18/08/2026
❤️❤️❤️জাতীয় নানা❤️❤️❤️
একজন নীরব খাদেমের স্মৃতি
কিছু মানুষ নীরবে মানুষের জন্য কাজ করে যান। তাঁদের হায়তো বড় কোনো পদবি থাকে না, কিন্তু তাঁদের দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতা অসংখ্য মানুষের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। আমাদের জাতীয় নানা ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। সবার কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় “নানা”।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের প্রাণ কেন্দ্র অবস্থিত নবাবগঞ্জ সেন্ট্রাল জামে মসজিদে প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি
মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে অবস্থিত নবাবগঞ্জ দারুল হাদিস মাদরাসায় প্রায় ৫০ বছর ধরে বোডিং সুপারের দায়িত্বে থাকলেও তিনি মাদ্রাসার সার্বিক দায়িত্বের সঙ্গেও দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও দ্বীনি পরিবেশের সেবাই।
তিনি আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল শুধু পরিচিতজনের নয়, বরং আপনজনের মতো। তাঁর স্নেহ, আন্তরিকতা ও সুন্দর ব্যবহারের কথা আজও মনে পড়ে। তাঁর কাছে গেলে মনে হতো, তিনি যেন নিজের পরিবারের একজন ছোট সদস্যের মতো করে আমাকে দেখছেন।
তাঁর একটি বিশেষ গুণ ছিল হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে অসাধারণ সচেতনতা। মাদ্রাসা, মসজিদ, ঈদগাহ ও গোরস্থানের হিসাবের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল। আয়-ব্যয়ের প্রতিটি বিষয় তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখতেন। সামান্য বিষয়ও তাঁর নজর এড়িয়ে যেত না। কারণ তিনি মনে করতেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, বরং মানুষের দেওয়া আমানত।
এই আমানতের ব্যাপারে তাঁর সতর্কতা ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। কোথা থেকে কত টাকা এসেছে, কোথায় কত ব্যয় হয়েছে, হিসাব ঠিক আছে কি না, এসব বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত যত্নবান। তাঁর এই দায়িত্বশীলতা আমাদের জন্যও একটি বড় শিক্ষা।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। দীর্ঘ জীবনের সফর শেষ করে ২০১৯ সালের চলে গেছেন পরপারের পথে।
কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘদিনের খেদমত তাঁকে আমাদের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে।
নবাবগঞ্জ সেন্ট্রাল জামে মসজিদ এর সেই আজান, নবাবগঞ্জ দারুল হাদিস মাদ্রাসার সেই পরিচিত পরিবেশ, ঈদগাহ ও গোরস্থানের নানা দায়িত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তাঁর স্মৃতিগুলো হয়তো সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে উঠবে।
প্রিয় নানা, আপনি চলে গেছেন, কিন্তু আপনার ভালোবাসা ও আমানতদারির শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে রয়ে গেছে।
হে কাবার মালিক আপনার দীর্ঘদিনের মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও গোরস্থানের খেদমতকে কবুল করুন। জাতীয় নানার সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন, কবরকে নূরে দিয়ে ভরে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসে আপনাকে স্থান দান করুন।
আমিন।