01/06/2026
কম মোহরানা যদি সবসময় ভালো হতো, তাহলে কোনো নারী সাহাবীর কোটি টাকা দেনমোহরে বিয়ে হতো না। রাসূল (ﷺ) উম্মে হাবীবা (রা.)-কে ৪০০০ দিরহাম মাহর দিয়েছিলেন, যা আজকের হিসেবে কোটি টাকার ওপরে। যে নবী উম্মাহ্'র স্বার্থে তারাবীহর জামাত পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন, তিনি যদি বেশি মাহরকে সমস্যা মনে করতেন, তাহলে কি এত বড় অঙ্ক দিতেন? এমনকি উমর (রা.) এর মতো সাহাবী নিজের বিয়েতে ৪০,০০০ দিরহাম মাহর দিয়েছিলেন, যা বর্তমানে রূপার মূল্য অনুসারে ৫.৫ থেকে ৭ কোটি টাকার সমান। [তাবাকাত ইবনে সা'দ: ৮/৩৩৮, সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা]
উমর (রা.)-এর ছেলের বিয়েতে মাহর ৪০০ দিরহাম ধরা হলে মেয়ের পক্ষ থেকে তা মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে মাহর বাড়িয়ে ৬০০ দিরহাম করা হয়। [তাবাকাতে ইবনে সা’দ: ৪/১২৪, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৩/২৩৮]
কোনো কটুকথা ছিল না, মেয়েকে মাহর কমানোর চাপ দেওয়া হয়নি, চরিত্র নিয়ে কটুবাক্য ছোড়া হয়নি, গলা উঁচিয়ে বলা হয়নি - কাবিন ব্যবসায়ী! স্বয়ং আল্লহ্ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলা যেখানে সীমা নির্ধারণ করেননি, সেখানে মানুষের কি অধিকার আছে? সম্মানজনক মাহর যদি সত্যিই সমস্যাজনক হতো, সেক্ষেত্রে সবার আগে আল্লহ্ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলা কুরআনে উল্লেখ করে দিতেন কিংবা শর্ত দিতেন, যেভাবে আল্লহ্ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলা পলিগ্যামির ক্ষেত্রে সূরা আন-নিসায় শর্তসাপেক্ষে শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তাহলে কেন মেয়েরা ভয়ে থাকেন, বলেন তো? কেন নিজেদের বানের জলে ভেসে আসা খড়কুটো ভাবেন? কেন ভাবেন, এক্সপেকটেশন না কমালে কেউ দয়া করে বিয়ে করবে না আপনাকে? আপনার অভিভাবক কি আল্লাহ্ আল-মুহাইমিন নন? ৩০ পার হলে পাত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না, এমন হুমকি শুনে ভয়ে যাকে তাকে বিয়ে করে নেন আর বিয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে কান্নাকাটি করেন! অথচ এইসব হুমকি তারাই দেয়, যারা নিজেদের আল্লহ্ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলার চেয়ে বড় ওয়ালি মনে করে! এদের নির্দ্বিধায় বয়কট করুন।
মনে রাখবেন, মুসলিম নারীর আসল অভিভাবক আল্লহ আল-মুহাইমিন। তাঁর কাছে কোনো বয়সের মেয়াদ নেই, কোনো ডেডলাইন নেই। দু'আ করবেন,
رَبِّ لَا تَذَرْنِیْ فَرْدًا وَّ اَنْتَ خَیْرُ الْوٰرِثِیْنَۚ
হে আমার রব্ব, আমাকে একা রেখো না, তুমিই সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী। [সূরা আম্বিয়া: ৮৯]
দেখুন, কোনো অলস অকর্মণ্য ছেলের বিয়ে সহজ করার দায় আপনার নয়। একারণে ছেলের আর্থিক অভাবের কারণেও বিয়ের ক্ষেত্রে রিজেক্ট করার পরামর্শ দিয়েছেন রাসূল (ﷺ)। ফাতিমা বিনতে কায়স (রা.)-এর তালাক্ব হওয়ার পর তাঁর কাছে মুয়াবিয়া (রা.) বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু রসূলুল্লহ্ (ﷺ) ফাতিমা বিনতে কায়সকে মুয়াবিয়া (রা.)-কে বিয়ে না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন এই বলে: وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لاَ مَالَ لَهُ অর্থাৎ, মুয়াবিয়া নিঃস্ব, তার কোনো সম্পদ নেই। [সহীহ মুসলিম, সুনানে আন-নাসায়ী]
এখানে মুয়াবিয়া (রা.)-কে প্রত্যাখ্যানের অন্যতম কারণ ছিল তাঁর তখনকার আর্থিক অসচ্ছলতা আর পরামর্শ দিয়েছিলেন স্বয়ং রাসূল (ﷺ)। কাজেই বিয়ে সহজ করতে হলে পুরুষদেরকে দায়িত্বশীল হতে হবে, সম্মানজনক মাহর সন্তুষ্টচিত্তে দিতে হবে, নফকা ঠিকমতো দিতে হবে, ইনসাফ করতে হবে। এর বিপরীতে শুধু মেয়েদের হক্ব কমিয়ে বিয়ে সহজ করার কথা যারা বলছে, তারা খুব সূক্ষ্মভাবে পশ্চিমা ফেমিনিস্ট এজেন্ডার সেবা করছে এবং দিনশেষে তারা ইসলামের শত্রু ছাড়া কিছু নয়। কারণ ঘরের ভেতর আর্থিক নিরাপত্তা ও সম্মান না পেলে বাইরে যাওয়া ছাড়া মেয়েগুলোর উপায় কী? এতে তো ইসলামের পরিবার কাঠামোই ভেঙে যায়! সুতরাং শুধু মেয়েদের ওপর বিয়ে সহজ করার দায় চাপিয়ে সুবিধাবাদী লোকেরা বরং সেই পারিবারিক কাঠামোর বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়ে আছে, যা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে।
কাজেই বিয়েশাদী নিয়ে ভয় পাবেন না। নিজের যত্ন নিন, ভাত কম খেয়ে প্রোটিন ইনটেক বাড়ান, ওয়ার্কআউট করুন, দু'আকে সঙ্গী করুন। যে এক আল্লহ্ তা'আলাকে ওয়ালি বানায়, তাকে মানুষের হুমকি স্পর্শ করে না।
কালেক্টেড