Sumantra Roy

Sumantra Roy হুজুগে নয়, যুক্তিতে বিশ্বাসী। সনাতন ভাবনা ও বাংলার রাজনীতির নির্মোহ বিশ্লেষক।

হুজুগে নয়, যুক্তিতে বিশ্বাসী। সনাতন ভাবনা ও বাংলার রাজনীতির নির্মোহ বিশ্লেষক। এই পেজটি কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র নয়। এখানে সমসাময়িক ঘটনা, ধর্ম এবং রাজনীতি নিয়ে নিরপেক্ষ ও যৌক্তিক আলোচনা করা হয়। সুস্থ বিতর্ক ও গঠনমূলক আলোচনার জন্য এই আঙিনা।

ভুবন জোড়া ফাঁদ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে পেট্রো-ডলারের আধিপত্য।পটভূমি: ২য় বিশ্বযুদ্ধ ও ব্রিটেন:দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে বি...
01/08/2026

ভুবন জোড়া ফাঁদ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে পেট্রো-ডলারের আধিপত্য।

পটভূমি: ২য় বিশ্বযুদ্ধ ও ব্রিটেন:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে বিশ্ব রাজনীতির একচ্ছত্র অধিপতি ছিল গ্রেট ব্রিটেন। লন্ডন ছিল বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের আগ্রাসনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি কেঁপে ওঠে। লন্ডন ধ্বংসের মুখে পড়লে প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আমেরিকার সাহায্য চাইতে বাধ্য হন।

আটলান্টিক চার্টার ও কঠিন শর্ত:
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট সাহায্যের বিনিময়ে চার্চিলকে কঠিন শর্ত দেন: যুদ্ধের পর ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোকে স্বাধীনতা দিতে হবে। আটলান্টিক মহাসাগরে ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ রণতরীতে বসে চার্চিল এই শর্ত মেনে নেন। স্বাক্ষরিত হয় ‘আটলান্টিক চার্টার’, যা ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পতনের শুরু এবং জাতিসংঘের ভিত্তি।

ব্রেটন উডস: নতুন মহাজনী কারবার:
১৯৪৪ সালে আমেরিকার ব্রেটন উডসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ (IMF) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশগুলোকে ঋণ দেওয়ার নামে তাদের ওপর অলঙ্ঘনীয় শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়—সরকার ছোট করা, বেসরকারীকরণ এবং বাজার উন্মুক্ত করা।

ঋণের ফাঁদ ও স্থানীয় শিল্প ধ্বংস:
দাতা সংস্থাগুলোর শর্ত মেনে গরীব দেশগুলোতে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির প্রবেশ ঘটে। এর ফলে স্থানীয় শিল্প (যেমন বাংলাদেশের পাটশিল্প) ধ্বংস হয়ে যায় এবং দেশগুলো ঋণের জালে আটকা পড়ে।

পেট্রো-ডলারের জন্ম (১৯৭৩):
১৯৭১ সালে ডলারের সাথে স্বর্ণের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে আমেরিকা সৌদি আরবের সাথে চুক্তি করে যে, তেল একমাত্র ডলারে বিক্রি হবে। এর নাম ‘পেট্রো-ডলার’। এর ফলে সারা বিশ্ব তেল কেনার জন্য ডলার কিনতে বাধ্য হয়, যা আমেরিকার অর্থনীতিকে অজেয় করে তোলে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট: মার্কিন আধিপত্যে ফাটল:
সম্প্রতি সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ বছরের পেট্রো-ডলার চুক্তির অনানুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হয়েছে। সৌদি আরব এখন ডলারের পাশাপাশি অন্য মুদ্রায় (ইউয়ান, ইউরো) তেল বিক্রি করতে আগ্রহী। এটি ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য বড় হুমকি।

আমেরিকার নতুন লক্ষ্য: ভেনেজুয়েলা:
পেট্রো-ডলার বাঁচাতে আমেরিকা এখন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুদের দিকে নজর দিয়েছে। তারা ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তাদের তেল বাজারে আনতে চাইছে।

বিশ্লেষণ: যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা কি কাজ করবে?
না, সফল হওয়া কঠিন।
কারণ: ১) ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিকভাবে রাশিয়া-চীনের মিত্র। ২) ব্রিকস (BRICS) জোট ডলার-বিহীন বাণিজ্যের নতুন পথ দেখাচ্ছে। ৩) বিশ্বের ভূ-রাজনীতি এখন আর এককেন্দ্রিক (Unipolar) নয়, বরং বহুকেন্দ্রিক।

দীপু চন্দ্র দাসের আত্মার শান্তি কামনায়: একটি আর্তনাদ 🕯️১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ৩,৯০০ ভারতীয় সৈন্য রক্ত দিয়ে...
12/23/2025

দীপু চন্দ্র দাসের আত্মার শান্তি কামনায়: একটি আর্তনাদ 🕯️

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ৩,৯০০ ভারতীয় সৈন্য রক্ত দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র। কিন্তু আজ সেই মাটিই রঞ্জিত হচ্ছে নিরীহ সংখ্যালঘুদের রক্তে।

ভয়াবহ বাস্তবতা:
* বর্বরতা: ময়মনসিংহে তরুণ দীপু চন্দ্র দাসকে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পৈশাচিকতা মানবতাকে লজ্জিত করে।
* পরিসংখ্যান: গত এক বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর ২,৪৪২টি সহিংসতা এবং ১৫০টিরও বেশি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে (উৎস: হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানঐক্য পরিষদ)।
* অস্তিত্বের সংকট: ১৯৫১ সালে যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২%, আজ তা ৮%-এর নিচে। এটি কেবল অভিবাসন নয়, এটি পরিকল্পিত নিপীড়ন।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের কারাবাস থেকে প্রদীপ ভৌমিকের লিঞ্চিং এর এই ধারা স্তব্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমরা আমাদের শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দিতে পারি না।

আমাদের দাবি:
✅ বাংলাদেশ সরকারকে কেবল নিন্দা নয়, দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
✅ প্রতিটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
✅ বিশ্ব সম্প্রদায় ও UNHCR, the UN Refugee Agency কে এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হবে।

শান্তির জন্য রক্ত দেওয়া হয়েছিল, নিপীড়নের জন্য নয়। আমরা আর নীরব থাকব না। ✊🚩

12/23/2025

কলম যখন কথা বলে, হট্টগোল তখন থামতে হয়

নমস্কার, আমি সুমন্ত্র রায়।

চারদিকে আজ অযথা চিৎকারের ভিড়। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখা যায় অন্ধ আবেগ আর কুরুচিকর তর্কের ঝড়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, চিৎকার করে নিজেকে জাহির করা যায়, কিন্তু সত্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন—শান্ত মস্তিষ্ক আর শানিত যুক্তি।

একজন বাঙালি এবং সনাতন ধর্মের অনুসারী হিসেবে আমি আমার সমাজ ও রাজনীতিকে যেভাবে দেখি, সেটাই এখানে তুলে ধরব। আমার উদ্দেশ্য কাউকে আক্রমণ করা নয়, বরং ঘটনার পেছনের কারণ খোঁজা।

আমি কোনো দলের নই, আমি যুক্তির। আমি কোনো ব্যক্তির নই, আমি সত্যের।

এই যাত্রায় আপনাদের সহনশীলতা ও সুচিন্তিত মতামত একান্ত কাম্য। সাথে থাকবেন।

Address

New York, NY
700125

Telephone

+15185350325

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sumantra Roy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share