেদানা, আনার, আপেল, ইত্যাদি জাতের ফলের গাছ রোপণ করার দুইতিন মাস পরেই পাকা ফল পাওয়া যেত। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই সচ্ছল। কোন অভাব অভিযোগ তাদের ছিল না। শারীরিক অবস্থা ছিল খুবই ভাল। রোগব্যাধি আদৌ ছিল না বললেই চলে।

কওমে আদ যখন নবীর দাওয়াত অগ্রাহ্য করল তখন নবী তাদের জন্য বদদোয়া করলেন। আল্লাহ তা’য়ালা নবীর বদদোয়া কবুল করে একাধারে তিন বছর যাবত বৃষ্টি বন্ধ করে দিলেন। এতে তাদের তৈরি করা সমস্ত ঝিল, নদী, শুকিয়ে গেল, ফলে ফসল উৎপাদন বন্ধ হল। তখন জাতির উপর নেমে আসল ভীষণ দুর্ভিক্ষ। অনাহারে, অর্ধাহারে মানুষ দিন কাটাতে লাগল। বড় বড় পালোয়ানদের শরীরের শক্তি হ্রাস পেল। রাস্তাঘাটে মানুষের লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেল। বৃদ্ধা ও শিশুরা অধিক হারে মৃত্যু বরণ করতে লাগল। সারা দেশময় ভীষণ হাহাকার আরম্ভ হয়ে গেল। মানুষ গাছের পাতা ও অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে জীবন ধারণের চেষ্টা আরম্ভ করল।

আদ জাতির মধ্যে সত্তরটি গোত্র ছিল। এ সত্তরটি গোত্রের মোট লোকসংখ্যা ছিল লক্ষাধিক। তাদের মধ্য থেকে মাত্র সত্তর জন মানুষ নবীর দাওয়াত কবুল করে মেহমান হয়েছিল। এ সত্তর ব্যক্তি একদিন নবীর নিকট আরজ করে বলল, হে আল্লাহর নবী! দেশব্যাপী যেভাবে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া নেমে আসছে তাতে আমরা ও আমাদের আপনজনেরা কেউ রেহাই পাব বলে মনে হয় না। অতএব আপনি দোয়া করুন, আল্লাহ তা’য়ালা যেন এবারের জন্য এ গজব সত্বর উঠিয়ে নেন। আমরা জাতিকে হেদায়েতের পথে আনার জন্য আর একবার আপ্রাণ চেষ্টা করে দেখব। নবী উম্মতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন। আল্লাহ তা’য়ালা নবীর দোয়া কবুল করে বৃষ্টি দিয়ে পুনরায় ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করলেন। যাতে করে দেশের সকল মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ত্যাগ করে সুখে স্বাচ্ছন্দে জীবন-যাপন করতে আরম্ভ করে। নবী তাদের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পেশ করলে তারা পূর্বের ন্যায় নবীর প্রতি দুর্ব্যবহার করে এবং পরিষ্কার ভাবে বলে দেয় যে, তারা কোন দিনই তার দাওয়াত গ্রহন করবে না।

নবী বার বার তাদের নিকট দাওয়াত পেশ করেন এবং আল্লাহর আজাবের ভীতি প্রদর্শন করেন। কিন্তু তারা কোন ক্রমে নবীর প্রতি ঈমান আনল না। বরং কওমে আদের কতিপয় লোক নবীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল। তারা কথাবার্তা ও আলাপ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য অনেকটা প্রকাশ করল। নবী তাদের আচার আচারন দেখে আল্লাহর দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন।

আল্লাহ তা’য়ালার তরফ থেকে নবীকে জানিয়ে দেয়া হল, হে নবী! আপনি আপনার সত্তর জন উম্মতকে নিয়ে শহর থেকে বেরিয়ে যান এবং পাহাড়ের এক গুহায় গিয়ে আশ্রয় নিন। আমি অতি শীঘ্রই কওমে আদের উপর ঝড় ও বন্যার আজাব প্রেরণ করছি। নবী কওমের নিকট একবার জানিয়ে দিলেন, কওমের লোকেরা নবীর কথায় আস্থাবান হল না। তারা বলল, হে হুদ (আঃ)! তোমার আল্লাহ ও ঝড় বন্যার আজাব পাঠিয়ে আমাদেরকে দুর্বল করতে পারবে না। আমরা সে কৌশল ঠিক করে রেখেছি। এখন তুমি যদি আমাদের আজাব থেকে রক্ষা পেতে চাও তাহলে নবুয়তীর দাবী ত্যাগ করে নির্বিঘ্নে আমাদের মাঝে বসবাস কর। না হয় অতি সত্তর শহর ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাও। আগামী দিন যেন তোমাদেরকে আমরা এ শহরে আর না দেখি।

নবী আল্লাহ তা’য়ালার নির্দেশ অনুসারে তার উম্মতগণকে নিয়ে শহর ত্যাগ করলেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তিনি পার্বত্য এলাকায় গিয়ে পৌঁছেন। সেখানে তিনি চতুর্দিকে দেখাশুনা করে সর্বশেষে এক গুহায় ঢুকে আশ্রয় নিলেন। নবীর উপর অত্যাচার আল্লাহ কখনই সহ্য করেন না। তাই তিনি কওমে আদের কার্যকালাপের জন্য তাদের উপর গজব চাপিয়ে দিলেন। আল্লাহ তা’য়ালা ফেরেস্তাদিগকে হুকুম দিলেন, কিয়ামতের দিন সিঙ্গা ফুঁকে সৃষ্ট ঝড়ের সামান্য নমুনা কওমের উপর ছেড়ে দাও। ফেরেস্তাগন আল্লাহ তা’য়ালার এ হুকুম পেয়ে সেজদায় পড়ে কান্না কাটি আরম্ভ করলেন এবং বিনয়ের সঙ্গে বললেন, হে পরোয়ারদেগার! আপনি যতটুকু বাতাস প্রবাহের আদেশ দিয়েছেন তাতে পৃথিবীতে মুহূর্তের মধ্যে কয়েক লক্ষ বার প্রলয় ঘটে যাবে। কারণ এখন পৃথিবী অত্যন্ত ছোট। কিয়ামতের দিন পৃথিবীকে অনেক বড় করা হবে। তখন সিঙ্গা সুরের প্রবল বাতাস সহ্য করার মত যোগ্যতা প্রদান করা হবে পৃথিবীকে। কিন্তু আজকের পৃথিবী উহার লক্ষ ভাগের এক ভাগ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না। অতএব আপনি দয়া করে এ সংকট আসান করে দিন। ফেরেস্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’য়ালা একটি গরুর নিশ্বাসের বরাবর বাতাস প্রবাহের আদেশ দিলেন। তখন সমস্ত আম্বিয়াদের রুহ একত্রিত হয়ে আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে আরজ করে বললেন, হে রহমান রহিম! আপনি যতটুকু বাতাস প্রবাহের আদেশ দিয়েছেন তাতে সমগ্র পৃথিবী একটি জড়পিণ্ডে পরিণত হয়ে যাবে। সেখানে কোন আলো-বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদ নদী কিছুই থাকবে না। সম্পূর্ণ পৃথিবীটা শক্ত একটি পাথরে রুপ নিবে। সেখানে আর কোন দিন কোন প্রাণী বেঁচে থাকতে পারবে না। অতএব আপনি এ আজাবের আদেশ শিথিল করে দিন। আম্বিয়াদের দোয়া কবুল করে আল্লাহ তা’য়ালা আদেশ দিলেন সুচাগ্র পরিমাণ বাতাস প্রবাহ করে দেয়া হোক।

ফেরেস্তাগন আল্লাহ তা’য়ালার শেষোক্ত আদেশ কার্যকারী করার লক্ষ্যে সাতদিন পূর্বে আকাশে লাল, কাল, হলুদ রঙের মেঘের সমাবেশ করলেন। প্রবাহিত নদ-নদীর পানি স্থির করে দিলেন। চলমান সাধারণ বাতাসের গতি রুদ্ধ করলেন। এ অবস্থা দেখে কওমে আদের লোকেরা বিশ্বাস করল যে আল্লাহর আজাব অতি সন্নিকটে। তখন তারা স্ত্রী, পুত্র পরিজন নিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিল। যখন আর সময় অতিবাহিত হল তখন তারা সারা পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখতে পেল। কওমে আদ এ অবস্থা দেখে কিছুটা ভীত হল এবং তারা পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে নিজ স্ত্রী-পুত্রদেরকে মাঝখানে রেখে চতুর্দিকে যুবকেরা বেরিকেট সৃষ্টি করে দাঁড়াল। তারপর পা দিয়ে পাথরের উপর বার বার আঘাত করে করে হাঁটু পর্যন্ত গেড়ে দাঁড়াল যাতে কোন বাতাসে যেন তাদেরকে স্থানচ্যূত করতে না পারে। নির্দিষ্ট দিনে আল্লাহর আজাব জমিনে পৌঁছল। প্রবল ঝড় আরম্ভ হল। গাছ পালা, ঘর-বাড়ি প্রথমেই নিঃশেষ হয়ে গেল। তার পড়ে উঁচু উঁচু পাহাড় গুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে আকাশে উড়তে আরম্ভ করল। তাতে সমস্ত গুহার আবরন ও ছাদ ধ্বংস হয়ে গেল। ফলে বাতাস মানুষগুলোকে আকাশে উড়িয়ে নিয়ে গেল এবং সেখানে এক জনের সাথে অন্য জনের প্রবল আঘাত দিয়ে ধ্বংস করে দিল। তিন দিন পর্যন্ত মানুষ, গাছ ও পাহাড় শুধু বাতাসের উপর ভেসে ভেসে একে অপরকে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করেছিল। তিন দিন পরে ঝড় থেমে গেল। তখন আকাশ থেকে মানুষের লাশ, গাছ ও পাহাড়ের ভগ্নাংশ মাটিতে পতিত হল। মানুষের লাশগুলো দেখতে উপড়ানো শিকড়যুক্ত খেজুর গাছের ন্যায় এলোমেলোভাবে যেখানে সেখানে পড়ে ছিল। পবিত্র কোরআনে দৃশটি এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বাতাস প্রবাহে নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহীদের দল প্রায় সবই ধ্বংস হয়ে গেল। যারা নবীর উপর কিছুটা আস্থাশীল ছিল তারা অধিকাংশই রক্ষা পেল। কথিত আছে একদল ঈমানদার ব্যক্তি ঐ সময় উক্ত এলাকায় এমনভাবে নিরাপদে ছিলেন তারা কিছুই জানতে পারেনি। তাদের কাপড়ের আঁচল পর্যন্ত বাতাসে উড়ে নি। তিন দিন পরে যখন নবী কওমের নিকট ফিরে আসলেন তখন জীবিত উম্মতেরা সারা দেশের পরিস্থিতি ও দৃশ্য দেখে অবাক হল। তারা আর কাল বিলম্ব না করে নবীর নিকট দ্বীনের পরিপূর্ণ ছবক গ্রহন করলেন। এ ছবক যারা গ্রহন করেছিল তারা খাটি ঈমানদার হিসেবে পৃথিবীর বুকে ইসলামী রাষ্ট্র পর্যন্ত কায়েম করতে সক্ষম হয়েছিল।

হযরত হুদ (আঃ)-এর ইন্তেকালের পরে একশত বছর পর্যন্ত এ ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম ছিল। হযরত হুদ (আঃ) চারশত বছর জীবিত থেকে কওমকে হেদায়েত করেছেন। হযরত হুদ (আঃ)-এর ইন্তেকালের পরে কয়েক লক্ষ মানুষ তার জানাজা নামায আদায় করে পরম ভক্তিসহকারে তার দাফন কার্য সম্পন্ন করেন। হযরত হুদ (আঃ) নবুয়তীর দায়িত্ব পালনে যতখানি সফলতা লাভ করেছিলেন তা নজির বিহীন। বিনা যুদ্ধে ও বিনা রক্তপাতে এতখানি সফলতা অর্জন করা অন্য কোন নবীর জীবনে দেখা যায় নি।

ধৈর্যের মূর্তপ্রতীক ছিলেন আইয়ুব (আ.)। বছরের পর বছর শারীরিক ও আর্থিক কষ্টে ভুগেও মহান আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ কৃতজ্ঞ ছিলেন...
28/03/2024

ধৈর্যের মূর্তপ্রতীক ছিলেন আইয়ুব (আ.)। বছরের পর বছর শারীরিক ও আর্থিক কষ্টে ভুগেও মহান আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ কৃতজ্ঞ ছিলেন তিনি। পবিত্র কোরআনে চারটি সুরার আটটি আয়াতে আইয়ুব (আ.)-এর কথা এসেছে। যথা- সুরা : নিসা, আয়াত : ১৬৩, সুরা : আনআম, আয়াত : ৮৪, সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮৩-৮৪ এবং সুরা : সাদ, আয়াত : ৪১-৪৪।

কোরআন থেকে শুধু এতটুকু জানা যায় যে তিনি কোনো দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে সবর করে যান এবং অবশেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করে রোগ থেকে মুক্তি পান। এই অসুস্থতার দিনগুলোতে তাঁর সন্তান-সন্ততি, বন্ধু-বান্ধব সবাই উধাও হয়ে গিয়েছিল। এরপর আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থতা দান করেন। মহান আল্লাহ তাঁকে সন্তান ও সম্পদ দিয়েছিলেন, অসুস্থতার পাশাপাশি সেগুলোও ছিনিয়ে নেন।

কিন্তু তাঁর স্ত্রী ছিলেন অত্যন্ত স্বামীভক্ত। তিনি সারাক্ষণ তাঁর সেবা করতেন। এমনকি একপর্যায়ে পরিবারের খরচ মেটাতে তিনি অন্য মানুষের বাসায় কাজ করতেন। অন্যদিকে ধীরে ধীরে রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট বাড়তে থাকে আইয়ুব (আ.)-এর।

বিপদ যত বাড়ে, তিনি তত বেশি আল্লাহকে ডাকতে থাকেন, যেভাবে শীত যত বাড়ে মানুষ তত বেশি শীতবস্ত্র দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে রাখে। আল্লাহর জিকির দিয়ে তিনি তাঁর দেহ ও অন্তর তরতাজা রাখেন।
বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর পরীক্ষা হাসিমুখে বরণ করে তিনি ‘সবরকারী’ ও ‘চমৎকার বান্দা’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর ধৈর্যের পরম পরাকাষ্ঠা দেখে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি (আল্লাহ) তাকে ধৈর্যশীল হিসেবে পেয়েছি।’ (সুরা : সাদ, আয়াত : ৪৪)

বছরের পর বছর তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে সন্তানহীন, সঙ্গীহীন ও সম্পদহীন হয়ে কোনো এক প্রান্তরে একান্তে অবস্থান করেন।

আর মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকেন। তাঁর দোয়ার ভাষ্য কোরআনে এভাবে এসেছে : ‘আর স্মরণ করো আইয়ুবকে, যখন সে তার রবকে ডেকেছিল, (বলেছিল) আমি তো দুঃখ-কষ্টে পড়েছি (দুঃখ-কষ্ট আমাকে স্পর্শ করেছে), আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু!’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮৩)
দোয়ার ধরন অত্যন্ত নমনীয় ও মার্জিত; যথাযথ আদব ও শিষ্টাচারপূর্ণ। নেই অভিযোগ, নেই অনুযোগ। ‘কষ্ট আমাকে স্পর্শ করেছে’—কঠিন বিপদেও মধুময় আবেদন। আবেদনের ভেতর ভাব আছে, মর্মস্পর্শী আবেগ আছে, আছে কষ্টের কথাও। তবু কোনো আবদার নেই, চাওয়া-পাওয়া নেই। শুধু এ কথা বলে থেমে যাচ্ছেন : ‘আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’

আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো নালিশ নেই, কোনো জিনিসের দাবি নেই। তাতেই খুশি হয়ে মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। তাঁর দোয়া কবুল করে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম। আর তার যত দুঃখ-কষ্ট ছিল তা দূর করে দিলাম এবং তার পরিবার-পরিজন তাকে দিয়ে দিলাম। তাদের সঙ্গে তাদের মতো আরো দিলাম আমার পক্ষ থেকে রহমত এবং ইবাদতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮৪)

কিভাবে দূর হলো অসুখ—সে বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘(আমি তাকে বললাম,) তুমি তোমার পা দিয়ে (ভূমিতে) আঘাত করো। (ফলে পানি নির্গত হলো এবং দেখা গেল যে) এটি গোসলের জন্য ঠাণ্ডা পানি ও (পানের জন্য উত্তম) পানীয়।’ (সুরা : সাদ, আয়াত : ৪২)

এটি ছিল অলৌকিক ঝরনা। ইতিপূর্বে শিশু ইসমাঈল (আ.)-এর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে। তাঁর পদাঘাতে জমজমকূপ তৈরি হয়েছিল। এটা নবীদের মুজিজা। এটা নবীদের বরকত। নবী-রাসুলদের পদতলে মহান আল্লাহ বরকত ঢেলে দেন। সেই বরকত থেকে সিক্ত হয় প্রকৃতি ও পৃথিবী। এই বরকতের পানি দিয়ে আইয়ুব (আ.) গোসল করেন। তিনি সুস্থ হয়ে যান। একে একে সম্পদ ফিরে পান এবং সন্তান লাভ করেন।

আইয়ুব আলাইহিস সালাম তাঁর প্রাকৃতিক কাজ সারতে বের হতেন। কাজ সারার পর তাঁর স্ত্রী তার হাত ধরে নিয়ে আসতেন। একদিন তিনি প্রাকৃতিক কাজ সারার পর স্ত্রীর কাছে ফিরতে দেরি করছিলেন। আগমনে দেরি দেখে স্ত্রী এগিয়ে যান। ততক্ষণে অলৌকিক ঝরনায় গোসল করে আইয়ুব (আ.) সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুন্দর হয়ে যান। তাঁর স্ত্রী তাকে দেখে বলেন, হে মানুষ, আল্লাহ আপনার ওপর বরকত দিন, আপনি কি ওই অসুস্থ আল্লাহর নবীকে দেখেছেন? আল্লাহর শপথ, যখন তিনি সুস্থ ছিলেন তখন তিনি দেখতে আপনার মতো ছিলেন। তখন আইয়ুব (আ.) বলেন, আমিই সেই ব্যক্তি। এভাবে তিনি সুস্থ হন।

আইয়ুব (আ.)-এর দুটি উঠান ছিল। একটি গম শুকানোর, অন্যটি যব শুকানোর। মহান আল্লাহ সে দুটির ওপর দুই খণ্ড মেঘ পাঠালেন। এক খণ্ড মেঘ সে গমের উঠানে এমনভাবে স্বর্ণ ফেলল যে সেটি পূর্ণ হয়ে গেল। অন্য মেঘ খণ্ডটি সেটির ওপর এমনভাবে রৌপ্য বর্ষণ করল যে সেটাও পূর্ণ হয়ে গেল। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ২৮৯৮, মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস : ৪১১৫)

এভাবে সোনা-রুপায় দানায় তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে যান। হাদিসের বর্ণনা থেকে আরো জানা যায়, আল্লাহর পক্ষ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে স্বর্ণের পঙ্গপাল আইয়ুব (আ.)-এর কাছে আসে। তিনি সেগুলো সংগ্রহ করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, একবার আইয়ুব (আ.) কাপড় খুলে (অর্থাৎ বাথরুম ছাড়াই খোলা স্থানে) গোসল করছিলেন, এ অবস্থায় একঝাঁক স্বর্ণের পঙ্গপাল তাঁর ওপর পড়তে শুরু করে, তিনি সেগুলো মুঠি মুঠি তার কাপড়ে জমা করছিলেন। তখন মহান আল্লাহ তাঁকে ডাক দিয়ে বলেন, হে আইয়ুব, আমি কি তোমাকে যা দেখছ তা থেকেও বেশি দিয়ে ধনী বানাইনি? জবাবে আইয়ুব (আ.) বলেন, ‘ইয়া রাব্বি, লা গিনা বি আন বারাকাতিকা (অর্থ : হে রব, তবে আপনার দেওয়া বরকত থেকে আমি কখনো মুখাপেক্ষীহীন হবো না।’ (বুখারি, হাদিস : ৭৪৯৩)

পুরো ঘটনা থেকে জানা যায়, বড় পরীক্ষায় আছে বড় পুরস্কার। সম্পদ ও সন্তান হারিয়ে কঠিন অসুস্থ হয়েও জিকির, ইবাদত ও আমল থেকে বিচ্যুত হননি আইয়ুব (আ.)। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হননি। মার্জিত ভাষায় অভিযোগহীন, বিরামহীন তিনি দোয়া করেন। মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। সবরের ফল দুনিয়ায় দিয়ে দেন। সুস্থতা, সম্পদ ও সন্তান—সব কিছু ফিরিয়ে দেন। মুমিনদের জন্য এই ঘটনায় আছে বিশেষ বার্তা।

হজরত সালেহ (আ.)-এর অলৌকিক উট।হজরত সালেহ (আ.) ছিলেন হজরত নুহ (আ.)-এর ছেলে সামের বংশধর। তার সম্প্রদায়ের নাম ছিল সামুদ। সাম...
28/03/2024

হজরত সালেহ (আ.)-এর অলৌকিক উট।

হজরত সালেহ (আ.) ছিলেন হজরত নুহ (আ.)-এর ছেলে সামের বংশধর। তার সম্প্রদায়ের নাম ছিল সামুদ। সামের অধস্তন বংশধরে একজন প্রতাপশালী লোক ছিল সামুদ। সেই বীরপুরুষের নামেই এই গোত্রের নামকরণ হয়। এই গোত্রের বসবাস ছিল সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে হিজর নামক স্থানে; সেই স্থানটি এখন ‘মাদায়েনে সালেহ’ নামে পরিচিত। সামুদ ছিল শক্তিশালী ও বীরের জাতি। প্রস্তর খোদাই ও স্থাপত্যবিদ্যায় তাদের বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। পর্বত খোদাই করে তারা বাসস্থান নির্মাণ করত। মাদায়েনে সালেহ অঞ্চলে এখনও সেই আমলের স্থাপত্যের নিদর্শনাবলি ও সামুদি শিলালিপি বিদ্যমান রয়েছে।

সামুদ জাতিও প্রথমে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে এক সময় আল্লাহ ও পরকালকে ভুলে যায় এবং মূর্তিপূজা শুরু করে এবং শিরকে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তায়ালা স্বীয় চিরন্তন বিধান অনুযায়ী তাদের হেদায়েতের জন্য হজরত সালেহ (আ.)-কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। হজরত সালেহ (আ.) ছিলেন সম্ভ্রান্ত, বিচক্ষণ, প্রজ্ঞাময়, জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তি। যতদিন তিনি অহিপ্রাপ্ত হননি এবং মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করেননি গোত্রের লোকজন ততদিন তাকে সমীহ ও মান্য করত। নবুয়ত লাভের পর তিনি তাদেরকে মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করে এক আল্লাহর ইবাদত করতে আহ্বান করেন। তিনি বললেন, ‘হে আমার জাতি! আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো উপাস্য নেই। তিনিই জমিন হতে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে তোমাদের বসতি দান করেছেন। অতএব তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চলো। আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন। কবুল করে থাকেন, সন্দেহ নেই।’ (সুরা হুদ : ৬১)

সালেহ (আ.) ছিলেন বিশুদ্ধভাষী এবং উচ্চকণ্ঠের বাগ্মী। বড় বড় সমাবেশে তিনি দাওয়াতের কাজ করতেন। যুক্তির নিরিখে দরদি কণ্ঠে আল্লাহর বাণীসমূহ শোনাতেন। মূর্তিপূজার কঠিন পরিণতির কথা বলতেন। আখেরাতের কথা শোনাতেন। জান্নাতের নেয়ামতরাজির কথা বলে তাদের উদ্বুদ্ধ করতেন। জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন করতেন। কিন্তু গোত্রের লোকজন যেই মাত্র তার মুখে মূর্তিপূজার অসারতার বাণী শুনল, সঙ্গে সঙ্গে হজরত সালেহের প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্য অস্বীকার করে বলল, ‘হে সালেহ! ইতঃপূর্বে তোমার কাছে আমাদের বড় আশা ছিল। আমাদের বাপ-দাদা যা পূজা করত তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে নিষেধ করো? কিন্তু যার প্রতি তুমি আমাদের আহ্বান করছ আমাদের তাতে এমন সন্দেহ রয়েছে যে, মন মোটেই সায় দিচ্ছে না।’ (সুরা হুদ : ৬২)। হজরত সালেহ (আ.) তাদেরকে বিভিন্নভাবে উপমা ও দৃষ্টান্ত বলে বলে বোঝাতে থাকলেন। বললেন, দুনিয়া চিরস্থায়ী বাসস্থান নয়। এখানকার ভোগবিলাস ক্ষণিকের মাত্র। সুতরাং তোমরা পরকালের চিন্তা করো।

কিন্তু সামুদ জাতির অধিকাংশ লোক হজরত সালেহ (আ.)-কে অস্বীকার করল। তবে যুক্তিতর্কে কোনোভাবেই যখন তারা হজরত সালেহ (আ.)-কে সত্যের দাওয়াত থেকে নিবৃত করতে পারল না তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল- তার কাছে অলৌকিক কোনো দাবি পেশ কববে। এক দিন তারা সবাই একত্রিত হয়ে হজরত সালেহকে বলল, আপনি যদি সত্যি আল্লাহর নবী হন তবে আমাদেরকে কাতেবা পাহাড়ের ভেতর থেকে দশ মাসের গর্ভবতী সবল ও স্বাস্থ্যবতী উষ্ট্রী বের করে দেখান। হজরত সালেহ (আ.) তাদের থেকে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার নিলেন, যদি আমি তোমাদের দাবি পূরণ করতে পারি তা হলে তোমরা আমার প্রতি ও আমার দাওয়াতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে কি না? সবাই এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করলেন। সেই পাহাড় ফেটে ভেতর থেকে তাদের দাবির অনুরূপ একটি গর্ভবতী উষ্ট্রী বের হয়ে এলো।

এই অলৌকিক উষ্ট্রী দেখে উপস্থিত অনেকেই হজরত সালেহ (আ.)-এর ওপর ঈমান নিয়ে আসে। কিন্তু এমন প্রকাশ্য মুজেজা প্রত্যক্ষ করেও কিছু হতভাগা ঈমান আনল না। হজরত সালেহ (আ.) তাদের সতর্ক করে বললেন, ‘আল্লাহর এই উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শন। অতএব তাকে আল্লাহর জমিনে বিচরণ করতে দাও এবং তাকে মন্দভাবে স্পর্শও করো না। নতুবা অতিসত্বর তোমাদেরকে আজাব পাকড়াও করবে।’ (সুরা হুদ : ৬৪)। কিন্তু গোত্রের কিছু দুষ্কৃতকারী লোক এই অলৌকিক প্রাণীটি হত্যা করে ফেলে। হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হলো না, হজরত সালেহ (আ.)-এর কাছে এসে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বলল, তুমি সত্যিকারের রাসুল হলে তোমার প্রতিশ্রুত আজাব আনো দেখি! আমরা তো উষ্ট্রীটি হত্যা করেছি। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর শাস্তি নেমে আসে।

আল্লাহ তায়ালা সেই অবস্থার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে হত্যা করল এবং স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল। তারা বলল, হে সালেহ! নিয়ে এসো যা দ্বারা আমাদের ভয় দেখাতে, তুমি যদি রাসুল হয়ে থাকো। অতঃপর পাকড়াও করল তাদেরকে ভূমিকম্প। ফলে সকালবেলায় নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।’ (সুরা আরাফ : ৭৭-৭৮)। অন্য আয়াতে আছে, তাদের ওপর প্রচণ্ড ও বিকট শব্দবোমা নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। সামুদ সম্প্রদায়ের ওপর একই সঙ্গে ভূমিকম্প ও বিকট গর্জন এসেছিল এবং তারা এই দুটি শাস্তিতে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা বহু নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাদের মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষদের হেদায়েত ও পথপ্রদর্শন করেছেন। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণকে অস্বীকার করেছিল তাদের ভয়াবহ ও রোমহর্ষক পরিণতি হয়েছে। সেসব পরিণতির কিয়দংশ পরবর্তীদের শিক্ষার জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ রেখে দিয়েছেন। যেমন- ডেড সি, ফেরাউনের লাশ এবং হজরত সালেহ (আ.)-এর সম্প্রদায়ের বিধ্বস্ত বাড়িঘর। মানুষ যেন এসব নিদর্শন দেখে দাম্ভিকতা পরিত্যাগ করে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাঁর প্রতি সেজদাবনত হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের শিক্ষা অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

কদা হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) এর সাথে ইবলিশের দেখা হয় । ইবলিশের হস্তস্হিত একটি বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহর নবী জিজ্ঞাসা করলে...
28/03/2024

কদা হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) এর সাথে ইবলিশের দেখা হয় । ইবলিশের হস্তস্হিত একটি বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহর নবী জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি তোমার হাতে ? ইবলিশ বললো, - এটা শাহওয়াত বা প্রবৃত্তির তাড়না । এটা দিয়ে আমি বনী আদমকে শিকার করে থাকি । হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, আমাকে শিকার করার জন্য কি তোমার কাছে কিছু আছে ? ইবলিশ বললো , - না; তবে এক রাত্রিতে আপনি পরিতৃপ্ত হয়ে ভোজন করেছিলেন, সেই সুযোগে আমি আপনাকে অবসাদ গ্রস্ত করে নামায হতে উদাসীন করে দিয়েছিলাম । হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) বললেন, 'আজ থেকে আমি আর কোনদিন তৃপ্ত হয়ে আহার করবো না ।' ইবলিশ বললো,- তাহলে আমিও আজ থেকে আর কোনদিন বনী আদমকে নসীহত করবো না ।

হযরত সুলাইমান (আঃ) বলেছেন, 'যে ব্যাক্তি স্বীয় প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে, সে দ্বিগ্বিজয়ী সেনাপতির চাইতেও বড় বাহাদুর ।'

মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ' জঠর জ্বালার মাধ্যমে তুমি তোমার অন্তকরণকে জোর্তিময় করে তোল, ক্ষুধা ও তৃষ্ঞার অস্ত্রের মাধ্যমে তুমি তোমার রিপুর বিরুদ্ধে জিহাদে প্রবৃত্ত হও । ক্ষুধার সাহায্যে তুমি সদা বেহেশ্তের দরজায় কষাগাত করতে থাক । কেননা, এতে তোমার আমলনামায় জিহাদের সওয়াব লিপিবদ্ধ হবে । '

হযরত লোকমান হাকীম (রহঃ) স্বীয় পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, -'অধিক মাত্রায় নিদ্রা ও ভোজন থেকে নিজকে বিরত রাখ । কেননা, অধিক নিদ্রাযাপনকারী ও অধিক ভোজনকারী কিয়ামতের দিন আমল ও ইবাদত শূন্য হবে ।'

সুত্রঃ মুকাশাফাতুল ক্বুলুব । হযরত ইমাম গাজ্জ্বালী (রহঃ

Address

Nizwá

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when 3D Design, 3D Sign Board & Digital Printing posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share